অসময়ে বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাইশারী ইউনিয়নের উত্তর নাজিরপুর গ্রামজুড়ে। আজ শুক্রবার ৮টার দিকে সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী ওই গ্রামের আবু বকরের ঘরটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মুহূর্তেই তার বসতঘর, গাছপালা আর পরিবারের বহু বছরের আশ্রয় চলে যায় নদী গর্ভে।
বাইশারী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরিদ হোসেন বলেন, সকাল ৮টার দিকেই হঠাৎ করে নদীর পাড় থেকে মাটি ধসে পড়তে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রায় ৫০ শতক জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে নদীতে হারিয়ে যায় মো. আবু বকর ঘরামির বসতঘর, ফলদ ও বনজ গাছপালা সবকিছু।
ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী ও আবু বকরের স্বজন ওয়াসিম মৃধা বলেন, ‘ভোরের দিকে হালকা শব্দ হচ্ছিল। একটু পরই দেখি ঘরের পাশের জমি ধসে যাচ্ছে। আমরা দৌড়ে গিয়ে সবাইকে সরিয়ে আনলাম কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো বাড়িটাই নদীর মধ্যে চলে গেল। এখন আমার শ্বশুরের ঘরও ভাঙনের মুখে।
নিজের সর্বস্ব হারিয়ে বাকরুদ্ধ মো. আবু বকর ঘরামি বলেন, ‘আমাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু নদীতে চলে গেল। পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব? জমি-জিরাত, ঘরবাড়ি কিছুই রইল না। আমরা আজ একেবারে সহায় সম্বলহীন।’
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা নদীতে ভাঙন নতুন নয়। প্রতি বর্ষায় নদীর গতিপথ বদলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এবার ভাঙনের তীব্রতা এত বেশি যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় একটি অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানায়, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের জন্য একটি দল পাঠানো হবে। প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে জরুরি সহায়তাও দেওয়া হবে।
সবুজ/মাহফুজ