চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারগুলোতে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও খুচরা পর্যায়ে আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্ধিত দামে বিক্রির সঠিক কারণও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বন্দরের বর্ধিত মাশুলের প্রভাব ভোগ্যপণ্যের বাজারে পড়েনি। তারপরও খুচরা পর্যায়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এমনভাবে চলতে থাকলে আসন্ন রমজানে বাজার অস্থির হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর মিলমালিকরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেন। পরদিন ১৪ অক্টোবর থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকার পরিবর্তে ১৯৫ টাকায়, খোলা সয়াবিন ১৬৯ টাকার পরিবর্তে ১৭৭ টাকায় ও খোলা পাম অয়েল ১৫০ টাকার পরিবর্তে ১৬৩ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়।
এই ঘোষণার পর থেকেই পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলে ২ টাকা ৪১ পয়সা বেড়ে ১৬১ টাকা ৫০ পয়সায় ও পাম অয়েলে ২ টাকা ৪১ পয়সা বেড়ে ১৪৭ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি হয়। এদিকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯০ টাকায়, খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকায় ও পাম অয়েল ১৬৫ টাকায় বিক্রি শুরু করেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
তবে মিলমালিকরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও সরকার এ বিষয়ে সম্মতি জানায়নি। বরং গত ১৫ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আপত্তি জানায়। এ কারণে সপ্তাহখানেক আগে থেকে খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেলের বাজার নিম্নমুখী হয়। সে সময় লিটারে ২ টাকা ৪৩ পয়সা কমে খোলা সয়াবিন ১৫৯ টাকা ১৬ পয়সায় বিক্রি হয়। দামটি এখনো অব্যাহত আছে। তবে গত এক সপ্তাহে পাইকারিতে দুই দফা কমেছে পাম অয়েলের দাম। গত ২৪ অক্টোবর লিটারে ১ টাকা ৯২ পয়সা কমে ১৪৫ টাকা ১৭ পয়সায় বিক্রি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) লিটারে নতুন করে ৯৬ পয়সা কমে পণ্যটি লিটারপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪৪ টাকা ২১ পয়সায়।
পাইকারিতে ভোজ্যতেলের বাজার নিম্নমুখী থাকলেও এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েনি। বরং খুচরায় আগের চেয়ে বাড়তি দরে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল বিক্রি করতে দেখা গেছে। নগরের কাজীর দেউড়ি, হালিশহর, পূর্ব নাসিরাবাদ ও ঈদগা এলাকার অলিগলির খুচরা দোকানগুলোতে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা, পাম অয়েল ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব এলাকায় বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দাম চাইতে দেখা গেছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম চার মাসের ব্যবধানে কমতির দিকে রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের বুকিং রেট ছিল ১ হাজার ৩০৭ ডলার। বর্তমানে চলছে ১ হাজার ৩১ ডলার। তবে একই সময়ের ব্যবধানে পাম অয়েলের বুকিং রেট সামান্য বেড়েছে। জুলাইয়ে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম অয়েলের বুকিং রেট ছিল ৯৭৬ ডলার। বর্তমানে পণ্যটির বুকিং রেট চলছে ১ হাজার ৫১ ডলার।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত মাশুলের প্রভাব এখনো খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্যের বাজারে পড়েনি। সবকিছু এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। ভোজ্যতেলের দামও কমতির দিকে রয়েছে। তবে সরকার যদি মাশুল স্থগিত না করে, তাহলে রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।’
একই কথা বলেছেন চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বর্ধিত মাশুল দিয়েই আমদানিকারকরা ভোগ্যপণ্য খালাস করছেন। এখনো পণ্য ডেলিভারিও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এর প্রভাব এখনো বাজারে পড়েনি। ভোগ্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে হলে মাশুলের বিষয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা কোনো পণ্যের দাম একবার বাড়াতে পারলে সেটা আর কমাতে চান না। খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দাম নিলে অবশ্যই সেটা জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাদের খতিয়ে দেখতে হবে। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তখনই এর সুফল ভোক্তারা পাবেন।’