টেকনাফের বাহারছড়ায় সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে মানবপাচারচক্রের সক্রিয়তা রোধে কোস্টগার্ড একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫ জন মানবপাচারকারীকে আটক করেছে এবং নারী ও শিশুসহ ৫৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে।
আটক ৫ জন হলেন টেকনাফের বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়া এলাকার মৃত বদিউল আলমের ছেলে নবী হোসেন (২৭), মহেশখালী কেরুনতলী এলাকার শামসুল আলমের ছেলে মো. রায়হান (২০), বাহারছড়া বড় ডেইল এলাকার মো. আলমের ছেলে মাহফুজ উল্লাহ (১৮), উখিয়া কুতুপালং ১নং ক্যাম্পের বাসিন্দার ইসা খলিলের ছেলে শফিক আলম (২২), একই ক্যাম্পের মৃত আব্দুল হাবিবের ছেলে লাল মিয়া।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পাওয়া যায় যে, বাহারছড়া সমুদ্র এলাকায় বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি নারী ও শিশুসহ মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় বাহারছড়া, শাহপরী ও স্টেশন টেকনাফ থেকে আউটপোস্ট সদস্যরা একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন একটি সন্দেহজনক বোটকে থামার সংকেত প্রদান করা হয়। বোটটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কোস্টগার্ড দল তা ধাওয়া করে কচ্ছপিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় থেকে ৩ জন মহিলা, ৩৯ জন পুরুষ, ১৩ জন শিশুসহ মোট ৫৫ জনকে উদ্ধার করা হয় এবং পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ৫ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়।
উদ্ধারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বিভিন্ন পাচারচক্র বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং কম খরচে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে সাগর পথে পাচারের পরিকল্পনা করছিল। আটক ও উদ্ধারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আরও জানিয়েছেন, মানবপাচার রোধে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
শাহীন/মাহফুজ