ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া স্থলবন্দর। এই দুই বন্দরকে কেন্দ্র করে অন্তত সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু প্রায় ৫ মাস যাবত বন্দর দুটি বন্ধ রয়েছে। ফলে অর্থাভাবে কষ্টে দিনযাপন করছেন শ্রমিকরা। বন্দরে চলছে সুনশান নিরবতা। অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
অথচ ১৯৭৯ সালে কড়ইতলী ও ১৯৯৭ সালে গোবরাকুড়া শুল্ক স্টেশনের মধ্য দিয়ে ভারত থেকে কয়লা আমদানি শুরু হয়। এতে কয়লা বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়। শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা দেয় প্রাণচাঞ্চল্য।
২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর স্থলবন্দর দুটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এতে সারাবছর আমদানি-রপ্তানি হওয়ার স্বপ্ন দেখে বন্দর কেন্দ্রীক ব্যবসায়ীরা।
কিন্তু ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত একটি মামলার কারণে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। তবে মাঝে আদালতের নির্দেশনা পাওয়ায় কিছুদিন কয়লা আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। ২০২৩ সালের ১১ মার্চ পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়। একই বছরের এপ্রিলে ভারত থেকে মাত্র ৯৬৪ টন কয়লা আমদানি হয়। এরপর আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। এভাবে কয়লা আমদানি শুরু আর বন্ধের খেলা চলতে থাকে। এরমধ্যে বছরের ছয় মাস কয়লা আমদানি বন্ধ থাকে। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বিপাকে পড়ে শ্রমিকরা। চলতি বছরের ৮ মে থেকে কয়লা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শ্রমিকরা।
স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, কয়লাগুলো শুধুমাত্র ইটভাটার জন্য আমদানি করা হয়। বছরের ছয় মাস বন্দরে কয়লা বেচা-কেনা চলে। দীর্ঘদিন কয়লা আমদানি বন্ধ থাকার পর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে পুরোদমে কয়লা আমদানি শুরু হয়। ওই দিন থেকে চলতি বছরের ৮ মে পর্যন্ত দুই স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৩৮ হাজার টন কয়লা এসেছে। এর মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে দুই হাজার টন ও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৮ মে পর্যন্ত ৩৬ হাজার টন কয়লা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশে চালু থাকা স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম টানা সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কোনোটি আটদিনও বন্ধ থাকবে। তবে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করতে হয়নি। কারণ, চলতি বছরের ৮ মে থেকে এই স্থলবন্দর দুটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সারাবছর দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরে শ্রমিক-ব্যবসায়ী, কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকলেও ময়মনসিংহে এর বিপরীত চিত্র বিরাজ করছে। অন্য বন্দরের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা টাকা আয় করে ফুরফুরা মেজাজে দুর্গাপূজার বন্ধের সময়টুকু ঘুরে বেড়াবে।
কড়ইতলী স্থলবন্দরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন পার্থ দাস। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থলবন্দরের আমদানি বন্ধ থাকায় গুটিকয়েক শ্রমিক বিভিন্ন কাজ করে কোনোরকমে পরিবারের ভরণ-পোষণ করতে পারলেও বেশিরভাগ শ্রমিক কাজের অভাবে বেকার রয়েছে। সারাবছর বন্দর সচল থাকুক, এটাই আমার চাওয়া।
কড়ইতলী-গোবরাকুড়া আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের (ব্যবসায়ী সংগঠন) সাধারণ সম্পাদক অশোক সরকার অপু বলেন, কয়লা ছয় মাসের বেশি বিক্রি হয় না। নিজেরা লাভবান হতে এবং বন্দরের কার্যক্রম চালু রাখতে পাথর আমদানির ওপর জোর দিচ্ছি। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ী রাজি হলেও অনেকে রাজি হচ্ছে না। কারণ পাথরের পর্যাপ্ত ক্রেতা পাওয়া যাবে কি না, এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তবে আশা করছি, সব ব্যবসায়ীদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাথর আমদানি শুরু করা যাবে।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাটের কড়ইতলী-গোবরাকুড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ বলেন, সারাবছর কয়লা ও পথর আমদানি হলে বন্দরে কার্যক্রম চাঙা থাকবে। এতে সরকারও মোটা অংকের রাজস্ব পাবে।
কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ/মাহফুজ