কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর কথিত পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এসপি, ডিবির ওসি, মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানার ওসিদের প্রত্যাহারসহ অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
কুমিল্লার মুরাদনগরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা নিরসনে উপদেষ্টার ফ্যাসিবাদী আচরণ ও পুলিশের নির্যাতন থেকে মুরাদনগরের মানুষকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মুরাদনগর উপজেলা সনাতন ধর্মাবলম্বী জনতা।
সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে দাউদকান্দি এলাকায় পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয় এবং ভাড়া করা বাসের চালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ করা হয়। পরে ভুক্তভোগী সনাতনী লোকজন অন্য বাসে করে ঢাকায় আসেন।
লিখিত বক্তব্যে মুরাদনগর পূজা উদযাপন কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক দীন দয়াল পাল বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগের শাসনে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চাঁদাবাজি, দখল ও নিপীড়ন হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম সরকার পরিবর্তনের পর শান্তি ফিরবে, কিন্তু পুলিশি নির্যাতন থামেনি, বরং বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ নিজ উদ্যোগে মন্দির ও হিন্দুদের ঘরে পাহারা বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দীন দয়াল পাল বলেন, ‘তিনি আমাদের সব সময় পাশে থেকেছেন- পূজা, বিয়ে, চিকিৎসা, বাড়িঘর নির্মাণেও সাহায্য করেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধেই এখন মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে।
সনাতনী নেতারা অভিযোগ করেন, ‘রাজীব আহমেদ নামে এক ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট কায়কোবাদকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মামলা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। রাজীব আহমেদ ফেসবুকে আমাদের নেতাদের নাম নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করেছেন। এতে আমাদের বাক স্বাধীনতা হুমকির মুখে,- বলেন দীন দয়াল পাল।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কোম্পানিগঞ্জ এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে কায়কোবাদ নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে তাদের উপর পুলিশি নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় সালিশ হলেও পরে বিএনপি নেতাদের নামে মামলা হয়।
সনাতনী নেতারা বলেন, কুমিল্লার এসপি নাজির খান আগে গাজীপুরে বিএনপি কর্মীদের হয়রানি করতেন। এখন তিনি মুরাদনগরে সেই একই রূপে ফিরে এসেছেন। তারা বলেন, ‘রাত হলেই পুলিশি গাড়ির হর্নে আতংকে থাকে মুরাদনগরের মানুষ। এ যেন আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের প্রতিচ্ছবি।’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বাবা ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে কায়কোবাদ ও বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন। সেখানে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা মুরাদনগরের শান্তি নষ্টকারী বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন জানান, কায়কোবাদকে নিয়ে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, কুমিল্লার এসপি, ডিবির ওসি ও মুরাদনগরের দুই থানার ওসিকে দ্রুত প্রত্যাহার করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দুলাল দেবনাথ, নিবাস চন্দ্র ঘোষ, বিপ্লব কুমার সাহা, রঞ্জন রায়, দয়ানন্দ ঠাকুরসহ মুরাদনগরের বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।