বগুড়ার করতোয়া নদীতে বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ৪০ বিঘা জমির বোরো বীজতলা ডুবে গেছে।
করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণ, খনন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির নামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিপাউবো) দুই সপ্তাহ আগে বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা ডিসি অফিসের কাছে করতোয়া নদীর মাঝে এই বাঁধ দেয়। এতে উজানে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া, শেখেরকোলা, রাজাপুর ও পৌরসভার ১৯ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত দুই হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ ব্যাহত হবে। বাড়বে খরচও।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া ডিভিশনে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসাদুল হক নদীতে বাঁধ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকায় করতোয়া নদী খননের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কাজ শুরু হয় কয়েক মাস আগে। ওই কাজের অংশ হিসেবে এখন যে কাজ চলছে, তাতে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মোহাম্মদ আসাদুল হক বলেন, ‘সমস্যার বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধের ভেতর দুটি পাইপ বসানো হয়েছে। একটি পাইপের ব্যাস ৬ ইঞ্চি, অন্যটির ৮ ইঞ্চি।’ তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই দুই পাইপ দিয়ে যেটুকু পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে, তাতে জলাবদ্ধতা দূর হবে না। ফলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে।
বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শেখ মিলন দাবি করেন, চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার দুই ওয়ার্ডের প্রতি শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরিতে খরচ হয়েছে গড়ে ২ হাজার টাকা। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি সরে না গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে সব বীজতলা। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার। এ ছাড়া চাষাবাদের জন্য তাদের প্রতি বিঘার জন্য চারা কিনতে হবে প্রায় ২ হাজার টাকার। কৃষিতে ডিপ্লোমা মো. শেখ মিলন বলেন, ‘ওই এলাকায় ধানের গড় ফলন বিঘায় ২৫ মণ। সময়মতো চাষ করতে না পারলে ফলনও কম হতে পারে। মো. শেখ মিলন তার চার বিঘা জমিতে বোরো চাষ করতে ৬ হাজার টাকা খরচ করে ৩ শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন।
রাজাপুর এলাকার আরেক চাষি আবদুল বারি তার পাঁচ বিঘা জমি চাষ করতে বীজতলা বানিয়েছেন ৫ শতাংশ জমিতে। কিন্তু সেই জমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। মো. শেখ মিলন ও আব্দুল বারির মতো ওই সব এলাকার অন্তত ৫০০ চাষির একই অভিযোগ- বীজতলা ডুবে গেছে।
এলাকাবাসী স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, সমস্যার সমাধানে তারা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।