ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়াও মামলায় ৭০-৮০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
সোমবার (৫ মে) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্রুত বিচার) আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আজমত আলী বলেন, রবিবার মো. আশিকুর রহমান নামের একজন বাদী হয়ে আদালতে মামলার আবেদন করেন। এদিন বিকেলে আদালতের বিচারক মোছা. নাসিমা খাতুন মামলাটি আমলে নিয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার বাদী মো. আশিকুর রহমান একই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি ২০০৬/৭ সেশনের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার জাকিবুল হাসান রনি, উপ-পরিচালক মাহমুদুল আহসান লিমন, প্রকৌশল শাখার প্রকল্প পরিচালক (পিডি) জোবায়ের হোসেন, অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল হালিম, সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম কবির শান্ত, সহকারী রেজিস্ট্রার এনায়েত কবির আরিফ, উপরেজিস্ট্রার রেবেকা সুলতানা, সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোশাররত শবনম, সহকারী অধ্যাপক হীরক মুশফিক, সহকারী অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সেলিম আল মামুন, অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার মুখার্জী, সহযোগী অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো. নাহিদুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক রেজুয়ান আহমেদ, মাসুদ রানা, অধ্যাপক ড. মোল্লা আমিনুল, ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. তরিকুল ইসলাম, চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুম হাওলাদার, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জুয়েল মোল্লা, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রানা, সাবেক সভাপতি সাব্বির আহমেদ, সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক সভাপতি আল মাহমুদ কায়েস, সহসভাপতি জয় চক্রবর্তী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজিব চন্দ্র দাস, আরাফাত রহমান সানি, সহ-সাধারণ সম্পাদক রিয়েল সরকার ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রমূখ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জুলাই-আগস্টের কোটাবিরোধী আন্দোলন দমনে গত বছরের ৩ আগস্ট ‘হাসিনায় আস্থা’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। ওই সমাবেশে তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহড়া দেয়। এর পরদিন (৪ আগস্ট) ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে আন্দোলনকারীদের ওপর আসামিদের পরস্পর যোগসাজসে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রলীগ। এতে কমপক্ষে ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। এ সময় আসামিরা বেশ কিছু মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ভাঙচুর করে। প্রায় ৯ মাস পর দেশে স্বৈরাচারমুক্ত পরিবেশে ন্যায়বিচার পেতে মামলা করা হয়েছে।
মামলার আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলায় উল্লেখ করা আসামিরা শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী যৌক্তিক আন্দোলনে হামলা চালিয়েছিল। ফলে অনেকে আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সচেতন সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা হিসেবে এটি মানতে পারেনি আশিকুর রহমান। ফলে তাদের বিচারের আওতায় আনতে আদালতে মামলা করেছেন।
মামলার বাদী মো. আশিকুর রহমান বলেন, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চাই। তাই মামলা করেছি। আশা করছি ন্যায়বিচার পাব।
কামরুজ্জামান মিন্টু/মাহফুজ