মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মেয়ে হাবেজা বেগমের পিটুনিতে বাবা ময়েন শেখের (৭০) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তার হাবেজা বেগমকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় শিবালয় উপজেলার চর রঘুনাথপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার সকালে নিহত ময়েন শেখের প্রথম পক্ষের ছেলে সাঈদুল ইসলাম শিবালয় থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, বাদীর মা সূর্য্য খাতুনের মৃত্যুর পর তিনি ও তার বোন ভানু দাদার কাছে লালিতপালিত হন। প্রায় ৪০ বছর আগে পরিবার নিয়ে আলোকদিয়াচর এলাকায় আল্লাদি বেগমকে বিয়ে করে ঘর সংসার শুরু করেন। পরে নদীভাঙনে ভিটিবাড়ি বিলীন হয়ে গেলে তারা চর রঘুনাথপুরে চলে আসেন। তার বাবা ময়েন শেখ দীর্ঘ ৫/৬ বছর ধরে প্যারালাইসিসে ভুগছিলেন এবং কোনো উপার্জন না থাকায় বিভিন্ন সময় ছেলে-মেয়েদের বাড়িতে পালাক্রমে থাকতেন। হাবেজা বেগমের বিয়ে হলেও বাবার সঙ্গেই থাকতেন এবং পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায় অবস্থিত ১৬ শতাংশ জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য বাবা ময়েন শেখকে চাপ প্রয়োগ করতেন। প্রায় তিন বছর আগে সেই জমির মধ্যে ১২ শতাংশ জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার পরও বাবাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তিনি। সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বাবার ঘরে অবস্থানকালে জমি ফেরত ও জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে হাবেজা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কাঠের চলা দিয়ে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। আঘাতটি তার বাবার বাম কাঁধে লাগায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর স্থানীয়রা মরদেহ বাইরে এনে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ময়েন শেখ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামি হাবেজা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
আসাদ/মেহেদী/