ঢাকা ২ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আত্মঘাতী গোলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয়বঞ্চিত মিসর ২৬ বছরে অভিষেক, বিশ্বকাপে স্পেনকে স্তব্ধ করে দেওয়া কে এই গোলরক্ষক? প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এগিয়ে মিসর বিশ্বকাপ ইতিহাসে নাম লেখালেন ভোজিনিয়া-ইয়ামাল শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিল নবাগত কেপ ভার্দে বিশ্বকাপ অভিষেকে রেকর্ড গড়ল কেপ ভার্দে দুই ছেলের নামে ২ ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে যা জানালেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী প্রথমার্ধে স্পেনকে আটকে দিল কেপ ভার্দে চট্টগ্রামে মেরিন সার্ভেয়ারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত মতলবে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ বিশ্বকাপে শুরুতেই বড় হার, ম্যাচ শেষ হতেই কোচ বরখাস্ত নবজাতকের মরদেহ টানাটানি করছিল কুকুর, উদ্ধার করল পুলিশ গোপালগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হুইলচেয়ারে মাঠ ছাড়লেন কুবো, জাপান শিবিরে উদ্বেগ মৌলভীবাজারে তিন মাসের ভোগান্তির পর চিকিৎসাসেবা পেল চা-বাগানবাসী শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামেও বসবে এআই ক্যামেরা: চসিক মেয়র স্পেনের একাদশে নেই ইয়ামাল ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত জন প্রত্যাশা পূরণ হয়নি’ রাজশাহীকে বাসযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত শহর গড়ার প্রত্যয় আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যানের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনই হোক অর্থনৈতিক রূপান্তরের শক্তি শ্রমিকদের ‘চাকরি’ স্থায়ী করুন রাজনীতিকে সরল সমীকরণে দেখা যায় না ইস্তিগফারের এমন ক্ষমতা জানলে আপনি অবাক হবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় শ্রমিক দল নেতা নিহত জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পর্তুগালের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কিশোর আইসিইউতে
Nagad desktop

খুমেকে ওষুধ সংকটে রোগীদের ভোগান্তি

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৫, ০৮:৪৭ এএম
আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৫, ০৮:৫০ এএম
খুমেকে ওষুধ সংকটে রোগীদের ভোগান্তি
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ কেন্দ্র থেকে কিছু রোগী ওষুধ নিচ্ছেন। ছবি: খবরের কাগজ

সময়মতো দরপত্র আহ্বান ও অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) ৭৭ ধরনের জরুরি ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে ওষুধ না পেয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে তাদের বাইরের ফার্মেসি থেকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪৫ ধরনের ওষুধের মজুতও শেষের পথে। 

সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন, বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হলে হাসপাতালে এসে লাভ কী? অনেকের অভিযোগ, সরবরাহ করা ওষুধও অনেক সময় বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়। তারা এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিতিশীল সময়ে হাসপাতালের অনেক পরিচালক স্বল্প সময়ের মধ্যে বদলি ও অবসরে গেছেন। তাই যথাসময়ে ওষুধের দরপত্র আহ্বান করা যায়নি। সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে সব ধরনের ওষুধের সরবরাহ থাকবে।

খুমেক হাসপাতালের মেডিসিন স্টোরকিপার অশোক কুমার হালদার জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতি অর্থবছরে নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে প্রায় ১২২ ধরনের ওষুধ সংগ্রহ করে। ওই ওষুধ রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ৫ আগস্টের পর খুমেক হাসপাতালে পরপর কয়েকজন পরিচালকের বদলি ও অবসরজনিত কারণে সময়মতো দরপত্র আহ্বান করা যায়নি। ফলে হাসপাতালের মেডিসিন স্টোরে প্রায় ৭৭ ধরনের ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। বাকি ৪৫ ধরনের ওষুধের মজুতও শেষের পথে।

জানা যায়, হাসপাতাল থেকে প্রায় সব ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে ২২ ধরনের ট্যাবলেট, চার ধরনের ক্যাপসুল, ৩৫ ধরনের ইনজেকশন, নরমাল স্যালাইন, ১৩ ধরনের চোখের ড্রপ ও অন্যান্য তিন ধরনের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে জীবনরক্ষাকারী ও অধিক প্রয়োজনীয় ওষুধও রয়েছে। ফলে এসব ওষুধ রোগীদের অতিরিক্ত দামে বাইরের ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করতে হয়। 

