ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল? মেসি-দ্যুতিতে রঙিন বিশ্ব ভুল পরিকল্পনায় ঝুলে গেল মন্ত্রীদের জন্য মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প মেসিতে মাতাল বিশ্ব বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ বিশ্বকাপে অভিষেকেই বিরল ভৌগোলিক কৃতিত্ব উজবেকিস্তানের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ‘রোডমার্চ’ ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ নদী খননের মাটির নিচে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের ‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’ ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার ১৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল
Nagad desktop

জয়পুরহাটে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ বন্ধে ভোগান্তি

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:১২ পিএম
জয়পুরহাটে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ বন্ধে ভোগান্তি
জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সামনে রোগীদের জটলা। কেউ জয়পুরহাট শহরের বাসিন্দা, কেউ এসেছেন দূরবর্তী উপজেলা থেকে। আবার কারও বাড়ি পার্শ্ববর্তী নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলায়। সবাই এসেছেন জলাতঙ্কের টিকার (র‌্যাবিস ভ্যাকসিন) খোঁজে। কিন্তু টিকাকেন্দ্রের কাঁচের দরজায় একটি কাগজে লেখা ‘সরকারি ভ্যাকসিনের সাপ্লাই বন্ধ’। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরাও একই কথা বলছেন। 

এতে সেবাপ্রার্থীরা পড়েছেন বেকাদায়। বাধ্য হয়ে তারা হাসপাতালের বাইরে যান। একাধিক ফার্মেসিতে গিয়ে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের খোঁজ করেন। কিন্তু তাদের কাছেও ভ্যাকসিনটি নেই। জানালেন, বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিগুলোও পর্যাপ্ত জলাতঙ্কের টিকা দিচ্ছে না। কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া গেলেও সংকটের অজুহাত দেখিয়ে তারা বাড়তি দাম চাচ্ছেন। ওই দামেই কেউ টিকাটি কিনে হাসপাতালে গিয়ে শরীরে পুশ করছেন। যাদের সামর্থ্য নেই তারা ফিরে যাচ্ছেন। কেউ আবার অন্য জেলায় খোঁজ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুকুর, বিড়াল ও শেয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন দুই শতাধিক সেবাপ্রার্থী জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের খোঁজে আসছেন। এমনকি পার্শ্ববর্তী নওগাঁর ধামইরহাট ও বদলগাছী উপজেলা থেকে এখানে রোগী আসতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালটিতে ভ্যাকসিনটির সরবরাহ নেই। এমনকি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির উৎপাদিত ভ্যাকসিনও ফার্মেসিতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। এতে সেবাপ্রার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে জীবনরক্ষাকারী এসব টিকা সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই শ রোগী জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসেন। প্রতি মাসে হাসপাতালটিতে গড়ে এক হাজার করে ভ্যাকসিন আসে। একটি ভ্যাকসিন চারজনকে দেওয়া যায়। তবে ভ্যাকসিনটি খোলার পর ছয় ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহার করতে হয়। যদিও গত দুই সপ্তাহ ধরে ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কল্পনা বেগম। বাড়ি জেলার আক্কেলপুরের জামালগঞ্জে। ১৬ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে তিনি এখানে জলাতঙ্কের টিকার খোঁজে এসেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকা পাননি। তিনি বলেন, ‘আমার নাতিকে কুকুরে কামড়েছে। হাসপাতালে এসে কোনো চিকিৎসা পেলাম না। অনেক দোকান (ফার্মেসি) ঘুরেও ভ্যাকসিন পাইনি। বড় বিপদে পড়ে গেলাম। এই হাসপাতাল থেকে তাহলে লাভ কী?’

টানা তিন দিন ধরে হাসপাতালে এসে টিকা না পেয়ে হতাশ আমিনা বেগম। তিনি এসেছেন নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার সাগরপুর গ্রাম থেকে। নওগাঁ সদরের তুলনায় জয়পুরহাট তুলনামূলক কাছে হওয়ায় তিনি এখানে এসেছেন। চিকিৎসা না পেয়ে আতঙ্কে থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে কুকুরে কামড়েছে। তিন দিন থেকে এই হাসপাতালে ঘুরছি। কিন্তু টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। জয়পুরহাট শহরে খুঁজেও পাইনি। বুঝতে পারছি না, এখন কী করব?’

