ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের ‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’ ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার ১৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথম জয়ের খোঁজে… বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

‘বারকি ডুবাও-কাণ্ড’ এবার জাফলংয়ে!

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৪:২৪ পিএম
‘বারকি ডুবাও-কাণ্ড’ এবার জাফলংয়ে!
জাফলংয়ের পিয়াইন নদে এভাবেই ইঞ্জিন নৌকা দিয়ে তাড়া করে বারকি নৌকা ডুবিয়ে জব্দ করা হয়। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

শত শত বারকি নৌকা। চলছিল বালু-পাথর আহরণ। সেসব নৌকাকে তাড়া করছিল একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। একেকটি বারকিকে সজোরে ধাক্কা দিচ্ছিল ইঞ্জিন নৌকা। এতে করে কোনোটি উল্টে যাচ্ছিল। আবার কোনোটি ডুবছিল।  

সিলেটের জাফলংয়ে পিয়াইন নদে এভাবেই গত রবিবার অবৈধ খনিজ সম্পদ আহরণ এবং পরিবহনের বিরুদ্ধে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অভিযান হয়েছে। 

রবিবার (২৭ জুলাই) রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভেরিফাইড ফেসবুকে এ অভিযানের একটি ভিডিও আপ করে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। 

ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযানকারীরা ইঞ্জিন নৌকা দিয়ে বালু-পাথরবোঝাই বারকি নৌকাকে তাড়া করতে। এর মধ্যে অভিযানসংশ্লিষ্টদের ইঞ্জিন নৌকা তিনটি বারকি নৌকার ওপর চলে গিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বারকি নৌকা ডুবিয়ে এ রকম অভিযানের বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘নৌকা বিনষ্ট করা’ বলে উল্লেখ করা হয়।

বারকি সিলেট অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী নৌকা। বালু ও পাথরমহালের হাতে বাওয়া নৌকাটির প্রচলন প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। বর্ষা মৌসুমে একটি বারকি নৌকায় অন্তত চারজন শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ হয়। সিলেট ও সুনামগঞ্জের সব সীমান্ত নদ-নদী দিয়ে চলাচল করে অন্তত ৫০ হাজার বারকি নৌকা। গত বছর এমন মৌসুমে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে ধলাই নদে এ রকম একটি অভিযানে বারকি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

অমানবিকতায় ঘটনাটি ‘বারকি ডুবাও-কাণ্ড’ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বারকি শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদী নানা কর্মসূচি পালন করেন। এ নিয়ে গত বছরের ১ জুন খবরের কাগজে ‘ইউএনওর বারকি ডুবাও কাণ্ডে তোলপাড়’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রকাশ হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে ১১ জুন তৎকালীন ইউএনও সুনজিত কুমার চন্দকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

এক বছর পর এবার কোম্পানীগঞ্জ পাশের উপজেলা গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ের পিয়াইন নদ অববাহিকায় অভিযানে বারকি-ডুবাও ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে বারকি ডুবানোর বিষয়টি এড়িয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে খনিজ সম্পদ আহরণ ও পরিবহনের বিরুদ্ধে দুটি সফল মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পাথর ও বালু জব্দ করা হয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ২৭ জুলাই, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিমন সরকার সিলেটের জাফলংয়ের বল্লাঘাট থেকে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং প্রবল বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে এই অভিযান সফলভাবে পরিচালিত হয়।

অভিযানে খনিজ বালু মিশ্রিত পাথরবোঝাই প্রায় ৫০টি নৌকা বিনষ্ট করা হয়েছে এবং পাঁচটি ট্রাকে লোডিং করা বালু জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে আরও বলা হয়, জব্দ বালু জাফলং পুলিশ চৌকিতে সংশ্লিষ্ট থানার এসআই এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, জব্দ এই মালামালগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

যোগাযোগ করলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার মো. তোফায়েল আহমদ। তবে বারকি ডুবাও ঘটনার বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন। 

 

‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’
ছবি: খবরের কাগজ

ছয় মাসের ফাহিমা জানে না সীমান্ত কী জিনিস। কিন্তু সেই সীমান্তে আটকে আছে তারা চার দিন। পাঁচ বছরের ফাতেমার বাড়ি যাওয়ার তাড়া বাবা-মায়ের কাছে। কিন্তু সেও জানে না সীমান্তের অদৃশ্য শিকল বাঁধা তার বাবা-মায়ের পায়ে। কোনো দেশেই ঢুকতে পারছে না তারা। কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে পুশইনের চেষ্টার শিকার ছয়জন চার দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।

খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। এদের দুই শিশুর মা সুমি আক্তার দুই বাচ্চাকে বাঁচাতে সবার কাছে আকুতি জানাচ্ছেন। বলছেন, ‘ভাই, আমাগোর জীবন যাক, বাচ্চা দুইডারে বাঁচাইন। এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব।’

রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকার শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন তারা। দুই দিকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা বন্দুক নিয়ে পাহারায়। মাঝখানে পলিথিনের ছাউনির নিচে শিশুদের কোলে বুকে নিয়ে আছেন তারা। মাঝে মাঝে কেঁদে উঠছে ছোট্ট ফাহিমা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া সামান্য খাবার ও পানিতে জীবনটা কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখলেও চারদিকে মানুষের উপস্থিতিতে এক মুহূর্ত চোখ বুজতে পারছেন না তারা। মাঝে মাঝে কাঁদছেন ফাহিমা-ফাতেমার মা সুমি আক্তারও। নিজের চেয়ে দুই শিশুর জন্য বেশি ভাবছেন। তিনি বলেন, ‘চারডা দিন সীমান্তে বইসা আছি। কেউ নিব না। একটা যে নিজর কাম সারবেন মানুষের জন্য যাওয়া যাচ্ছে না। বড় মেয়েটা বাড়ি যাই বাড়ি যাই করে। আমার খাওন নাই। ছোট মেয়েটাও খাইতে পারছে না। বুকে দুধ নাই, শুকায় গেছে। মাঝে মাঝে বাচ্চাডারে পানি খাওয়ায় বাঁচায়া রাখছি। আর কতক্ষণ থাকতে হবে জানি না। আপনেরা আমাদের বাঁচান ভাই।’

বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে দালালের মাধ্যমে কাজের আশায় ভারতে গেছিলাম। লোভে পড়ে গেছিলাম। পরে সে দেশে আটক হই। গত রবিবার ভোরে কাঁটাতার পার করে দিছে। তিন দিন ধইরা নো ম্যানস ল্যান্ডে বসে আছি। আমরা বাংলাদেশি।’ কথা বলে জানা গেছে, ওই সীমান্তে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া এলাকার কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৫), তাদের দুই সন্তান ফাতেমা ও ফাহিমা, একই গ্রামের সজীব মিয়া (২৬) ও হিমেল মিয়া। বিল্লাল হোসেন জানান, কিছুদিন আগে দালালের মাধ্যমে কাজের সন্ধাতে ভারতে যান তারা। সেখানে পুলিশের কাছে আটক হন। গত রবিবার ভোরে তাদের ভারত সীমান্তের কাঁটাতার পার করে দেয় বিএসএফ। তবে তাদের পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত করেনি বিজিবি। 

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরে গয়টাপাড়া সীমান্তে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা দুই শিশু, এক নারী ও তিনজন পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি তাদের নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও বাধা সৃষ্টি করে। তারপর থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন তারা। পাশের ইজলামারী সীমান্ত দিয়েও এ সময় তিনজকে পুশইন করে বিএসএফ। তারাও নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। 

ওই দিন দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে পুশইন করা ব্যক্তিরা বাংলাদেশি। তবে বিজিবি জানায়, তাদের ফেরত নিতে হবে। বাংলাদেশি হলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফেরত পাঠানো যাবে। কিন্তু বিএসএফ তাতে সায় দেয়নি। ফলে কোনো সমাধান আসেনি। গতকাল পর্যন্ত এ নিয়ে নতুন করে কোনো বৈঠকও হয়নি। যে কারণে শিশুসহ ৯ জন মানবেতর সময় পার করছেন। 

