কুমিল্লার মুরাদনগরে নারী ধর্ষণ, লালমনিরহাটে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নরসুন্দর পিতা-পুত্রকে আটক এবং ঢাকার খিলক্ষেতে দুর্গাপ্রতিমা অসম্মানের প্রতিবাদে যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়েছে।
সোমবার (৩০জুন) যশোর প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি দুলাল সমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রতন আচার্য, সদর উপজেলার সভাপতি রবিন কুমার পাল, বাঘারপাড়া উপজেলার সদস্য সচিব প্রণয় সরকার, যশোর পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক উৎপল সরকার, শার্শা উপজেলার সভাপতি নীল কুমার সিংহ, ঝিকরগাছার সভাপতি দুলাল অধিকারী, মহিলা পরিষদের নেত্রী সুলতানা রহমান জলি প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কুমিল্লার মুরাদনগরে যারা বোনকে ধর্ষণ করে বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছে, তাদের সুষ্ঠু তদন্ত করে ফাঁসি দিতে হবে। এছাড়াও সারাদেশে খুন, নারী নির্যাতন, মাদক সন্ত্রাস, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ঢাকা খিলক্ষেতে সরকারের বুলডোজার দিয়ে মন্দির ও প্রতিমা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা বাংলাদেশে আগে কখনো ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে কি? আমরা কার কাছে বিচার চাইব, সরকারের কাছে বিচার চেয়ে কোনো লাভ নাই। বক্তারা লালমনিরহাটে ১০ টাকার জন্য নরসুন্দর পিতা-পুত্রকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের ঘটনারও বিচার দাবি করেন।
তারা আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর শান্তি ফিরে আসার আশা থাকলেও বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর অন্যায়, অত্যাচার ও মন্দির ভাঙার ঘটনা বাড়ছে। এই দেশ থেকে হিন্দুদেরকে বিতাড়িত করার চক্রান্ত চলছে। আমরা এই দেশে জন্মেছি এই দেশেই মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। যশোরের অভয়নগরের মসিহাটি গ্রামে হত্যাকাণ্ডের পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনারও উল্লেখ করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন বক্তারা।
এইচ আর তুহিন/