২০১২ সালে শেরপুরে ডিবি হেফাজতে মারা যান জেলা কৃষক দলের সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চু (মেকার)।
এ ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর মঙ্গলবার (১৭ জুন) আওয়ামী লীগের সাবেক হুইপ, সাবেক এমপিসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার ছেলে মোকারুল ইসলাম মহন।
মঙ্গলবার (দুপুরে শুনানি শেষে শেরপুর সদর আমলি আদালতের বিচারক সুলতান মাহমুদ মিলন মামলাটি পিবিআই পুলিশ সুপার জামালপুরকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাবেক হুইপ আতিউর রহমান আতিক, সাবেক এমপি ফাতেমাতুজ্জহুরা শ্যামলী, সাবেক পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান, জেলা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) ওসি নজরুল ইসলাম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ও সাবেক হুইপ ও এমপি আতিউর রহমান আতিকের নির্দেশে তৎকালীন ডিবির ওসি ও কয়েকজন কনস্টেবলসহ ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের সজবরখিলা মহল্লা থেকে আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চুকে ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। পরে ৪ ডিসেম্বর রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ আবু সিদ্দিকী বাচ্চুর লাশ তার বাড়িতে রেখে যায়।
পরিবারের দাবি, আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চু ডিশ কেবলের ব্যবসার পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার নামে কোনো মামলাও ছিল না। তাকে আওয়ামী লীগের নেতারা ও পুলিশ প্রশাসনের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডিবি হেফাজতে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে মোকারুল ইসলাম মোহন বলেন, ‘আমার বাবাকে হত্যা করার পর পুলিশ পাহারায় জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়। আমরা সে সময় মামলা করতে পারিনি। মামলা না করার জন্য পুলিশ সব সময় আমাদের ভয়ভীতি দেখাত এবং আমাদের তিন ভাইকেও বিভিন্ন মামলায় দিয়ে হয়রানি করেছে। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল আজিজ সজীব রানা বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোহন বাদী হয়ে ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা করেছেন। সিআর আমলি আদালত সদর মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই জামালপুর পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’