প্রবাদ আছে চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে প্রবাসী। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স দেশে পাঠালেও তারা যথাযত মূল্যায়ন পান না। তবে এবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত তারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের প্রায় ৫০ হাজার প্রবাসী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
কয়েকজন প্রবাসী জানান, জাতীয় নির্বাচনে পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে নিজের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারা আনন্দের বিষয়। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মতো প্রবাসীরাও মূল্যায়িত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা বলেন, ‘পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এটা প্রত্যেক প্রবাসীর জন্য আনন্দের। এবার অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারেননি। প্রথমবার চালু হওয়ায় অনেকে সুযোগটা গ্রহণ করতে পারেননি। তবে আগামীতে প্রবাসী কেউ বাদ যাবে না। সবাই সচেতন হচ্ছেন। প্রবাসীরা ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন।’
দুবাই প্রবাসী ওসমান গণি আলমগীর মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো সরকারই আমাদের এই দাবি গুরুত্ব দেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার এই দাবিকে মেনে নিয়েছে। তারা আমাদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ।’
সৌদি আরব প্রবাসী লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘ভোট দিতে পারব এটা ভাবতেই আনন্দ লাগছে। বাংলাদেশে ভোটের দিন আমাদের এখানেও মনে হবে আমরা দেশের ভোটকেন্দ্রেই রয়েছি।’
জার্মান প্রবাসী শেখ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ‘উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশও এই পদ্ধতি চালু করেছে। জার্মানিতে প্রচুর বাংলাদেশি আছেন। তাদের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। পোস্টাল ভোট শতভাগ সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। কিন্তু দেশের ভোট অবাধ হবে কি না সেটা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের ইউইয়র্কে থাকেন মোহাম্মদ খুরশেদুল আলম। দীর্ঘ প্রবাস জীবন তার। প্রতিবছর একবার দেশে আসেন। পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন মোট ৪৭ হাজার ৩৪৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৪ হাজার ৭৮৬ জন এবং নারী ২ হাজার ৫৬০ জন। এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৭৬৯ জন ভোটারের আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। তবে এখনো ৮ হাজার ৫৭৮ জন ভোটারের আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে বাকি আবেদনগুলোও দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হবে।