মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প বাতিল করায় প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে সংস্থাটি ২৬০ কোটি টাকার সড়কবাতি স্থাপনের প্রকল্পটি চালু করতে চায়। এ নিয়ে সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতীয় নমনীয় ঋণের (এলওসি) আওতায় ‘মডার্নাইজেশন অফ সিটি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম এট ডিফরেন্ট এরিয়া আন্ডার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন’ প্রকল্পটি বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
প্রকল্পটির পাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬০ কোটি ৮৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। প্রকল্পটির ঋণচুক্তি ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর এবং প্রকল্পের মূল কাজ বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার শাপুরজি পালনজি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে একই বছরের ৬ জুলাই চুক্তি হয়। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম নগরের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৪৬৬ কিলোমিটার সড়ক স্মার্ট এলইডি বাতির মাধ্যমে আলোকিত হবে। যা নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকল্পটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তাই বাতিলের কারণও চসিক জানে না।
এ বিষয়ে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রকল্পটি চট্টগ্রাম শহরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এই প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মাধ্যমে ৪১টি ওয়ার্ডে সড়কবাতি স্থাপন করার কথা রয়েছে। এ কারণে চসিকের পক্ষ থেকে সড়কবাতি স্থাপনের অন্য কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, উপদেষ্টা হাসান আরিফ প্রকল্পটি বাতিল করেছেন। বর্তমানে চসিকের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছে।
প্রকল্প বাতিলের কারণে সিটি করপোরেশনের ক্ষতি সম্পর্কে সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী শাফকাত বিন আমিন বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ ডলারের মতো ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। প্রকল্পের চুক্তির মধ্যেই বিষয়টি উল্লেখ আছে। তবে সিটি করপোরেশন চায় প্রকল্পটির কাজ হোক।