দিনাজপুরে বৈশাখ উদযাপনকে সামনে রেখে পালপাড়াগুলোতে মাটির জিনিসপত্র আর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন কারিগররা। পালপাড়াগুলোতে পান্তা খাওয়ার মাটির প্লেট, হাঁড়ি, পাতিল, গটিবাটি, কাদামাটির ব্যাংক, পুতুল আর প্রতিমা- বিশেষ করে গণেশ প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। মাটির জিনিসপত্র বাড়িতে রোদে শুকিয়ে যাওয়ার পর আগুনে পোড়ানো হয়। বড় মাটির চুলায় পোড়ানো হয় মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র। আবার কোনো কোনো মাটির জিনিসপত্র বিশেষ করে মাটির ব্যাংক আর পুতুলে রং করে বিক্রি করা হয়।
দিনাজপুর বিরলের বিজোড়া ইউনিয়নের গনির মোড়ের পালপাড়ায় ৩০টি বাড়িতে চলে মাটির জিনিসপত্র তৈরির কাজ। মাটির ঘটি, বাটি, প্লেট, হাঁড়ি, পাতিল, পুতুল ও প্রতিমা তাদের বাড়িতেই তৈরি করা হয়।
বিশেষ করে বৈশাখ মাসে হিন্দু ধর্মালম্বীদের গণেশ পূজা করা হয়। তাই গণেশ প্রতিমা তৈরিতে তারা ব্যস্ত থাকেন বেশি। প্রতিমাগুলোতে রঙের কাজও করা হয়। হিন্দুধর্মাবলম্বী নারীরাও প্রতিমা তৈরিতে পারদর্শী। বাড়িতে তৈরি করার পর বিভিন্ন হাটবাজারে এই প্রতিমা সারি সারি সাজিয়ে রেখে বিক্রি করা হয়। প্রতিমাগুলো ৬০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়।
প্রতিমাশিল্পী পুতুল পাল বলেন, ‘এখন আমার বয়স হয়েছে। এখন ছেলেরা প্রতিমা তৈরি করে। তাদের সহযোগিতা করতে পারি। পহেলা বৈশাখের দিন হিন্দুধর্মাবলম্বীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গণেশ পূজা করে থাকেন। সেখানে গণেশ প্রতিমার জন্য আমাদের অর্ডার দিয়ে থাকেন। আমরাও অর্ডার নিয়ে তাদের কাছে প্রতিমা পৌঁছে দিয়ে থাকি।’
পালপাড়ার পবম পাল বলেন, ‘এখন আর আগের মতো মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা নেই। তারপরও পহেলা বৈশাখের দিনের জন্য মাটির কিছু প্লেটের চাহিদা রয়েছে। সেগুলো তৈরি করা হয়েছে। একটি মাটির প্লেট ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়। মাটির ব্যাংক ২০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দিনাজপুর বড় বন্দরের প্রতিমা বিক্রেতা অনিক পাল বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা গণেশ প্রতিমা আমাদের দোকান থেকে ক্রয় করে নিয়ে যান। এ ছাড়া আমাদের এই দোকানে মনোষা প্রতিমাসহ বিভিন্ন প্রতিমা বিক্রি হয়। বেচা-বিক্রি অনেক বেড়েছে।’
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর জেলায় বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পান্তা আর ইলিশের আয়োজন থাকছে। বৈশাখ বরণের জন্য নানা আয়োজনের জন্য আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।