চুয়াডাঙ্গায় টানা কয়েকদিন ধরে চলছে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ। তীব্র গরমে নাকাল হয়ে পড়েছে জেলার সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়ছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের ওপরও।
টানা পাঁচদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তীব্র তাপপ্রবাহ। শনিবার (২৬ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান।
তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গায় মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনও একই অবস্থা বিরাজ করতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বুধবার ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বৃহস্পতিবার ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শুক্রবার ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রখর রোদ ও দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার তাগিদে রোদ উপেক্ষা করে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে ভ্যানচালক কবির বলেন, গরমে হাঁসফাঁস লাগছে। কিন্তু ভ্যান না চালালে বাসা-পরিবার চালাব কীভাবে? রোদে থাকলে শরীরের পানি শুকিয়ে যায়।
দিনমজুর সুজন জানান, কাজ বন্ধ রাখলে আয় হবে না। আবার কাজে গেলেও মনে হয় শরীর আগুনে পুড়ছে। দুপুরের পর কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। তবুও পেটের দায়ে নামতে হচ্ছে।
কুলি হামিদ বলেন, স্টেশনে মাল টানতে হচ্ছে। এত গরম যে, ৫ মিনিট কাজ করলে মনে হয় সারা শরীর আগুন হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পরপরই বিশ্রাম নিতে হয়।
পথচারী শাহীন বলেন, দুপুরে রাস্তায় চলাই যায় না। কয়েক মিনিট হাঁটলেই শরীর ঘেমে ভিজে যায়, মাথা ঘুরে। কিন্তু প্রয়োজনে বের হতেই হয়। এমন গরম আগে কবে লাগছে মনে পড়ে না।
এই অস্বাভাবিক আবহাওয়ায় শুধু নিম্নবিত্ত নয়, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও ঘামজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও জানা গেছে।
মিজানুর রহমান/মাহফুজ