বগুড়ার ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট শহরতলির বনানী-লিচুতলা ও মাটিডালী মোড় এবং শেরপুর উপজেলার ধুনট মোড়ে ফ্লাইওভার না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত তিন বছরে এসব স্থানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৩ জন। আহত হয়েছেন আরও ১৩০ জন।
গত ৯ আগস্ট রাতে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ মাকে দেখে ত্রি-হুইলারে করে বাড়ি ফিরছিলেন দুই ভাই মো. আকাশ ও মো. আরিফ। পথে শহরতলির বনানী এলাকায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তারা। একই এলাকায় গত বছর ৯ জুলাই বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত হন চারজন। গত ১৬ আগস্ট মাটিডালী মোড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এক নারী। এসব এলাকায় দুর্ঘটনা প্রায় নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকরা বলছেন, ফ্লাইওভার না থাকায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। মাটিডালী মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘আমার চোখের সামনে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।’ ত্রি-হুইলার চালক মো. সজিব জানান, ‘গত তিন বছরে শুধু এই মোড়েই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ওই তিনটি পয়েন্টে অন্তত ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের এসপির দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকলেও দুর্ঘটনা ঠেকানো যাচ্ছে না। পথচারী, যাত্রী ও চালকের- এমনকি সব মৃত্যুই আমাদের কষ্ট দেয়। দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয়ভাবে উঠান বৈঠক ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই তিনটি পয়েন্টের বেশ কিছু এলাকায় রাস্তার পাশে মোটর ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেটি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া অনেক জায়গায় ত্রি-হুইলার মূল সড়কেই চলছে। এটিও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ।’
সাউথ এশিয়া সাব-রিজিয়নাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) দ্বিতীয় সংযোগ সড়ক প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯২ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ হলেও প্রস্তাবিত ফ্লাইওভারগুলো এখনো নির্মাণ হয়নি। প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘ধুনট মোড়, বনানী লিচুতলা ও মাটিডালীতে ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য হবে গড়ে এক কিলোমিটার এবং এতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশল সৈয়দ মঈনুল হাসান বলেন, ‘ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস ও রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের জন্য একটি বড় প্রকল্প ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থের সংস্থান হলে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণ করা হবে ফ্লাইওভার। বগুড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় সাতটি ফ্লাইওভার, ২২টি রেলওয়ে ওভারপাস ও সাতটি আন্ডারপাস নির্মাণে ওই প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে।’