পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার প্রত্যয়ে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নগরীর চৌহাট্টাস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ‘নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তরুণ সমাবেশ’।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসএনভি’র সহযোগিতায় সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই সমাবেশে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দেয়াল পত্রিকা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে তারা পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নতুন প্রজন্ম, নগরবাসী ও সিটি করপোরেশনের করণীয় বিষয়গুলো চিহ্নিত করে। এই সমাবেশে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক প্রদর্শনী আয়োজনটি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। শহরকে নিজের ঘরের মতো পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তাই সমাবেশের মূল প্রতিপাদ্য।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম-সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।
এসএনভির ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর রহিমা বেগমের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী, সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদিন, পরিবেশ সংগঠক এবং সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা- ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম চৌধুরী কিম।
সমাবেশে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পুলিশ লাইন্স উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, আনন্দনিকেতন, মুহিবুর রহমান একাডেমি, আম্বরখানা গার্লস স্কুল ও কলেজ এবং শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা দেয়াল পত্রিকা প্রদর্শনীর মাধ্যমে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নতুন প্রজন্ম, নগরবাসী ও সিটি করপোরেশনের করণীয় বিষয়গুলো চিহ্নিত করে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম-সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা একটি বদ অভ্যাস, যা পরিবর্তন করা জরুরি। বাসাবাড়ির বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে নিয়মিত ভ্যানে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি বলেন, এতে সামান্য ব্যয় হলেও নগর থাকবে পরিচ্ছন্ন ও জলাধার থাকবে নিরাপদ। নগরীকে নিজের ঘরের মতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিদিন সিলেটে প্রায় ৫০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর মাত্র অর্ধেক সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। অবশিষ্ট বর্জ্য খাল, ছড়া ও ড্রেনে ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা, মশা ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে এখনই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো ও পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
শাকিলা ববি/এসএন