ছয় দিন আগে সিলেট অঞ্চলের সুনামগঞ্জ ও ছাতকে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি ফল্ট। এবার সিলেটে ও মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই বার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এবার উৎপত্তিস্থল ডাউকি নয়, সিলেটের বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ২টা ৫০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম ভূকম্পনটি অনুভূত হয়। দ্বিতীয় ভূকম্পন অনুভূত হয় রাত ২টা ৫৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, দুটো ভূমিকম্পে মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ এবং ৩ দশমিক ৫। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুটো ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে সিলেট ও মৌলভীবাজারের আশেপাশের এলাকা।
বৃহস্পতিবার সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসেন জানান, প্রথম ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের বিয়ানীবাজারে ও দ্বিতীয়টির উৎপত্তিস্থল মৌলভীবাজারের বড়লেখায়।
ভূকম্পনের মাত্রা মৃদু হওয়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঘুমের মধ্য অনেকে টেরও পাননি। তবে ভূমিকম্পের নতুন উৎপত্তিস্থল বিয়ানীবাজার ও বড়লেখা হওয়ায় এ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক রয়েছে।
১৮৯৭ সালে ‘গ্রেট আসাম ভূমিকম্প’ কিংবা ১৯১৮ সালের ভূমিকম্প এ অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি আমূল পাল্টে দিয়েছিল।
ভূমিকম্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানা গেছে, ডাউকি ফল্ট প্রায় ৩০০ কিলোমিটার লম্বা। ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লেট বাউন্ডারি এরিয়ায় অবস্থিত। যেখানে ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা প্লেটের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। মেঘালয়ের শিলং মালভূমির দক্ষিণ প্রান্ত বরাবর, সোজা পূর্ব-পশ্চিমে ৩০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ সিলেট অঞ্চল এই ফল্টের প্রায় ফ্রন্টলাইনে। ইন্ডিয়ান প্লেট একদিকে ধাক্কা দিচ্ছে, ইউরেশিয়ান আর বার্মা প্লেট অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে চলছে চাপাচাপি। চাপ বেশি হলেই ফল্টলাইনে স্লিপ হয় আর তা থেকে হয় ভূমিকম্প। মাত্রাভেদে ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১৮৯৭ সালে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।
এ নিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর খবরের কাগজে ‘ডাউকি জিন্দা হ্যায়’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
ডাউকি ফল্ট নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ডাউকি ফল্টের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির কথা যদি বলেন,তাহলে বাংলাদেশ অনেকটা রিস্ক জোনে আছে। কারণ ডাউকি হলো সবচেয়ে অ্যাকটিভ ফল্ট। আর্থকোয়েক ইনটেনসিটি অথবা ফ্রিকোয়েনসিটি অব আর্থকোয়েক অথবা লেভেল অব আর্থকোয়েকের কথা চিন্তা করলে সব দিক থেকেই ডাউকি ফল্ট এগিয়ে আছে। এখানে ভূমিকম্পের শঙ্কা সবচেয়ে বেশি। রিস্ক বা ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে বলি, যেটাকে গবেষণার ভাষায় বলা হয় আর্থকোয়েক ভালনারেবিলিটি, তাহলে সিলেটের তুলনায় ঢাকা বা গাজীপুর অঞ্চল মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে।’
অমিয়/