ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ নদী খননের মাটির নিচে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের ‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’ ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার ১৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথম জয়ের খোঁজে… বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো রোনালদোর পর্তুগালকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস বিশ্বকাপে প্রথম গোলে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় কঙ্গো ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের
Nagad desktop

রবিবার রাতে সোনারগাঁয়ে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান, উৎফুল্ল দলীয় নেতৃবৃন্দ

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
রবিবার রাতে সোনারগাঁয়ে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান, উৎফুল্ল দলীয় নেতৃবৃন্দ
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে তার উপস্থিতি এবং আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতৃবৃন্দ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে সভামঞ্চ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। 

বর্তমানে তারেক রহমান চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পথে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বালুর মাঠে আয়োজিত পথসভায় যোগ দেবেন। রাত সাড়ে ১১টায় তিনি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। 

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের আয়োজনে ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেওয়ার পর এ জেলার ৩,৪,৫ সংসদীয় আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, এই প্রথমবারের মতো তারেক রহমান সোনারগাঁয়ের মাটিতে পা রাখছেন। তাই প্রিয় নেতাকে এক ঝলক দেখার আনন্দ ও তার বক্তব্য শোনার আগ্রহে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা ও আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

ইতোমধ্যে কাঁচপুর বালুর মাঠে মঞ্চ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সার্বিক প্রস্তুতির কাজও প্রায় শেষের দিকে। 

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, তারেক রহমানের আগমন সোনারগাঁসহ পুরো নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। এই পথসভা আমাদের আন্দোলন ও নির্বাচনি প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে। নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের কাছ থেকে সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এই সভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত। জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সোনারগাঁয়ের মানুষ রাজপথে থাকবে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জানিয়েছেন, আজকের পথসভায় ৩,৪,৫ আসনের প্রার্থীদের চেয়ারম্যান সাহেব পরিচিত করে দিবেন। আমরা আশাবাদী আমাদের নেতার উপস্থিতিতে কাঁচপুরের মাঠটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে। 

প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এ পথসভা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন 

চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা
ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমারের নাগরিক তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী চট্টগ্রামে এইচআইভি এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চট্টগ্রামের সঙ্গে তাদের ভাষাগত মিল থাকায় তারা সহজেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলার মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। তাতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে চট্টগ্রামের মানুষ। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের উদ্যোগে ‘সাংবাদিকদের সাথে মানবাধিকার ও এইচআইভিবিষয়ক কর্মশালা: বাংলাদেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল এইচআইভি-সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করা।

কর্মশালায় রিসোর্স পারসন ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. জোনায়েদ মাহমুদ খান। তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে, অর্থাৎ গত বছর ২১৭ জন রোহিঙ্গা এইডস রোগী চমেক হাসপাতালে এসেছিল। তার আগের বছর এসেছিল ২১৫ জন। তাদের কক্সবাজারের উখিয়া এআরটি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামে অবাধে চলাফেরা করে। কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তখন আমরা চিকিৎসা দিয়ে উখিয়া সেন্টারে পাঠাই। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসে না এ রকম রোগী বাইরে কতজন ঘোরাফেরা করছে, আমাদের জানা নেই। এসব রোগী মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।’ 

তথ্য হিসাবে জানানো হয়, ২০২৫ সালে সারা দেশে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে ২১৭ জন ছিল রোহিঙ্গা। আর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে ৩ হাজার ৯৪২ জনকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে পজিটিভ ছিল ৮১ জন, নেগেটিভ ৩ হাজার ৮৬১ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী। এই রোগীদের মধ্যে ১৫ জন মারা যায়। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক জোনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, যে ব্যক্তি ১৫ বা ২০ বছর বয়সে আক্রান্ত হয়, তার শরীরে এইডস প্রকাশ পেতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির শরীরে এইডসের জীবাণু শনাক্ত হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে। যথাযথ চিকিৎসা নিলে এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি সুস্থভাবে ও স্বাভাবিকভাবে ঘরসংসার করতে পারে। এমনকি তারা সন্তানও জন্ম দিচ্ছে। সন্তানদের শরীরে এইচআইভির জীবাণু নেই। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষের ফল। এই ইতিবাচক দিকের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক তরুণ-তরুণী বেপরোয়া জীবনযাপন করে। কারণ তারা জানে এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে এখন সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা যায়। 

