গাজায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪১ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৬১ হাজার ১৫৬-তে। এ পর্যন্ত মোট আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫০৩ জন।
গাজায় বুধবার ইসরায়েলের চালানো সর্বশেষ তিন হামলায় ২০ জনেরও বেশি নিহত হন। তাদের মধ্যে ১৫ জন আশ্রয়হীন ছিলেন। তাদের তাঁবুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। ঘটনাটি ঘটেছে গাজা সিটিতে। অবরুদ্ধ উপত্যকাটির আল শিফা হাসপাতালের এক সূত্র ওই তথ্য জানায়।
শহরের অন্যান্য স্থানে দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। মূলত এক বহুতল ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। আর সে হামলাতেই প্রাণ হারান ওই দুজন। তথ্যটি আল-জাজিরার এক প্রতিবেদক নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ড্রোন হামলা চালিয়ে আরও চারজনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের এক সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল হয়ে দাঁড়িয়েছে যে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন কট্টর ইসরায়েলি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপের হওয়া বাণিজ্য চুক্তির অংশবিশেষ স্থগিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ভন ডের লিয়েন বলেন, ইউরোপীয় কমিশন সাময়িকভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে পারে। তবে এ সমর্থন বন্ধের প্রভাব দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পড়বে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ভন ডের লিয়েন হুঁশিয়ারি দেন, ইসরায়েলের দুর্ভিক্ষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘গাজায় যা হচ্ছে তা বিশ্বের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে: মানুষ খাবার চাইতে গিয়ে মারা যাচ্ছে, মায়েরা নিষ্প্রাণ সন্তানের লাশ জড়িয়ে ধরে থাকছেন। এই ছবিগুলো সাদামাটাভাবে বিপর্যয়কর। শিশুদের জন্য, মানবিকতার জন্য- এটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’
গাজায় এখনো ক্ষুধা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুসহ আরও পাঁচ ফিলিস্তিনি তীব্র অপুষ্টিতে মারা গেছে বলেও জানিয়েছে অবরুদ্ধ উপত্যকাটির সূত্রগুলো। সূত্র: আল-জাজিরা