ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক বিধবা নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা, আর শিউরে উঠেছে মানবিকতা। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সাহস করে মামলা করতেই উল্টো তাকে খুনের হুমকি, সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা ও বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল রাতে নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা নয়া পাড়ায় একা থাকার সুযোগে ওই বিধবা নারীর ঘরে হানা দেয় স্থানীয় তিন দুর্বৃত্ত-মুসা মিয়া, কামাল মিয়া ও হৃদয় মিয়া। তারা মিলে নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। নারীর চিৎকারে ছুটে আসেন আশপাশের মানুষ, তবে এর আগেই পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
পরবর্তী সময়ে আহত অবস্থায় ওই নারীকে ভর্তি করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে। তারপর ১০ এপ্রিল সকল ভয়-লজ্জা জয় করে ভুক্তভোগী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত নবীনগর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়, মামলা করার পর শুরু হয় হুমকি-ধমকি আর ভয়ভীতি। ভুক্তভোগী নারীর কণ্ঠে কাঁপা স্বর, ‘আমাকে এবং আমার ছেলেকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন জীবন বাঁচাতে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি’।
আশ্চর্যজনকভাবে, মামলার পরদিনই অভিযুক্ত মুসা মিয়ার পরিবার ‘মানববন্ধন’ নামক এক নাটক মঞ্চস্থ করে-যেখানে ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দেওয়া হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও, যাতে দেখা যায় এক নগ্ন পুরুষ ভুক্তভোগীর ঘরে অবস্থান করছেন এবং এক নারী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সেই দৃশ্য ধারণ করছেন।
তবে ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার নারী আতঙ্কিত অবস্থায় সবার কাছে আকুতি জানাচ্ছেন-‘আমাকে বাঁচান।’
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খান জাহান আলী চৌধুরী/মাহফুজ