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এইচআইভি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদমাধ্যম জনগণের ধারণা ও মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ভূমিকা রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরা এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মিডিয়ার দায়িত্ব অপরিসীম। দায়িত্বশীলতার অভাবে গণমাধ্যম কখনো কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এ ছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন কিংবা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত ও চাঞ্চল্যকরভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই এইচআইভি-সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। 

কর্মশালায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নাহিদ), সহকারী অধ্যাপক ডা. বর্ণালী বড়ুয়া, ডা. অজয় কুমার ঘোষ, ডা. সামিরা জামাল, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সিফাত সায়মা প্রমুখ।

ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার
ছবি: সংগৃহীত

২৫ বছর বয়সী রাকিব (ছদ্মনাম) প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর তার ওজন কমতে শুরু করে। পরে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কয়েক মাস টানা চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হচ্ছিলেন না। বাধ্য হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং সার্ভিস (এইচটিসি) সেন্টারে তিনি রক্ত পরীক্ষা করান। এরপর জানতে পারেন তিনি হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাসে (এইচআইভি) আক্রান্ত হয়েছেন। 

এ বিষয়ে রাকিব বলেন, ‘প্রথমে খুব ভয় পেয়েছিলাম। রিপোর্ট দেখে মনে হয়েছিল জীবন শেষ। এখন ওষুধ খাই, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলি। সবাই জানলে কী ভাববে–মনে এখন সে ভয়টা বেশি কাজ করে।’

শুধু রাকিব নয়, সাড়ে ছয় বছরে (২০২০ থেকে ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাস) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে ১৩ হাজার ৬৮৭ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ১২২ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী, কর্মজীবী, বিবাহিত নারী-পুরুষ, এমনকি শিশুও রয়েছে। এইচটিসি সেন্টারে শনাক্ত হওয়া ১২২ জন ছাড়াও ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাসপাতাল ও এনজিওর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরও ১২৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। এর মধ্যে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ময়মনসিংহ শাখায় এইচআইভি শনাক্ত হয় ৪৬ জনের। সব মিলিয়ে এইচআইভি আক্রান্ত হন মোট ২৪৮ জন। তারা সবাই ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। এদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন। বাকি ২৪৩ জন মমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হলেও সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছেন ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী। 

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দ্রুত বৃদ্ধি

এইচটিসি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে এক হাজার জনের এইচআইভি পরীক্ষা করে একজনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২১ সালে ২ হাজার ৩৯২ জনের পরীক্ষা করে একজনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২২ সালে ১ হাজার ৭২৯ জনের পরীক্ষা করে ১০ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ২৯৬ জনের পরীক্ষা করে ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২৪ সালে ২ হাজার ২১৭ জনের পরীক্ষা করে ৩১ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২৫ সালে ২ হাজার ২৬৭ জনের পরীক্ষা করে ৪৩ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয় এবং ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ৭৮৬ জনের পরীক্ষা করে ২০ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে।

এই তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে একজন, ২০২১ সালে একজন, ২০২২ সালে ১০ জন, ২০২৩ সালে ১৬ জন, ২০২৪ সালে ৩১ জন, ২০২৫ সালে ৪৩ জন ও ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ২০ জন হয়েছেন। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়; এটি সমাজের জন্য একটি সতর্কসংকেত।

এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রোগ নয়

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের ফোকাল পারসন ডা. আরিফ মাহবুব বলেন, শুধু তরুণদের নৈতিক অবক্ষয়কে দায়ী করলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। শিক্ষার্থী, বিবাহিত নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষ যেন ভয় বা লজ্জার কারণে পরীক্ষা থেকে দূরে না থাকেন।

সমকামীদের চেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেই বেশি শনাক্ত

হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত ধারণার বিপরীতে বর্তমানে সমকামী জনগোষ্ঠীর তুলনায় সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি এইচআইভি শনাক্ত হচ্ছে। এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মো. আবদুল আল মামুন বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যেমন আক্রান্ত হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ আক্রান্ত মা-বাবার মাধ্যমে জন্মগতভাবে সংক্রমিত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, মানবদেহের নির্দিষ্ট কিছু তরল পদার্থ–যেমন রক্ত, বীর্য ও বুকের দুধের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক এবং একই সুই-সিরিঞ্জ ব্যবহারও বড় ঝুঁকি। হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন ৭ থেকে ১৫ জন আসছেন পরীক্ষা করাতে। শনাক্ত হওয়া রোগীদের প্রতি তিন মাস পরপর ফলোআপ করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা। এ ছাড়া কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতেও উদ্বেগজনক চিত্র

ট্রান্সজেন্ডার, হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। এখন সংস্থাটির ময়মনসিংহ শাখার ড্রপ-ইন সেন্টার ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল আশিক বলেন, ‘আমাদের সেন্টারে এইচআইভি পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাদের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়, তাদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছি।’

ওষুধসংকটে বাড়ছে ভোগান্তি

এইচআইভি আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে বিনামূল্যে এআরভি (ARV) ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীদের সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার জন্য আগে যে সহায়ক ওষুধ সরবরাহ করা হতো, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে তার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে রোগীদের অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধ এখন নিজ খরচে কিনতে হচ্ছে। অনেক রোগী আর্থিকভাবে দুর্বল। তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

সমাজের জন্য সতর্কবার্তা

শিক্ষাবিদ লে. কর্নেল (অব.) ড. মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা সংক্রমণ, শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এবং জন্মগত সংক্রমণের নজির–সব মিলিয়ে এটি শুধু স্বাস্থ্য খাতের নয়, পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে জানতে হবে এইচআইভি কীভাবে ছড়ায় এবং কীভাবে ছড়ায় না। নীরবে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণ ঠেকাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনের চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। ভুল ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে না পারলে সংক্রমণ প্রতিরোধ কঠিন হবে।

সচেতনতা ছাড়া বিকল্প নেই

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মুহম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, হাসপাতালে আসা প্রত্যেক রোগীকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভয় বা লজ্জার কারণে পরীক্ষা না করিয়ে রোগ গোপন রাখা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। যত দ্রুত শনাক্ত হবে, চিকিৎসার ফল তত ভালো হবে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, দ্রুত পরীক্ষা এবং নিয়মিত চিকিৎসা।

তিনি বলেন, সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার জন্য আগে যে সহায়ক ওষুধ সরবরাহ করা হতো সেগুলো রোগীরা বিনামূল্যে আবারও যাতে পান, সে ব্যবস্থা করা হবে।

বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি
ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল নগরীর অভ্যন্তরীণ গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণসংক্রান্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পর বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) নাম ব্যবহার করে প্রচারিত ওই তালিকাকে ভুয়া ও ভিত্তিহীন দাবি করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নগরবাসীকে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিসিসি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নগরীর কয়েকটি রুটের ভাড়া নির্ধারণসংবলিত একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। এতে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ওই তালিকার কপি কিছু যানবাহনেও টানিয়ে দেওয়া হয়।

প্রকাশিত তালিকায় নথুল্লাবাদ থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত ১০ টাকা, নথুল্লাবাদ থেকে জেলগেট ১৫ টাকা, নথুল্লাবাদ থেকে রূপাতলী ২০ টাকা এবং নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাট ২৫ টাকা ভাড়া উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া রূপাতলী থেকে আমতলা মোড় ১০ টাকা, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১০ টাকা এবং লঞ্চঘাট ২০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

নগরবাসীর অভিযোগ, ভুয়া তালিকাকে সামনে রেখে কিছু চালক যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছেন। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটছে।

নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা আলী আহমেদ বলেন, ‘ওই তালিকা দেখিয়ে অনেক চালক যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। বিসিসি, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের একসঙ্গে বসে একটি বাস্তবসম্মত ও আনুষ্ঠানিক ভাড়া কাঠামো নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় যাত্রী-চালক দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে পারে।’

বরিশাল সামাজিক সুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও তা সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘যে হারে ভাড়া বৃদ্ধির কথা ওই তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। দ্রুত এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা বাড়তে পারে।’

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নাম ও পদবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ভাড়ার তালিকাসংবলিত ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে, যা কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, ফটোকার্ডে উল্লেখিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। নগরীতে চলাচলকারী হলুদ অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিসিসি। একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য প্রচার ও ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।

নদী খননের মাটির নিচে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
নদী খননের মাটির নিচে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর
খুলনার ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো মাটিচাপা পড়েছে। সম্প্রতি তোলা/ খবরের কাগজ

