ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-১ আসনের পেকুয়া উপজেলায় একাধিক ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৪৬টি ভোটকেন্দ্রের বড় অংশে বাউন্ডারি দেয়াল ও কাঁটাতারের অভাব থাকায় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভোটার ও সচেতন মহল।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়ায় মোট ৪৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৯টি মাদরাসা, ৩টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এবং ১টি সাইক্লোন সেন্টার। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ৯টিতে কোনো বাউন্ডারি দেয়াল নেই এবং ১৯টিতে বাউন্ডারি থাকলেও কাঁটাতারের ব্যবস্থা করা হয়নি। একইভাবে, ৬টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪টির সামনের অংশে বাউন্ডারি নেই। ৯টি মাদরাসার মধ্যে ৫টিতে কোনো বাউন্ডারি দেয়াল নেই।
বাউন্ডারিবিহীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মাইয়াদিয়া ও মেহেরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; শিলখালী ইউনিয়নের কাচারীমুড়া আছদ নসরত শাহ খিজির (রহ.) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; উজানটিয়া ইউনিয়নের ভেলুয়ারপাড়া, পশ্চিম উজানটিয়া ও করিয়ারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; রাজাখালী ইউনিয়নের রাজাখালী জি.সি. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মগনামা ইউনিয়নের উত্তর মগনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বারবাকিয়া এলাকায় অবস্থিত ইফাত সাইক্লোন সেন্টারকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এর চারপাশে কোনো বাউন্ডারি দেয়াল নেই। কেন্দ্রটির পশ্চিম পাশে বিএডিসির সেচ প্রকল্পের একটি বড় পুকুর এবং অন্যান্য অংশ খোলা জমি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে টৈটং ইউনিয়নের টৈটং হাই স্কুল, মগনামা হাই স্কুল এবং রাজাখালী ইউনিয়নের ইয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের অংশে বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া উজানটিয়া ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে যেতে হলে মাতামুহুরি নদী নৌকায় পার হতে হয়, যা বাড়তি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে।
মাদরাসা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রাজাখালী ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া আজগরিয়া মেহেরুল উলুম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, রাজাখালী বহুমুখী বেসারাতুল উলুম ইসলামি ফাজিল মাদরাসা এবং টৈটং ইউনিয়নের বনকানন এশাতুল উলুম মাদরাসায় কোনো বাউন্ডারি দেয়াল নেই। বটতলী শফিকিয়া মাদরাসার সামনে বাউন্ডারি থাকলেও পেছনের অংশ খোলা রয়েছে। টৈটং সোনাইছড়ি মাঝেরপাড়া ইফতেদায়ী মাদরাসা ও দারুল কোরআন কাসিমুল উলুম মাদরাসার সামনের অংশে বাউন্ডারি থাকলেও পেছনের অংশে নেই। উজানটিয়া ইউনিয়নের কোরআনিয়া দারুল উলুম মাদরাসার দেয়াল নিচু হওয়ায় সহজেই সেখানে প্রবেশ সম্ভব।
পেকুয়া উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান মাহবুব বলেন, ‘ইতোমধ্যে পেকুয়া উপজেলার সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খাইরুল আলম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্স থাকবে।
আরেকটি সমস্যা হলো টৈটং ইউনিয়নের বনকানন এশাতুল উলুম দাখিল মাদরাসা পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এটি তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পেকুয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
রাকিবুল/রিফাত/