পুশইনের শিকার সজীব মিয়ার প্রতিবেশী স্থানীয় ইউপির গ্রাম পুলিশ সদস্য মোশারফ হোসেনের কথা হলে তিনি জানান, টিভিতে তাদের দেখে চিনতে পেরেছেন। পরিবারের লোকজন বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা কিছুদিন আগে ভারতে গেছেন বলেও জানান তিনি। 

শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘শুনতে পাচ্ছি তারা বাংলাদেশি নাগরিক। মানবিক কারণে আমরা তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। শিশুসন্তান নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।’

গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুশইনের বিষয়টি নিয়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তারা বাংলাদেশি হলে নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে। কিন্তু রাতের আঁধারে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঠেলে দিলে সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার
ছবি: খবরের কাগজ

চার বছর আগে তৈরি হয়েছে সেতু; খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। কিন্তু নদীর দুই পাড়ের মানুষের ভাগ্য বদলায়নি। মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি হয়নি। ফলে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কালীগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি চার বছর ধরে ব্যবহারহীন পড়ে আছে।

প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সংযোগ সড়ক তৈরির জন্য নতুন করে আরও প্রায় ১১ কোটি টাকার টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে গত ছয় মাসে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

সরেজমিন দেখা যায়, ঘিওর উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ৩৬৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটি ব্যবহারহীন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দুই পাশে সংযোগ সড়ক, প্রতিরক্ষা দেয়াল ও পাকা রাস্তার কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। কোনো যানবাহন সেতু দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। ফলে মোটরসাইকেল, সাইকেল, কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে স্থানীয়দের এখনো সেই খেয়া নৌকার ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের আওতায় বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স এবং মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে এ কাজ পায়। সেতুর মূল নির্মাণকাজে প্রায় ২৯ কোটি টাকা এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণে ৫ কোটি ৬০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা খরচ ধরা হয়। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় ছিল ৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০২২ সালে সেতুর মূল অংশের কাজ শেষ হয়।

তবে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে দুই পাশের সংযোগ সড়ক আর করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেতুটি চালু করা যায়নি। পরবর্তীতে সেতুর দুই পাশের প্রায় ৬০০ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, প্রতিরক্ষা দেয়াল ও পাকা রাস্তা তৈরির জন্য নতুন করে ১১ কোটি ২২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৭ টাকার আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় এখন প্রায় ৪৫ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে। 

এলজিইডি সূত্র আরও জানায়, সংযোগ সড়ক তৈরির জন্য দুই পারে মোট ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন। এই জটিলতাতেই বছরের পর বছর কাজ আটকে আছে। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সেতুটি চালু না হওয়ায় পূর্ব উথলী, বৈকুণ্ঠপুর, নকিববাড়ি, সরবঘাট, চর মাইজখাড়া, দোলাপাড়া, চর বিলনালাইসহ পূর্বপাড়ের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এবং বালিয়াবাধা, আরিয়াদহ, বৈলতলা, মির্জাপুরসহ পশ্চিমপাড়ের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ সরাসরি এ সমস্যার শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, ‘সেতু হয়েছে অনেক আগে, কিন্তু রাস্তা না থাকায় কোনো কাজে আসছে না। প্রতিদিন নৌকায় পার হতে হয়। সেতু চালু হলে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে।

বৈকুণ্ঠপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নদী পার হয়। সেতু নির্মাণের পর সবাই ভেবেছিল কষ্ট শেষ হবে। কিন্তু এখনো খেয়া নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এত টাকা খরচ করে সেতু বানিয়ে মানুষের কোনো উপকার হচ্ছে না।’

আলী আহম্মেদ নামে এক কৃষক বলেন, ‘এলাকার বেশির ভাগ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। ফসল বাজারে নিতে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বাড়ছে।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী আহাদ হোসেন বলেন, ‘সেতুটি চালু হলে ঘিওর উপজেলা সদর ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সহজ হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে সবাই হতাশ।’

অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস আর এন্টারপ্রাইজ (জেভি)-এর স্বত্বাধিকারী মো. রফিক বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। বর্ষায় নদীতে পানি এলে ব্লকহেডে করে বালু ও মাটি এনে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।’ 

এলজিইডি মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম লুৎফর রহমান বলেন, ‘সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরুর লক্ষ্যে প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
মোটরসাইকেল চোরচক্রের তিন সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযানে মোটরসাইকেল চোরচক্রের তিন সদস্যসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি বিশেষ টিম কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মোটরসাইকেল চোরচক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, কালীগঞ্জের মস্তফাপুর গ্রামের জাহিদ হাসান, ফরাসপুর গ্রামের মেহেদী হাসান সান্টু এবং চাঁচড়া গ্রামের রাজ কুমার।

পুলিশ জানায় এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি এবং চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতো। অভিযানে চুরি করা দুইটি মোটরসাইকেল, ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, ফেনসিডিল-জাতীয় মাদকদ্রব্য এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ জানায়, জেলায় যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাদক, জুয়া ও চুরি-ছিনতাই রোধে জেলা পুলিশের এই বিশেষ সমন্বিত অ্যাকশন ও ঝটিকা অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে।

এছাড়া অন্যান্য অভিযানে আটক ১৭ আসামিকে বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মাহফুজুর/আমান

রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরে ফ্যামিলি কার্ড পেলেন পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ৬৬৫ জন নারী।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৪ টায় মৌলভীবাজারের জনসভা থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এসময় পীরগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে বসে থাকা উপকারভোগীরা মোবাইলে টাকা পেয়ে যান সঙ্গে সঙ্গে। এ নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন তারা। পরে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

রিতা বর্মন বলেন, ‘মোবাইলে আমি টাকা পেয়েছি। প্রতিমাসে এই টাকা পাবো। এটা আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকার হবে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’

ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়েছেন বিধবা সাহারা বান। পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে জীবন কাটে তার। টাকা পেয়ে খুব খুশি তিনি এবং ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু জানান, ‘বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে, যা প্রসংশনীয়।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি জিবা আমিনা খান জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেয়া টাকা দিয়ে নারীরা তাদের পরিবারের জন্য পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং হাইজিন খাতে ব্যয় করার সুযোগ পাবে। এতে একটি পরিবার ধীরে ধীরে উন্নত হতে থাকবে।’

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি সবার আগে বাংলাদেশ। কোন ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না।’

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে চতরা ইউনিয়নের  ৪ নং ওয়ার্ডের ৮৫৫ জনকে প্রাথমিকভাবে সিলেকশন করা হয়। পরে তার মধ্য হতে অতি গুরুত্ব বিবেচনায় ৬৬৫ জনকে চূড়ান্ত হিসেবে এই কার্ড দেয়া হলো।

আজ তারা এ মাসের টাকা পেলেন। এভাবে প্রতি মাসে তারা তাদের মোবাইলে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়ে যাবেন।

সেলিম/আমান 

নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে দুইজন নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেল পাঁচটার দিকে নগরীর কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুইজনের মধ্যে একজনের নাম মাসুদ রানা (৩০)। তিনি চাপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। অপর একজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবন নির্মাণ কাজের সুবাদে তারা ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করছিলেন। বিকেল পাঁচটার দিকে কলেজ রোড এলাকায় একটি বহুতল ভবনের লিফট স্থাপনের কাজ করছিল কয়েকজন শ্রমিক। এসময় দুই শ্রমিক আটতলা থেকে নিচে পড়ে যায়। এমতাবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

বক্তব্য জানতে চাইলে বহুতল ভবন মালিক মো. বেলাল বলেন, ভবন নির্মাণের জন্য কন্ট্রাক্টরকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তিনিই শ্রমিক নিয়ে এসেছেন। এ ঘটনায় আমার কোন ধরনের গাফিলতি নেই।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন