চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় পলিথিনে মোড়ানো দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধারের পর এবার খাল থেকে এক যুবকের কাটা দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাতের আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, যুবককে হাত-পা, মাথা ও শরীর আলাদা করে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে নগরের শহীদনগর এলাকা থেকে কেটে নেওয়া হাত ও পা উদ্ধার করা হয়। এর পর থেকেই যুবকের দেহের বাকি অংশ উদ্ধারে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে নগরের অক্সিজেন এলাকার লোহার পুলসংলগ্ন খাল থেকে মাথাসহ দেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়। তার নাম মোহাম্মদ আনিস (৩২)। তিনি রাউজানের বাসিন্দা।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরকীয়া সম্পর্ক ও অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে এসব বিষয় এখনও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত যুবকের সঙ্গে সুফিয়া নামের এক নারীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
নিহত যুবক একজন প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি কিছুদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ওই নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে পরিচয় শনাক্ত করা না যায়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা হাতের আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে রাউজান উপজেলার এক যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তার দুটি হাত বাহু পর্যন্ত কেটে নেওয়া হয় এবং পা দুটি হাঁটু থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। মাথাও কেটে ফেলা হয়েছিল।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল কবির বলেন, “বৃহস্পতিবার হাত ও পা উদ্ধারের পর নিহত যুবকের শরীরের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। পরে নগরীর অক্সিজেন এলাকার লোহার পুলসংলগ্ন খাল থেকে মাথাসহ দেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়। তাকে ছয় টুকরা করেছে ঘাতকরা। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
নিহতের এক আত্মীয় জানান, আটক এক নারীর কাছ থেকে নিহত যুবকের টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকা চাইতে যাওয়ার সময়ই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান। এলাকাবাসীর ধারণা, স্থানীয় মুসা ও সুফিয়া মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চার থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। নিহত যুবকের বাড়ি রাউজান উপজেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
আবদুস সাত্তার/এসএন