দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নড়াইলবাসীর স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে নড়াইল রেলস্টেশনে থামার মধ্য দিয়ে ঢাকা-বেনাপোল এবং ঢাকা-খুলনা রেলপথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু করবে। এর আগে গত ২৪ নভেম্বর এই রুটে শুরু হয় এর পরীক্ষামূলক চলাচল। ঢাকার সঙ্গে নড়াইলের সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় নড়াইলবাসী এখন উচ্ছ্বসিত। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটা উৎসবের মেজাজ লক্ষ করা যাচ্ছে।
সময়সূচি
রেলের দেওয়া সময়সূচি অনুসারে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস খুলনা থেকে ছাড়বে সকাল ৬টায়। নড়াইল রেলস্টেশনে পৌঁছবে সকাল ৭টা ১৬ মিনিটে। ট্রেনটির ঢাকায় পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট।
জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুনরায় ঢাকা থেকে রাত ৮টায় খুলনায় যাওয়ার পথে রাত ১০টা ৬ মিনিটে নড়াইল রেলস্টেশনে পৌঁছবে। খুলনায় পৌঁছবে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে।
অন্যদিকে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ছাড়বে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে নড়াইল রেলস্টেশনে পৌঁছবে। ট্রেনটির যশোরের বেনাপোল পৌঁছানোর কথা বেলা ২টা ৩০ মিনিটে।
রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুনরায় বেনাপোল থেকে ৩টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে নড়াইল রেলস্টেশনে বিকেল ৪টা ৪৬ মিনিটে পৌঁছবে। ঢাকায় পৌঁছবে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে।
ভাড়া
নড়াইল থেকে ঢাকা শোভন চেয়ার ৩৭০ টাকা। সিন্ধা (ভ্যাট ছাড়া) ৬১৫ টাকা, এসি সিট (ভ্যাট ছাড়া) ৭৪০ টাকা ও এসি বার্থ (ভ্যাট ছাড়া) ১ হাজার ১১০ টাকা।
বেনাপোল থেকে নড়াইল শোভন চেয়ার ৮৫ টাকা। সিন্ধা (ভ্যাট ছাড়া) ১৪০ টাকা, এসি সিট (ভ্যাট ছাড়া) ১৬৫ টাকা ও এসি বার্থ (ভ্যাট ছাড়া) ২৫০ টাকা।
যশোর থেকে নড়াইল শোভন চেয়ার ৫০ টাকা। সিন্ধা (ভ্যাট ছাড়া) ১০০ টাকা, এসি সিট (ভ্যাট ছাড়া) ১১০ টাকা ও এসি বার্থ (ভ্যাট ছাড়া) ১৩০ টাকা।
বর্তমানে ঢাকা থেকে খুলনার পথে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি চলাচল করছে। এর মধ্যে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া হয়ে খুলনায় যাচ্ছে। এই পথে ঢাকা-খুলনা যাতায়াতে প্রায় আট ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। অন্য দিকে চিত্রা এক্সপ্রেস বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করছে। এই ট্রেনে সময় লাগে সাড়ে ৯ ঘণ্টা। এর বাইরে বেনাপোল এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে যশোরের বেনাপোলে যায়। এতে সময় লাগে সাড়ে ৭ ঘণ্টা।
সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস
নড়াইলের ভওয়াখালী এলাকার শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি বেঁচে থাকতে নড়াইলের ওপর দিয়ে রেল চলবে আর তা দেখতে পাব। স্বাধীনতার এত বছর পর হলেও নড়াইল থেকে রেলে চড়ে আমরা ঢাকায় যেতে পারব, সত্যিই আমরা ভাগ্যবান।’
ভাবদুলীডাঙ্গা এলাকার সঞ্চিতা বিশ্বাস বলেন, ‘নড়াইল থেকে রেলে চড়ে ঢাকায় যেতে পারব, ভাবতেই অবাক লাগছে। একসময় কল্পনা করতাম, নড়াইলে যদি রেলপথ থাকত আমরা অনেক সহজে স্বল্প খরচে বিভিন্ন জেলায় চলাচল করতে পারতাম।’
বরাশুলা এলাকার হারুন অর রশিদ বলেন, এই ট্রেন ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে।
একই কথা বলেন ভওয়াখালী এলাকার মিন্টু, এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থসামাজিক উন্নতি হবে। আমাদের অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে।
বিশিষ্টজনদের আনন্দ প্রকাশ
নড়াইল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মঞ্জুরুল করিম মুন বলেন, ‘নড়াইলবাসী স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর রেলসড়ক পেল। আমরা অনেক আনন্দিত।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নড়াইল জেলা একসময় অবহেলিত ছিল। পদ্মা সেতু চালুর পর জেলার অর্থনৈতিক পরিবর্তনসহ উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। আর এখন স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর নড়াইলবাসীর স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। রেল চালুর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। একজন নড়াইলবাসী হিসেবে আমি আনন্দিত। আমরা সবাই আনন্দিত।’
রেল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি
নড়াইল রেলস্টেশনে কর্মরত অফিসার মানিকচন্দ্র সরকার বলেন, ‘ভাঙ্গা-নড়াইল-রূপদিয়া-খুলনা রেলসড়কে পরীক্ষামূলক রেল চলাচল করছে। আশা করছি, ২৪ ডিসেম্বর শুরু হবে বাণিজ্যিকভাবে চলাচল। ইতোমধ্যে নড়াইল স্টেশনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রেল চালু হলে নড়াইলের বাণিজ্যিকসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।’
তিনি আরও বলেন, আইডি কার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে রেলের টিকিট কিনেতে হবে। গত শনিবার রাত ৮টার পর থেকে রেলের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। রেলস্টেশন বা অনলাইনে টিকিট কেনা যাবে বলেও জানান তিনি।