একই জেলার ধাইমইরহাটের মঙ্গলবাড়ির জেসমিন আক্তার বলেন, ‘কুকুর কামড়ানোর পর হাসপাতালে এসে শুনি ভ্যাকসিন দেওয়া বন্ধ। কবে আসবে সেই তথ্যও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিতে পারছে না। এখানকার ফার্মেসিতে খোঁজ করেও পাইনি। আমরা গরিব মানুষ তাহলে চিকিৎসা নেব কীভাবে? সরকারের কাছে অনুরোধ, দয়া করে দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহের ব্যবস্থা করুন।’

সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন জেলা শাখার সভাপতি অধিকারকর্মী নুর-ই-আলম বলেন, ‘বেশ কয়েক দিন ধরে শুনছি জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। তবে এখনো ভ্যাকসিন না আসায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের যে সেবা পাওয়ার কথা তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকেই ভ্যাকসিন না পেয়ে বেশি টাকা খরচ করে অন্য জেলায় যাচ্ছেন। সরকারের কাছে আহ্বান, দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হোক।’

জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, ‘এই হাসপাতালে জয়পুরহাটসহ আশপাশের জেলা থেকেও রোগীরা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসেন। বর্তমানে ভ্যাকসিনটির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদা পাঠিয়েছি।’ আশা করছি শিগগিরই সরবরাহ শুরু হবে। তখন রোগীদের চাহিদা মেটানো যাবে।

তিনি বলেন, ‘বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিনটি কিনে আনলে আমরা সেটা রোগীদের শরীরে পুশ করে দিচ্ছি।’

বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু
বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত শহীদ।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ শহীদ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ পুঁইছড়ি ফুটখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে থানা পুলিশ শীলকূপ ইউনিয়নে মহল্লাপাড়া এলাকা থেকে দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।

দুর্ঘটনায় নিহত হন মোহাম্মদ শহীদ (২৭)। কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা। আহত হয়েছেন আরেক আরোহী আরিফ আবদুল্লাহ (২৫), তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী কালু ফকির পাড়া নাজির হোসেনের পুত্র। 

পুলিশ জানায়, চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা বাঁশখালী থানার এসআই জামাল হোসেন, কনস্টেবল ওয়াসিম ও কনস্টেবল রাসেলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে সেটি না থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

দায়িত্বরত এসআই জামাল হোসেন জানান, পালানোর সময় মোটরসাইকেল আরোহীরা একটি কমলা রঙের ব্যাগ ফেলে যায়। পরে ওই ব্যাগ তল্লাশি করে ২০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। 

তিনি আরও জানান, তারা মোটরসাইকেলটির পিছু নিলেও কিছুদূর যাওয়ার পর সেটি দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়। পরে মোটরসাইকেলটি শীলকূপ ইউনিয়নের মহল্লাপাড়া এলাকায় গিয়ে স্পিডব্রেকারে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদের মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করা হলেও ধাওয়া-পিছু নেওয়া নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ বলছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি রবিউল হক জানান, পুলিশ চেকপোস্টে ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

শফকত হোসাইন চাটগামী/অন্তরা

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বারইপাড়া নিজ গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ৩৪৯ জন সেবাগ্রহীতার হাতে ফ্যামিলি কার্ড ও তাল গাছের চারা তুলে দেন।

বুধবার (১৭জুন) বুধবার সারাদেশের ২০টি উপজেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন এর সভাপতিত্বে এ সময় জেলা পুলিশ সুপার আশিস বিন হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ  উপস্থিত ছিলেন। পরে আইনমন্ত্রী সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বারইপাড়া জিকে খালের পাড়ে বারইপাড়া থেকে বালিয়াডাঙ্গা মাঠ পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। 

আলমগীর অরণ্য/তামান্না রুপা/

শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলার কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে র্দীঘ সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমান। এ সময় শিশুদের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পড়াশোনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দুই উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় কাটান তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের কন্যা মেহভীন রহমান মুনিয়ার উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
আড্ডার শুরু থেকেই প্রাণবন্ত ছিলেন জাইমা রহমান। শিশুদের একজন একজন করে কাছে ডেকে স্বপ্ন, ইচ্ছা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চান। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও জীবনদক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তিনি নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা শিশুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন।

একপর্যায়ে শিশুদের কাছে জানতে চান, তারা রান্না করতে পারে কি না। কয়েকজন শিক্ষার্থী ইতিবাচক উত্তর দিলে তিনি মজা করে বলেন, একদিন তাদের এলাকায় গেলে কী খাওয়াবে। শিশুরা জানায়, তারা বিরিয়ানি রান্না করবে। উত্তরে জাইমা রহমান হাসিমুখে বলেন, বিরিয়ানির সঙ্গে ইলিশ মাছও হলে মন্দ হয় না।

রামধননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান ওসমান রাহিন বলে, ‘খুব ভালো লেগেছে। এত কাছ থেকে উনার সঙ্গে কথা বলব, ভাবিনি। তিনি আমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করতেও বলেছেন।’

সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বাবলী বলেন, ‘শিশুরা প্রধানমন্ত্রী কন্যার সঙ্গে অসাধারণ সময় কাটিয়েছে। তিনি প্রতিটি শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন। এতে শিশুরা অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছে।’

আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. দৌলত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা নিজেদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ পেয়েছে।’

ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘আমরা আশা করিনি তিনি এত দীর্ঘ সময় শিশুদের সঙ্গে কাটাবেন। প্রতিটি শিশুর কথা শুনে তাদের উৎসাহ দিয়েছেন। এটি শিশুদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।’

চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা
ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমারের নাগরিক তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী চট্টগ্রামে এইচআইভি এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চট্টগ্রামের সঙ্গে তাদের ভাষাগত মিল থাকায় তারা সহজেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলার মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। তাতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে চট্টগ্রামের মানুষ। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের উদ্যোগে ‘সাংবাদিকদের সাথে মানবাধিকার ও এইচআইভিবিষয়ক কর্মশালা: বাংলাদেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল এইচআইভি-সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করা।

কর্মশালায় রিসোর্স পারসন ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. জোনায়েদ মাহমুদ খান। তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে, অর্থাৎ গত বছর ২১৭ জন রোহিঙ্গা এইডস রোগী চমেক হাসপাতালে এসেছিল। তার আগের বছর এসেছিল ২১৫ জন। তাদের কক্সবাজারের উখিয়া এআরটি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামে অবাধে চলাফেরা করে। কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তখন আমরা চিকিৎসা দিয়ে উখিয়া সেন্টারে পাঠাই। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসে না এ রকম রোগী বাইরে কতজন ঘোরাফেরা করছে, আমাদের জানা নেই। এসব রোগী মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।’ 

তথ্য হিসাবে জানানো হয়, ২০২৫ সালে সারা দেশে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে ২১৭ জন ছিল রোহিঙ্গা। আর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে ৩ হাজার ৯৪২ জনকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে পজিটিভ ছিল ৮১ জন, নেগেটিভ ৩ হাজার ৮৬১ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী। এই রোগীদের মধ্যে ১৫ জন মারা যায়। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক জোনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, যে ব্যক্তি ১৫ বা ২০ বছর বয়সে আক্রান্ত হয়, তার শরীরে এইডস প্রকাশ পেতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির শরীরে এইডসের জীবাণু শনাক্ত হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে। যথাযথ চিকিৎসা নিলে এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি সুস্থভাবে ও স্বাভাবিকভাবে ঘরসংসার করতে পারে। এমনকি তারা সন্তানও জন্ম দিচ্ছে। সন্তানদের শরীরে এইচআইভির জীবাণু নেই। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষের ফল। এই ইতিবাচক দিকের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক তরুণ-তরুণী বেপরোয়া জীবনযাপন করে। কারণ তারা জানে এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে এখন সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা যায়। 

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এইচআইভি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদমাধ্যম জনগণের ধারণা ও মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ভূমিকা রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরা এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মিডিয়ার দায়িত্ব অপরিসীম। দায়িত্বশীলতার অভাবে গণমাধ্যম কখনো কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এ ছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন কিংবা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত ও চাঞ্চল্যকরভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই এইচআইভি-সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। 

কর্মশালায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নাহিদ), সহকারী অধ্যাপক ডা. বর্ণালী বড়ুয়া, ডা. অজয় কুমার ঘোষ, ডা. সামিরা জামাল, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সিফাত সায়মা প্রমুখ।

তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত

খুলনার সোনাডাঙ্গায় পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে অমানষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় তাকে গরম কড়াই দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয়। এর আগে তাকে কান ধরে ওঠবস ও মারধর করা হয়। গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ওই ঘটনা পাশের ভবনের ছাদে অবস্থান করা একজন সংবাদকর্মীর ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর নাম মোসাম্মৎ মিলন (১৮)। তিনি নরসিংদীর বাসিন্দা। তিনি অভিযুক্ত সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্রের বাসায় কাজ করেন এবং সেখানেই থাকেন।

এদিকে গৃহকর্মীর ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনা জানাজানি হলে বিভিন্ন নারী সংগঠন, সংবাদকর্মী ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই বাড়ির সামনে জড়ো হন। এ সময় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নির্যাতিত ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি ও কড়াই দিয়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এই নির্মম ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করলেও অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে আটক না করায় ক্ষোভের মুখে পড়েন ডিউটিরত পুলিশ কর্মকর্তারা। স্থানীয়রা বলেন, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ এই বাড়িতে আসার পর এএসআই সঞ্জয় মিত্র তাদের সঙ্গেই ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি হেঁটে সোলার পার্কের মধ্যে চলে যান। তার স্ত্রী পপি মিত্র সে সময় বাসার ভেতরে ছিলেন। কিন্তু থানা থেকে আসা পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক না করায় স্থানীয়রা পুলিশের গাড়িটি ঘিরে ধরে এবং তীব্র নিন্দা জানায়।

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই সঞ্জয় মিত্র এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি না হলেও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্র জানান, রান্নার সময় গৃহকর্মী কড়াইয়ের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি বলেন, শুধু ওই গৃহকর্মী নয়, তিনি তার ছেলেকেও মারধর করেছেন।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, কাজের মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ভিকটিম ও অভিযুক্তদের থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।