ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি ও ফলের দাম। বিশেষ করে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। সপ্তাহখানেক আগে যে লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে সেই লেবু বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ভালো মানের লেবু ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে ডিম হালি ৩৮ টাকা হলেও লেবুর দাম তার চেয়েও বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, লাউ যা আগে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। শসা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রসুনের দামও বেড়েছে, আগে ৮০ থেকে ৯০ টাকা থাকলেও এখন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজের দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে এবং খুচরা বাজারে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া বিভিন্ন প্রকার খেজুরের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এবং বুটের দাম কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আল মামুন নামে এক ক্রেতা বলেন, “সবজির দাম হঠাৎ এত বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। লেবুর দাম ডিমের চেয়েও বেশি হবে এটা ভাবতেই পারিনি।”
স্টেশন এলাকার ফিরোজা বেগম নামে ক্রেতা জানান, “প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে অনেক পণ্য।
বিক্রেতা কালাম হোসেন বলেন, “পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় লেবু ও সবজির দাম বেড়েছে।”
বিক্রেতা জুয়েল জানান, “আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছি না, আড়তে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও জেলার সহকারী পরিচালক এ.এস.এম. মাসুদ উদ দৌলা বলেন, “আমরা বাজার মনিটরিং করছি। কেউ অন্যায় করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নবীন/মাহফুজ