মেডিসিন স্টোর জানিয়েছে, হাসপাতালে ট্যাবলেট এসিক্লোফেনাক ১০০ মিলিগ্রাম, অ্যামলোডিপিন ৫ মিলিগ্রাম, অ্যাটেনোলল ৫০ মিলিগ্রাম, অ্যাসপিরিন ৭৫ মিলিগ্রাম, ক্যাপসুল অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মিলিগ্রাম, ডক্সিসাইক্লিন ১০০ মিলিগ্রাম, ইনজেকশন অ্যাড্রিনালিন ১ মিলিগ্রাম, অ্যামিকাসিন ১০০ মিলিগ্রাম, নরমাল স্যালাইন ১০০০ মিলিগ্রাম, চোখের ড্রপ কার্বক্সিমিথাইল সোডিয়াম ১%, ডমপেরিডন ৫ মিলিগ্রামসহ ৭৭ ধরনের ওষুধের সরবরাহ নেই। ফলে ওয়ার্ডগুলো থেকে এসব ওষুধের চাহিদা দিলেও তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। 

ইয়াসিন হাওলাদার (৪২) নামে হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগী বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে এখানে ভর্তি আছি। কয়েকটি গ্যাসের বড়ি ছাড়া এখান থেকে আর কোনো ওষুধ দেয়নি। সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়।’

মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা লাকি বেগমও বললেন একই কথা। হাসপাতালের সবকিছু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় জানিয়ে ৩৮ বছর বয়সী এই নারী বলেন, ‘হাজার হাজার টাকা খরচ করে যদি বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয়, তা হলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে লাভ কী। এখানে প্রতি পদে পদে সিন্ডিকেট। রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ কেনা, সবকিছুই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করতে হয়।’ 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে যখন জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ঘাটতি রয়েছে, ঠিক এই সময় প্রায় ১৪ লাখ টাকার ‘অপ্রয়োজনীয়’ ওষুধ ও ট্যাবলেট মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি খুমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ওই আট ওষুধের তালিকা করে। স্বল্পমেয়াদি ওই ওষুধগুলো হলো- ফেনোবারবিটাল ৬০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট, মিডাজোলাম হাইড্রোক্লোরাইড ১৫ মিলিগ্রাম ইনজেকশন, জেনটমাইসিন ২ মিলিগ্রাম ইনজেকশন, জি-এড্রোনালিন ও কলেরা স্যালাইন ৫০০ মিলিগ্রাম ইনজেকশন। 

হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, হার্টের চিকিৎসায় কার্যকরী ইনজেকশন এনোক্সাপারিন ৬০ মিলিগ্রাম ও ৮০ মিলিগ্রামের চাহিদা দেওয়া হলেও প্রতিবছর ৪০ মিলিগ্রামের ইনজেকশন কেনা হয়। গত বছরের কেনা প্রায় সাড়ে ৭০০ এনোক্সাপারিন ৪০ মিলিগ্রামের দামি ইনজেকশন স্টোরে পড়ে আছে। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে হাসপাতালে সরবরাহ থাকলেও সেই ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে রোগীকে বাধ্য করা হয়। এতে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহসীন আলী ফরাজী বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী অস্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালের কয়েকজন পরিচালক পরপর বদলি ও অবসরে গেছেন। এ কারণে তারা সময়মতো ওষুধ কিনতে দরপত্র আহ্বান করতে পারেননি। তবে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করছি। বর্তমানে ওগুলো মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ বরাদ্দসাপেক্ষে আগামী দুই মাসের মধ্যে সব ধরনের ওষুধ সংগ্রহ করা যাবে। তখন রোগীদের আর কোনো সমস্যা হবে না।’

চট্টগ্রামে মেরিন সার্ভেয়ারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
চট্টগ্রামে মেরিন সার্ভেয়ারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের ইন্ডিপেন্ডেন্ট মেরিন সার্ভেয়ারদের একমাত্র সংগঠন মেরিন সারভেয়র্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এফবিসিসিআই অধিভুক্ত)-এর উদ্যোগে মেরিন সার্ভেয়ারদের সদস্যদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম নগরীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন সাখাওয়াত হোসাইন কমল। সঞ্চালনা করেন জেনারেল সেক্রেটারি ক্যাপ্টেন আবু নাসের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডোর মো. শফিউল বারি। কর্মশালার উদ্বোধন করেন অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমোডোর মো. শফিউল বারি প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মেরিন সার্ভেয়রের মতো বিশেষায়িত একটি পেশার ধারা বজায় রাখতে ও মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও চিফ ইঞ্জিনিয়ার সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন চৌধুরি, নটিক্যাল ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম শাখার চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন এম আব্দুল মালেক, আইএমএআরইএসটি এর প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার আইনুল কামাল, ভ্যানগার্ড মেরিটাইম লিমিটেড-এর সিইও ক্যাপ্টেন তাহের আফতাব চৌধুরি, জেএফ (ফিনলে) বাংলাদেশ লিমিটেড এর জিএম জনাব সালাউদ্দিন চৌধুরী এবং ইন্টারপোর্ট মেরিটাইম লিমিটেড এর সিনিয়র জিএম ফখরুল হাসান চৌধুরী।

