নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যৌতুকের দাবিতে উর্মি আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী পারভেজ (২৮) ও শ্বশুরবাড়ির পরিবারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী উর্মি আক্তার গত রবিবার (৯ মার্চ) সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ করেন। তবে থানায় মামলা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করায় বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) তার পরিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা কোর্টে মামলা করেন।
সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পেয়েছি। তবে মামলা নেওয়ার বিষয়টি ওসি স্যারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ভুক্তভোগী উর্মি আক্তারের অভিযোগে জানা যায়, ‘উপজেলার কুরবানপুর এলাকার মাদলাপাড়া গ্রামের ছায়েব আলীর ছেলে পারভেজের সঙ্গে নয় মাস আগে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ টাকাসহ ৫ লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হলেও কিছুদিন পর পারভেজ আরও ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।
যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৯ মার্চ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ঘরে আটকে রেখে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। খবর পেয়ে তার মা ও বড় বোন মৌসুমী আক্তার দেখা করতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে পারভেজ উর্মির মাথায় ধারালো দা দিয়ে আঘাত করে এবং তার মা-বোনের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন (মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা) ছিনিয়ে নেয়।’
স্থানীয়রা তাদের চিৎকার শুনে উদ্ধার করে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর বড় বোন মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য উর্মির ওপর নির্যাতন চলত। ঘটনার দিন আমাদের ওপরও হামলা করা হয় এবং উর্মিকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।’
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারী জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইমরান/তাওফিক/