সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে ওরসের আগে ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘লাকড়ি তোড়া’র মধ্য দিয়ে উদযাপন হয় সিলেট বিজয় উৎসব।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর ৭০৬তম বার্ষিকীর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এ দিনকে সামনে রেখে ‘তাহওহিদি কাফেলা’ নামেরএকটি মোর্চা জরুরি বৈঠক করে লাকড়ি তোড়ার নামে অসামাজিকতা বন্ধ রাখার আহ্বান জানায়। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এতে করে মাজারভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত উৎসবেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দরগাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বার্ষিক ওরস শুরুর দুই সপ্তাহ আগে আরবি মাসের ২৬ শাওয়াল এই উৎসব হয়। হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সিলেট বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপনের লাকড়ি তোড়ার উৎসবটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজন। সারা দেশ থেকে মাজারভক্ত মানুষজন নিজস্ব আয়োজনে দরগাহ এলাকায় সমবেত হন। ঐতিহ্য ও প্রথা অনুযায়ী দরগাহ প্রাঙ্গণ থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা করে দরগাহ এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে লাক্কাতুড়া চা-বাগানের টিলায় যান। সেখান থেকে প্রতীকীভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করে দরগাহে ফেরার মধ্য দিয়ে উৎসবটি সম্পন্ন করেন।
উৎসবকে সামনে রেখে ‘শাহজালাল রাহ. তাওহিদি কাফেলা’ নামে একটি সম্মিলিত সংগঠন বৈঠক করে গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে। এতে ‘ওরস উপলক্ষে শাহজালাল মাজারে সব অসামাজিকতা বন্ধ রাখার আহ্বান, অন্যথায় দেওয়া হবে কঠোর কর্মসূচি’ শীর্ষক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজারের বার্ষিক ওরস আসন্ন। ওরসকে কেন্দ্র করে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে লাকড়ি তোড়া উৎসব। এই উৎসবসহ ওরসে সব ধরনের অসামাজিকতা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে তাওহিদি কাফেলা। এর আগে গত বুধবার রাতে এ সংগঠনের বৈঠক শেষে লাকড়ি তোড়ার আয়োজক কমিটি ও মাজর ভক্তদের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়।
সিলেট নগরীর কাজিরবাজারের মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়ায় এই বৈঠক হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামেয়ার মুহতামিম মাওলানা শায়েখ আব্দুস সোবহান। হজরত শাহজালালের মাজারের পবিত্রতা রক্ষায় আসন্ন ওরস উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণে শিরিক-বিদাআত, অশ্লীলতা, নাচ-গান ও মাদকদ্রব্য সেবন প্রতিরোধে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ব্যাপক গণসংযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়া এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়।
স্থানীয় ইতিহাস সূত্রে জানা গেছে, লাকড়ি সংগ্রহ অর্থে উত্তোলন বা তোলা থেকে আঞ্চলিকবাবে ‘তোড়া’ শব্দের প্রচলন। লাকড়ি তোড়া সর্ব ধর্মীয় দৃষ্টিতে প্রাচীন একটি উৎসবও। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর স্মৃতি। এ দিন অত্যাচারী রাজা গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করে শ্রীহট্ট রাজ্য হজরত শাহজালাল (রহ.) বিজয় করেন। লাকড়ি তোড়া উৎসবের দিনটি ‘সিলেট বিজয় দিবস’ নামেও পালিত হয়। এ নিয়ে নানা কথা ও কাহিনি প্রচলিত।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সূত্র জানায়, ৭০০ বছরের বেশি পুরোনো এই উৎসবের দিন তাওহিদি কাফেলার কর্মসূচি পাল্টাপাল্টি কি না, এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এ ব্যাপারে এসএমপির গণমাধ্যম শাখা কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি না করলেও সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, এসএমপি আগ বাড়িয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং বৃহস্পতিবার রাতের ও শুক্রবার সকালের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিতে রয়েছে।