পাবনার ঈশ্বরদীতে রেলওয়ের জরাজীর্ণ চারটি ভবনে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করছেন তিন শতাধিক মানুষ। ব্রিটিশ শাসনামলে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য ঈশ্বরদী উপজেলার ফতে মোহাম্মদপুরের নিউ কলোনি এলাকায় এই ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে চারটি ভবনেরই অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে ভবন ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে রেলওয়ের পক্ষ থেকে ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারটি ভবনই জরাজীর্ণ। দেওয়ালে ফাটল রয়েছে। মেঝে ও দেওয়ালের পলেস্তারা খসে গেছে। দরজা-জানালার অবস্থাও জরাজীর্ণ। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে বাসার ভেতরে পানি পড়ে। কোনো কোনো বাসায় বিদ্যুৎ থাকলেও অধিকাংশ বাসায় বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। প্রতিটি ভবনে চারটি করে ফ্ল্যাট রয়েছে। এ হিসাবে চার ভবনে ৪৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এক ফ্ল্যাটে এক পরিবারের ৪-৫ জন সদস্য বসবাস করছেন। আবার কোনো কোনো ফ্ল্যাটে দুই পরিবারের ৫ থেকে ৭ জন মানুষ থাকছেন। এ হিসাবে ৪৮টি ফ্ল্যাটে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ মানুষ বসবাস করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের পর থেকে ভবনগুলোর পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্যত্র চলে যাওয়া শুরু করেন। এ অবস্থায় ওই এলাকায় বসবাসকারী অবাঙালিরা ভবনগুলোতে ঢুকে বসবাস শুরু করেন। তাদের দেখাদেখি কয়েকটি বাঙালি পরিবার এসব ভবনে অবৈধভাবে বসবাস শুরু করে।
চার ভবনের একটিতে ১০ বছর ধরে বসবাস করেন ইউসুফ আলী নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘খুব কষ্টে দিন কাটে। বৃষ্টির দিনে কষ্ট আরও বেশি। কেউ আমাদের খবর রাখেন না। পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুতের সমস্যা থাকে সব সময়। যাদের আয় একটু বেশি, তারা পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে নিয়েছে।’
অবাঙালি পুতুল খাতুনের জন্ম এই ভবনে। ছোট থেকে বড় হয়ে সেখানে তিনি সংসার পেতেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। অথচ কেউ আমাদের দেখেন না। আমরা এখানে খুব কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র সাব-অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ইন্সপেক্টর অব ওয়ার্ক) আতিকুর রহমান বলেন, ‘ভবন চারটিতে যারা বসবাস করছেন, তারা রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত নয়। তারা অবৈধভাবে সেখানে বসবাস করছেন। এ জন্য সেখানে আমাদের কোনো কার্যক্রম নেই।’ এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ হলেও রেলের পক্ষ থেকে এখনো ভবন চারটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি।’ রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রকৌশলী-১ বীরবল মণ্ডল বলেন, ‘ভবন চারটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’