জুলাই আন্দোলনে লক্ষ্মীপুরে চার শিক্ষার্থী হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। চব্বিশের ৪ আগস্ট লক্ষ্মীপুর শহরের মাদাম ব্রিজ এলাকায় শিক্ষার্থী সাদ আল আফনান এবং তমিজ মার্কেট এলাকায় কাওছার হোসেন বিজয়, ওসমান পাটোয়ারী ও সাব্বির হোসেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত হন। ওইদিন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন দুই শতাধিক ছাত্র ও সাধারণ মানুষ।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিচার প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি। ফলে চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন নিহতদের স্বজনরা। তারা দান বা সহানুভূতি নয়, বরং দ্রুত বিচার চান।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে শহিদ পরিবারদের নিয়ে প্রশাসনের আলোচনা সভায় বক্তব্যে শহিদ সাদ আল আফনানের মা নাছিমা আক্তার বলেন, আমার ছেলে শহিদ হয়েছে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখন অনেকেই নির্বাচন চান, অথচ আমার ছেলের হত্যাকারীরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। সন্ত্রাসী টিপু এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমাদের দাবি- দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
শহিদ সাব্বির হোসেনের বাবা আমির হোসেন বলেন, আজ এক বছর হয়ে গেল আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার এখনো বিশ্বাস হয় না যে সে আর নেই। আমার সন্তানের হত্যাকারীরা এখনও ধরা পড়েনি। তারা ফেসবুকে নানা কিছু লিখছে, কেউ কেউ ভোটে নেমেছে। কিন্তু বিচার নিয়ে কেউ ভাবছে না। আমার ছেলে তো আর ফিরবে না, অন্তত তার হত্যাকারীদের বিচার যেন হয়- এই দাবি আমাদের।
একই দাবি জানান শহিদ কাওছার হোসেন বিজয় ও ওসমান পাটোয়ারীর পরিবারের সদস্যরাও। তারাও দ্রুত বিচার দাবি করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক মো. আরমান হোসেন বলেন ৪ আগস্ট ২০২৪ সাল সন্ত্রাসী টিপুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এতে মাদাম ব্রিজে একজন এবং টিপুর বাসার সামনে আরও তিনজন ছাত্র শহিদ হন। তিন শতাধিক ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়। শহিদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা লক্ষ্মীপুরকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলাম।
তিনি বলেন, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শহিদ পরিবারগুলো এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে লীগের নেতা-কর্মীরা ফোন করে হুমকি দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি - এসব নম্বর ট্র্যাক করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
শহিদ পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি হত্যা মামলা এবং আহতদের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে। মোট পাঁচটি মামলায় প্রায় এক হাজার এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও দেড় থেকে দুই হাজার অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, লক্ষ্মীপুরে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবার দুটি হত্যা মামলা করেছেন। এছাড়া আরও তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। থানা এলাকায় দুটি শহিদ পরিবার রয়েছে। আমরা নিয়মিত তাদের খবর রাখছি।
রফিকুল/নাঈম/