ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কিয়েভের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১১ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বিমানের ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু ২৭ জুলাই দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র গাজীপুর: সেমিনারে বক্তারা জুলাই হত্যা মামলায় আবুল বারকাতের জামিন নামঞ্জুর প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইথিওপিয়ায় বাস খাদে পড়ে ২৮ জন নিহত মাগুরায় আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু আইফোনের ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ এয়ারপডসে হাংচৌতে চায়না এআই উদ্যোক্তা সম্মেলন শুরু রংপুরের বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম ইসাক-গাইকোরেস রসায়নে মুগ্ধ কোচ পটার মাগুরার জেলা প্রশাসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর দিল্লির ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব চীনে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষের রক্তদান বাজেট কি শিশুবান্ধব ও শিশুর খাতে দৃশ্যমান? পেকুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ হল ছাড়লেন জাকসুর জিএস, সময় চাইলেন ভিপি হোটেল হলিডে ইনে ম্যাচডে ফিস্ট বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও বৃক্ষরোপণ জন-আকাঙ্ক্ষার বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে এসে ২০ বছরের তরুণীকে বিয়ে করলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাতের নাগরিক তুমিও হারিয়ে যাও আমাজনের জঙ্গলে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র আমরা সব ইরানির জন্য খেলি: তারেমি কালীগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার ঘিরে মুখোমুখি বিএনপির দুই গ্রুপ ক্যারিয়ার গড়ুন সীমান্ত ব্যাংকে ত্রিশালে সরকারি বইসহ পিকআপ জব্দ, পলাতক মাদরাসা সুপার অবশেষে মায়ামিতে উরুগুয়ে দল খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
Nagad desktop

মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজশাহী

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১২ পিএম
মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজশাহী
শীতের তীব্রতায় আগুন পোহাচ্ছেন রাজশাহীর মানুষ। ছবি: খবরের কাগজ।

উত্তরের জনপদ রাজশাহীতে শীত যেন সবকিছু থমকে দিয়েছে। টানা ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর সূর্যহীন থাকায় জেলায় জেঁকে বসেছে শীতের প্রকোপ।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিল শতভাগ।

গত চার দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই পদ্মা পাড়ের এই জেলায়। কুয়াশার চাদরে ঢাকা নগর ও গ্রামাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা ক্রমাগত কমে আসায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে।

শীতের সবচেয়ে বড় আঘাত এসে পড়েছে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর। কাজের খোঁজে ভোরে নগরীতে ছুটে এলেও ফিরতে হচ্ছে হতাশা নিয়ে। চারঘাট উপজেলা থেকে তালাইমারী এলাকায় আসা দিনমজুর সাজদুর রহমান বলেন, এত ঠান্ডায় মানুষ ঘর থেকেই বের হচ্ছে না। কাজও নেই। আগে সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ পেতাম, এখন দুই দিনও মেলে না।

রিকশাচালক সাহেব আলীর কণ্ঠেও একই হতাশা। তিনি বলেন, হুহু করে ঠান্ডা বাতাস বইছে। শরীর কাঁপে। রাস্তায় যাত্রী কম, আয় নেই। খুব কষ্টে আছি।

নগরীর ভদ্রা বস্তিতে গিয়ে দেখা যায় আরও করুণ চিত্র। সত্তর বছরের মর্জিনা বেগম কাঁপতে কাঁপতে বলেন, গায়ে দেওয়ার মতো ভালো কাপড় নাই। আগে কেউ কেউ কম্বল দিত, এবার কেউ আসে নাই। এই শীতে বাঁচাই মুশকিল।

শীতের দাপটে বদলে গেছে নগরীর চিরচেনা চিত্রও। সন্ধ্যা নামতেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে সড়ক। বিকেলের পর থেকেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বেশিরভাগ দোকানপাট। গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও কঠিন বলে জানান বানেশ্বর এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, খোলা মাঠ আর ঘন কুয়াশার কারণে গ্রামে শীত অনেক বেশি লাগে।

শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগও। বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মেঘ ও ঝিরিঝিরি বৃষ্টির প্রভাব কেটে গেলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত সোয়া তিনটার পর থেকে শীত বাড়তে শুরু করে। ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি ছিল। কুয়াশার কারণে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো অনুভূতি হচ্ছে। রাজশাহীসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এই অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে।