কর্মশালায় প্রফেশন অব মেরিন সার্ভেইং, ড্রাফট অ্যান্ড আলেজ সার্ভে, মেরিন ইনসিডেন্ট, ইনভেস্টিগেশন এবং রিপোর্টিং-এ চারটি বিষয়ের উপর আলাদা সেশনে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন যথাক্রমে ক্যাপ্টেন জিল্লুর রহমান ভুঁইয়া, ক্যাপ্টেন সাইফুদ্দিন মেহেদী ও ক্যাপ্টেন মোজাহারুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম এ ফসিহুর রহমান এবং ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইলিয়াস। প্রায় ১৩০ জন সদস্য মেরিন সার্ভেয়ার এই ওয়ার্কশপ-এ অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রায় ৪৫ জন সদস্য সরাসরি অনলাইন সম্প্রচারে যুক্ত হয়ে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন ।

দেশের জাতীয় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও শিপিং সেক্টরে মেরিন সারভেয়র্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সদস্যরা নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। মেরিন সার্ভে ও কনসালট্যান্সি কার্যক্রমের মাধ্যমে এ সংগঠনের সদস্যরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জাতীয় শুল্ক আহরণে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করে রাষ্ট্রীয় কোশাগার সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে ক্যাপ্টেন সাখাওয়াত হোসাইন কমল বলেন, সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণে অ্যাসোসিয়েশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের কর্মপরিকল্পনা ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা হবে। প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়।

নাঈম/

মতলবে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
মতলবে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী এলাকায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত প্রধান আসামি সুমন পাটোয়ারীকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তার সুমন পাটোয়ারীকে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ। এর আগে রবিবার (১৪ জুন) রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ থানার ঝিগাতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক।

পুলিশ জানায়, থানার ওসির দিকনির্দেশনা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাকিব হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আত্মগোপনে থাকা মান্নান হত্যার প্রধান আসামি উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী এলাকার সুমনকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিএমপির হাজারীবাগ থানার ঝিগাতলা এলাকা থেকে রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করেন। ঘটনার পর সুমন দেশের বিভিন্নস্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি কিছুদিন ধরে বিভিন্ন জায়গা পরিবর্তন করে আসছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার সুমন পাটোয়ারী মতলব পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। সুমন পাটোয়ারীর কিশোর গ্যাং বাহিনী আছে। তার বিরুদ্ধে মুন্সিরহাট বাজারে দোকান দখল, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ আছে।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুমন পাটোয়ারীর মা ও তার বউকে গ্রেপ্তার করে গত ৪ জুন আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ফয়েজ/নাঈম

নবজাতকের মরদেহ টানাটানি করছিল কুকুর, উদ্ধার করল পুলিশ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:২২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
নবজাতকের মরদেহ টানাটানি করছিল কুকুর, উদ্ধার করল পুলিশ
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের সদর উপজেলায় ময়লার ভাগাড়ে একদল কুকুর একটি নবজাতকের মরদেহ টানাটানি করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৬ মাস বয়সী ওই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার আগে সদর উপজেলার কানাইপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেটসংলগ্ন ময়লার ভাগাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কলেজের গেটের পাশে একটি ময়লার ভাগাড়ে একদল কুকুরকে একটি রক্তমাখা বস্তু নিয়ে টানাটানি করছিল। স্থানীয়রা কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, কুকুরগুলো একটি নবজাতকের মরদেহ কামড়ে কামড়ে খাওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে গিয়ে কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে দেন। পরে তারা নিশ্চিত হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ গর্ভপাত ঘটিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে মরদেহটি ফেলে রেখে গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহটির দাফন সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া করা হবে।

নয়ন/রিফাত/

মৌলভীবাজারে তিন মাসের ভোগান্তির পর চিকিৎসাসেবা পেল চা-বাগানবাসী

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:০০ পিএম
মৌলভীবাজারে তিন মাসের ভোগান্তির পর চিকিৎসাসেবা পেল চা-বাগানবাসী
ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল। ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘ প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে অবস্থিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পুনরায় উদ্বোধন করা হয়।