নদী খননের মাটি সরিয়ে নিতে কালক্ষেপণের কারণে খুলনার ডুমুরিয়ায় একাধিক আশ্রয়ণ প্রকল্পে গৃহহীনদের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডুমুরিয়ার চুকনগর, বরাতিয়া ও কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর পাশেই আপার ভদ্রা নদী খনন করা হচ্ছে। নদী খননের মাটি পাড়ে ফেলার কারণে ঘরগুলো চাপা পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মাটির চাপে কারও ঘরের টিন ভেঙে পড়েছে। আবার কোথাও দেয়ালজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো ঘরের দরজা-জানালা, বারান্দা পর্যন্ত মাটিতে ঢেকে গেছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদী থেকে উত্তোলন করা মাটি কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৩টি ঘরের পাশে ফেলা হয়েছে। এতে পাহাড়সমান উঁচু মাটিতে চাপা পড়েছে ঘরের শৌচাগার, বারান্দাসহ দরজা-জানালা। যেকোনো মুহূর্তে মাটির চাপে পুরো ঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পটির বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘নদী খননের শুরুতে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, মাটি ঘরের পাশে রাখলেও কোনো সমস্যা হবে না। এরপর যখন মাটি জমতে জমতে পাহাড়ের মতো হয়ে গেল, আমরা বিষয়টি চেয়ারম্যানের কাছে জানাই। তিনি উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে কথা বলেন। কিন্তু মাটি সরিয়ে নিতে কালক্ষেপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলে মাটির চাপে ১৩টি ঘরের দরজা-জানালা টিন ভাঙতে থাকে। এখন যেকোনো মুহূর্তে ঘরগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘর ভাঙলে আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।’ 
এদিকে একইভাবে ঘর ভেঙে যাওয়ায় চুকনগর ও বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি পরিবার তাদের হাঁড়ি-পাতিল ও ঘরের মালামালসহ খোলা আকাশে নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। রোদ-বৃষ্টিতে সেখানে চরম মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় ২০২১ সালে চুকনগর, বরাতিয়া, কাঁঠালতলা এলাকায় শতাধিক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয়ণের ঘরে পুনর্বাসন করে সরকার। এলাকায় আপার ভদ্রা নদীর তীরে খাস জমি চিহ্নিত করে দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করে তাদের দেওয়া হয়। কিন্তু এখন নদী খননের সময় তাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। যশোর ও খুলনার অঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় নদী খনন করা হচ্ছে।

বরাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘যখন নদী কাটা শুরু হয়, তখন এই মাটি কোথায় রাখা হবে এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা কয়েক দফা উন্নয়ন কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। খুলনা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য নিজে তৎকালীন জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেছেন, মাটির নিলাম প্রক্রিয়া করতে যদি সময় বেশি লাগে তাহলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশের ঘরগুলো বাঁচাতে খননকৃত মাটি যেন দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ওই সময় একটি ঘর ভেঙে সেখানে নদীর তীর থেকে মাটি সরানোর জন্য ভেকু মেশিনও আনা হয়। কিন্তু ওই জেলা প্রশাসক বদলি হয়ে গেলে কাজটি বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নিলাম প্রক্রিয়া করতে গিয়ে এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যায়। যারা নিলাম পেয়েছেন তারাও মাটি যথাসময়ে সরিয়ে নেননি। ফলে অনেক ঘর মাটির নিচে প্রায় চাপা পড়ে।’

এদিকে গত মঙ্গলবার খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত সরেজমিনে গিয়ে খননে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্প নদী খননকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেই বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। নদী খননের ফলে সাধারণ মানুষ কৃষিকাজ বা মৎস্য চাষে সুবিধা পাবেন। আর যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি মেটানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’
ছবি: খবরের কাগজ

ছয় মাসের ফাহিমা জানে না সীমান্ত কী জিনিস। কিন্তু সেই সীমান্তে আটকে আছে তারা চার দিন। পাঁচ বছরের ফাতেমার বাড়ি যাওয়ার তাড়া বাবা-মায়ের কাছে। কিন্তু সেও জানে না সীমান্তের অদৃশ্য শিকল বাঁধা তার বাবা-মায়ের পায়ে। কোনো দেশেই ঢুকতে পারছে না তারা। কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে পুশইনের চেষ্টার শিকার ছয়জন চার দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।

খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। এদের দুই শিশুর মা সুমি আক্তার দুই বাচ্চাকে বাঁচাতে সবার কাছে আকুতি জানাচ্ছেন। বলছেন, ‘ভাই, আমাগোর জীবন যাক, বাচ্চা দুইডারে বাঁচাইন। এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব।’

রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকার শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন তারা। দুই দিকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা বন্দুক নিয়ে পাহারায়। মাঝখানে পলিথিনের ছাউনির নিচে শিশুদের কোলে বুকে নিয়ে আছেন তারা। মাঝে মাঝে কেঁদে উঠছে ছোট্ট ফাহিমা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া সামান্য খাবার ও পানিতে জীবনটা কোনোমতে বাঁচিয়ে রাখলেও চারদিকে মানুষের উপস্থিতিতে এক মুহূর্ত চোখ বুজতে পারছেন না তারা। মাঝে মাঝে কাঁদছেন ফাহিমা-ফাতেমার মা সুমি আক্তারও। নিজের চেয়ে দুই শিশুর জন্য বেশি ভাবছেন। তিনি বলেন, ‘চারডা দিন সীমান্তে বইসা আছি। কেউ নিব না। একটা যে নিজর কাম সারবেন মানুষের জন্য যাওয়া যাচ্ছে না। বড় মেয়েটা বাড়ি যাই বাড়ি যাই করে। আমার খাওন নাই। ছোট মেয়েটাও খাইতে পারছে না। বুকে দুধ নাই, শুকায় গেছে। মাঝে মাঝে বাচ্চাডারে পানি খাওয়ায় বাঁচায়া রাখছি। আর কতক্ষণ থাকতে হবে জানি না। আপনেরা আমাদের বাঁচান ভাই।’

বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে দালালের মাধ্যমে কাজের আশায় ভারতে গেছিলাম। লোভে পড়ে গেছিলাম। পরে সে দেশে আটক হই। গত রবিবার ভোরে কাঁটাতার পার করে দিছে। তিন দিন ধইরা নো ম্যানস ল্যান্ডে বসে আছি। আমরা বাংলাদেশি।’ কথা বলে জানা গেছে, ওই সীমান্তে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া এলাকার কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৫), তাদের দুই সন্তান ফাতেমা ও ফাহিমা, একই গ্রামের সজীব মিয়া (২৬) ও হিমেল মিয়া। বিল্লাল হোসেন জানান, কিছুদিন আগে দালালের মাধ্যমে কাজের সন্ধাতে ভারতে যান তারা। সেখানে পুলিশের কাছে আটক হন। গত রবিবার ভোরে তাদের ভারত সীমান্তের কাঁটাতার পার করে দেয় বিএসএফ। তবে তাদের পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত করেনি বিজিবি। 

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরে গয়টাপাড়া সীমান্তে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা দুই শিশু, এক নারী ও তিনজন পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি তাদের নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও বাধা সৃষ্টি করে। তারপর থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন তারা। পাশের ইজলামারী সীমান্ত দিয়েও এ সময় তিনজকে পুশইন করে বিএসএফ। তারাও নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। 

ওই দিন দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে পুশইন করা ব্যক্তিরা বাংলাদেশি। তবে বিজিবি জানায়, তাদের ফেরত নিতে হবে। বাংলাদেশি হলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফেরত পাঠানো যাবে। কিন্তু বিএসএফ তাতে সায় দেয়নি। ফলে কোনো সমাধান আসেনি। গতকাল পর্যন্ত এ নিয়ে নতুন করে কোনো বৈঠকও হয়নি। যে কারণে শিশুসহ ৯ জন মানবেতর সময় পার করছেন। 

পুশইনের শিকার সজীব মিয়ার প্রতিবেশী স্থানীয় ইউপির গ্রাম পুলিশ সদস্য মোশারফ হোসেনের কথা হলে তিনি জানান, টিভিতে তাদের দেখে চিনতে পেরেছেন। পরিবারের লোকজন বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা কিছুদিন আগে ভারতে গেছেন বলেও জানান তিনি। 

শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘শুনতে পাচ্ছি তারা বাংলাদেশি নাগরিক। মানবিক কারণে আমরা তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। শিশুসন্তান নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।’

গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুশইনের বিষয়টি নিয়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তারা বাংলাদেশি হলে নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে। কিন্তু রাতের আঁধারে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঠেলে দিলে সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’