চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. দেলোয়ার হোসেন (২২) নামে এক কসাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার চরতী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তুলাতলী বাজার থেকে ওই অভিযুক্ত কসাইকে গ্রেপ্তার করা হলেও একইদিন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে অভিযুক্ত কসাইকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেন সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
গ্রেপ্তার কসাই বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়া এলাকার জলিয়ার বর বাড়ীর বাসিন্দা।
ধর্ষণের ঘটনায় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) অভিযুক্ত কসাই মো. দেলোয়ার হোসেনকে বিবাদী করে চরতী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. নাছির উদ্দিন সিকদার বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ধর্ষণের শিকার ওই ভারসাম্যহীন নারী প্রায় তিন বছর উপজেলার চরতী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তুলাতলী বাজারে অবস্থান করছেন। স্থানীয়রা ও বাজারের ব্যবসায়ীরা তুলাতুলী রাস্তার মাথায় তার রাত্রিযাপনের জন্য একটি ঝুপড়ি নির্মাণ করে দেন। এর পর থেকে তিনি সেখানেই রাত্রিযাপন করে আসছেন। মিনহাজ উদ্দিন নামের বাজারের এক ব্যবসায়ী তাকে প্রায় সময় খাবার দিয়ে থাকেন। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ২টার দিকে হঠাৎ করে ওই পাগলির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ঝুপড়ি থেকে অভিযুক্ত কসাই মো. দেলোয়ার হোসেনকে পালিয়ে যেতে দেখতে পান স্থানীয়রা। সেদিন ওই ভারসাম্যহীন নারী ইশারা ইঙ্গিতে বুঝায় যে, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটি তাকে ধর্ষণ করেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে আবারও তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঝুপড়ি থেকে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনকে আটক করেন। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ধর্ষণের উদ্দেশ্যে পাগলির ঝুপড়ি ঘরে এসেছেন বলে স্বীকার করেন। এ ছাড়াও দেলোয়ার হোসেন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই ভারসাম্যহীন নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে স্থানীয়দের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে যান বলে স্বীকার করেন। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে থানায় নিয়ে যান।
মামলার বাদী মো. নাছির উদ্দিন সিকদার খবরের কাগজকে বলেন, 'ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়রা আমাকেও জানালে আমি দেলোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেন। ধর্ষণের শিকার নারী পাগলি বলে ন্যায় বিচার পাবেনা এমনটা হতে পারে না। পাগলির কেউ না থাকায় আমি নিজে বাদী হয়ে অভিযুক্ত কসাই মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা করেছি। আমাদের প্রত্যাশা ওই পাগলি ন্যায় বিচার পাবে।'
সাতকানিয়া থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয় জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসি। পরে ওই এলাকার গ্রামপুলিশ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার যুবককে শনিবার (৫ এপ্রিল) আদালতের কাছে সোপর্দ করা হবে।
আরিফুল/মেহেদী/