হাসপাতাল পুনরায় চালুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন- কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রণজিৎ চন্দ্র শীল।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন চা-বাগানের পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ডানকানস গ্রুপ পরিচালিত ৫০ শয্যার এ দাতব্য হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে শমশেরনগরসহ আশপাশের চা-বাগান এলাকার শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত। তবে গত ২৭ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও চা-শ্রমিক পরিবারের সদস্য ঐশী রবিদাসের (১৪) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শমশেরনগর চা-বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস মাথাব্যথাজনিত সমস্যার কারণে ২৬ মার্চ রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে স্বজন ও শ্রমিকদের একটি অংশ ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতালে বিক্ষোভ প্রদর্শন, ফুলের টব ভাঙচুর এবং চিকিৎসক ও স্টাফদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ত্যাগ করলে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শমশেরনগর, মাধবপুর, কালিঘাট, পাত্রখোলা, আলীনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন চা-বাগানের হাজারো শ্রমিক পরিবার প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যেতে হতো।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি রণজিৎ চন্দ্র শীল জানান, প্রাথমিকভাবে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে রোগীদের মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চা-বাগান অধ্যুষিত এ অঞ্চলের মানুষের জন্য হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা-শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ হাসপাতালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। হাসপাতাল পুনরায় চালুর মাধ্যমে সেই সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত না হয়।

রিফাত/

যানবাহন নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামেও বসবে এআই ক্যামেরা: চসিক মেয়র

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
যানবাহন নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামেও বসবে এআই ক্যামেরা: চসিক মেয়র
এআই-ভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন বিষয়ক সভায় বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগর ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এ লক্ষ্যে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার (১৫ জুন) চসিকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চট্টগ্রাম নগরীর জন্য প্রস্তুতকৃত দুটি প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।

সভায় মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ অ্যান্ড স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। আমাদের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে এআই-ভিত্তিক স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম। চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা এবং সড়কে আইন অমান্যের প্রবণতা কমাতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

তিনি জানান, প্রকল্পটির আওতায় নগরীর ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন ও ব্যস্ত ট্রাফিক জোনকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। এসব স্থানে স্মার্ট সিগন্যাল, ট্রাফিক ফ্লো মনিটরিং ক্যামেরা, আইন লঙ্ঘন শনাক্তকারী ক্যামেরা, নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, রেড সিগন্যাল ডিটেক্টর এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই সিস্টেম সম্পূর্ণ এআই-ভিত্তিক। কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে। যানবাহনের নম্বরপ্লেট, চলাচলের ধরন এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে যানজট কমবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং নাগরিকদের দুর্ভোগ হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত ট্রাফিক করিডোর এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, একটি নিরাপদ নগরী গড়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছি। সে কারণেই দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার সড়কে সৌরবিদ্যুৎ চালিত অত্যাধুনিক এলইডি সড়কবাতি, ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকা।

তিনি জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত অপরাধ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে সড়কবাতির সঙ্গে যুক্ত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক নগর নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মেয়র বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ প্রতিবন্ধকতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার বিষয়ে আগাম
সতর্কবার্তা পাওয়ার সুযোগও থাকবে। ফলে নগর ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।” সৌরবিদ্যুৎ চালিত স্মার্ট সড়কবাতি স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎ ব্যয় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মেয়র জানান, প্রকল্প দুটির বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার মতামত নেওয়া হবে। তাদের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ডিপিপি প্রস্তুত করা হবে।

তিনি বলেন, “এটি এখনো প্রাথমিক ডিপিপি। সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়ে আমরা আরও পরিমার্জন করবো। তবে আমি বিশ্বাস করি, স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম এবং স্মার্ট নিরাপত্তা অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের ট্রাফিক সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি নগরবাসী একটি নিরাপদ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নগরী উপহার পাবে।”

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর)
ফরহাদুল আলম, আবু সাদাত তৈয়ব, কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু কৌশলগত কাজ করতে হবে। বিশেষ করে লেন মার্কিং, আইল্যান্ড ঠিক করতে হবে। ইন্টারনেটের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মূল্যবান ক্যামেরা, ক্যাবল, যন্ত্রপাতি যাতে চুরি না হয় সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রকল্পের বিষয়ে পুলিশ এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার পরামর্শ গ্রহণ করে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী উপকৃত
হবে।

নাঈম/