এনায়েত করিম/নাঈম

দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র গাজীপুর: সেমিনারে বক্তারা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র গাজীপুর:  সেমিনারে বক্তারা
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শিল্প ও কর্মসংস্থান কেন্দ্র গাজীপুর জেলায় মোট ৩ দশমিক ৯৪ লাখ অর্থনৈতিক ইউনিট এবং ২৫ লাখ ৩০ হাজার কর্মরত জনবল রয়েছে। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এই জেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪- ন্যাশনাল রিপোর্ট বিষয়ক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ তথ্য ও উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক  মো. নূরুল করিম ভুঁইয়া। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)  মো. শাহরিয়ার নজিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান, সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) তানিয়া তাবাসসুম এবং জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালক মাহনুমা খানম।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া শুমারির পরিধি আরও বিস্তৃত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ক্ষুদ্রতর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা পাড়া-মহল্লার ছোট দোকানগুলোকেও অর্থনৈতিক শুমারির আওতায় আনা এবং তাদের কাছে এর গুরুত্ব বোঝানো প্রয়োজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে শুমারি বা সার্ভেতে জটিল শব্দ পরিহার করে সবার জন্য সহজে বোধগম্য ‘টার্ম’ বা শব্দ ব্যবহার করা উচিত। শিল্পের আধিক্য এবং শক্তিশালী এসএমই  খাতের কারণে গাজীপুর বাংলাদেশের শিল্প অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত।  

পলাশ/রিফাত/

মাগুরায় আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
মাগুরায় আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চ্যামেলী বেগম (৬০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের মোর্তজাপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত চ্যামেলী বেগম মোর্তজাপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রাব্বানীর স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজ বাড়ির ছাদের ওপর আম পাড়ার সময় হঠাৎ বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে তার শরীরের ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বর্তমানে নিহতের মরদেহ মাগুরা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। 

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক নারীর মৃত্যুর খবর পেয়েছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শ্রাবণ/রিফাত/

রংপুরের বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
রংপুরের বাজারে আসছে হাড়িভাঙ্গা আম
ছবি: খবরের কাগজ

জিআই স্বীকৃত ও স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় উত্তরের ঐতিহ্যখ্যাত হাঁড়িভাঙ্গা আম সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসছে। অতিবৃষ্টির কারণে আমের ফলন এবার কিছুটা কম হলেও নেই আগের মত চিরচেনা রং। তবুও ৩০০কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ ও আম চাষিরা।

রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের আবাদ হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বেলা ২টায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমের বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আম উদ্বোধনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই রংপুরের বাজারজুড়ে ছয়লাভ হয়েছে ভ্রাম্যমাণের বেচাকেনার। বর্তমানে এই আম পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে (কাঁচা) প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।  আর (পাকা) আম বিক্রি করছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। তবে এবার ফলন কিছুটা কম হলেও দাম গতবারের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বাড়তি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে যে হাট ঘিরে হাঁড়িভাঙার বিকিকিনি হয়, সেই হাট এলাকার ব্যবসায়ী ও আম চাষিদের মধ্যে অস্বস্তির শেষ নেই। একদিকে ফলন কম অন্যদিকে হাঁড়িভাঙার রাজধানীখ্যাত পদাগঞ্জ হাটের বেহাল দশা। বাইপাস সড়কগুলোও কর্দমাক্ত অবস্থায় দুর্ভোগের শেষ নেই। পাশাপাশি কাগজে-কলমে জিআইপণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া এই আমের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না চাষিদের।

সকালে পদাগঞ্জ এলাকা ঘুরে কথা হয়, পদাগঞ্জ বাজারের আম ব্যবসায়ী সজীব শেখ জানান, প্রতিবছর জিআইপন্য খ্যাত এই আমের হাট ৫০ লাখ টাকার উপরে ইজারা ডাক হয়। কিন্তু এই হাটটিতে এটি আধুনিক আম বিক্রির সেটের দাবি করে করা হলেও সেই দাবিটি থেকেছে উপেক্ষিত ফলে কাদামাটিতেই বিক্রি করতে হয়।

হাঁড়িভাঙ্গা আমের প্রবর্তক নফল উদ্দিন পাইকারের ছেলে ও আমচাষি আমজাদ হোসেন পাইকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শুনছি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এই আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানোর জন্য গবেষণা করছে। কিন্তু এখনো এর বাস্তব সুফল পাইনি। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরও উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি বলে ক্ষুব্ধ তিনি।’

আমজাদ হোসেন বলেন, ‘হাঁড়িভাঙ্গার রাজধানীখ্যাত পদাগঞ্জ এলাকায় রাস্তার অবস্থা খারাপ, নেই পর্যাপ্ত আবাসন, ব্যাংকিং সুবিধা কিংবা স্থায়ী বিপণন শেড। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।’

কৃষি বিভাগ ও চাষিদের মতে, জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে পরিপক্ব ও উন্নত মানের হাঁড়িভাঙ্গা আম পাওয়া যাবে। এর আগে বাজারে ওঠা আমের বেশিরভাগই অপরিপক্ব হতে পারে। প্রকৃত স্বাদ পেতে জুনের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষমুক্ত ও অতি সুমিষ্ট আঁশহীন হাঁড়িভাঙা আমের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। কয়েক বছর ধরে ফলন ভালো হওয়ায় বেড়ে চলেছে আম উৎপাদনের পরিধিও। রংপুর সদর, মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার বিস্তৃত এলাকার ফসলি জমি, বাগানসহ উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে চাষ হচ্ছে এই আম। অভাব গুছিয়ে সচ্ছলতা ফিরছে হাজারো পরিবারে। এই আমের মৌসুম ঘিরে মৌসুমীভাবে নানাভাবে কর্মযজ্ঞে জীবন জীবিকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় প্রায় ৩০ হাজার লোকের।

তবে জিআই স্বীকৃতি মিললেও এই আমের বাণিজ্যিক প্রসার নিয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের রয়েছে চাপা ক্ষোভ। চাষীদের অভিযোগ রয়েছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের দীর্ঘ সময়ের চলমান আমের লাইফলাইন নিয়ে কাজের অগ্রগতি নিয়েও।

৭০ বছর আগে ডিমলার রাজা তাজবাহাদুর সিংয়ের বাগানবাড়ি থেকে একটি কলম চারা নিয়ে এসে লাগিয়েছিলেন মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানি গ্রামের নফল উদ্দিন পাইকার। সেই গাছ থেকেই আজকের হাঁড়িভাঙ্গা আম। যা এই অঞ্চলের প্রান্তিক অর্থনীতিকে করেছে চাঙ্গা।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার রংপুর জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার  হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাঁড়িভাঙা আম প্রায় ১০ থেকে ১২ টন ফলন হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান,  শিলাবৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝড়ে পড়লেও ফলন ভালো হয়েছে। আকার বড় হয়েছে। তাই কৃষকরা পুষিয়ে উঠতে পারবেন। এবার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি হাঁড়িভাঙা বেচাবিক্রি হবে। যা এই অঞ্চলের প্রান্তিক অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের বলেন, ‘জিআইপণ্যখ্যাত হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত আজ দুপুর থেকে শুরু হবে। যেহেতু এবার একটু ফলন কম হয়েছে। সুতরাং আমের বাজার মূল্য এবার চাষিরা ভালোই পাবেন বলে মনে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবকাঠামোগত যে অসুবিধা, ব্যাংকিংসহ রাস্তাঘাট এবং নিরাপত্তা সেসব বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। কিভাবে এগুলোর সমাধান করা যায় তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এছাড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাগুলো আমরা দূর করার চেষ্টা করছি। ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল জিআই বা ভৌগলিক পণ্যের স্বীকৃতি পায় হাঁড়িভাঙা আম।’

সেলিম/রিফাত/

মাগুরার জেলা প্রশাসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
মাগুরার জেলা প্রশাসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় স্থানান্তর
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও ইনসেটে মাগুরা জেলা প্রশাসক। ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে মাগুরা জেলা স্টেডিয়াম থেকে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

এর আগে রবিবার (১৪ জুন) রাত প্রায় ১২টার দিকে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাকে রাজধানীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঢাকায় পাঠানোর সময় মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসিন উদ্দিন ফকির, জেলা সিভিল সার্জন ডা. শামিম কবিরসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জেলা প্রশাসকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

মাগুরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. শামিম কবির জানান, জেলা প্রশাসক মূলত ‘অ্যাকিউট এক্সাসারবেশন অব পেপটিক আলসার ডিজিজ (পিইউডি) উইথ সাব-অ্যাকিউট ইনটেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন’-এ আক্রান্ত হয়েছেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, তার শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় গ্যাসট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দেয় এবং পেট ফুলে যাওয়ার উপসর্গ দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো এবং স্থিতিশীল রয়েছে। তবে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কাসেমুর রহমান/নাঈম

পেকুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
পেকুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার এবিসি আঞ্চলিক মহাসড়কের টইটং বাজার এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়ি টিক্কা এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে হাসান আলী (৬৫) এবং সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার শৈলজানা এলাকার তোতা বেপারীর ছেলে আফজল সরকার (৪৫)।

আহতরা হলেন- পেকুয়া উপজেলার হরিণাপাড়া এলাকার সিরাজ (৪২), শাহেদ (২২) এবং নিহত হাসান আলীর পরিবারের সদস্য পাখি বেগম (৫৫) ও রামিম (১০)।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে চকরিয়া-পেকুয়া হয়ে চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবিসি সড়কের টইটং বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা এস আলম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অটোরিকশায় আটকে পড়া যাত্রীদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসান আলী ও আফজল সরকারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তারা মৃত্যুবরণ করেন। অপর আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দিদার হোসাইন বলেন, চট্টগ্রাম-পেকুয়া-বাঁশখালী সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন গণপরিবহন প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এছাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে সড়ক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে পেকুয়া-চট্টগ্রাম সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত না করা হলে দুর্ঘটনার মিছিল থামানো সম্ভব হবে না।

খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনার পর যানবাহন দুটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রকিবুল হাসান/রিফাত/