এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ এনেছি। আজ ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু ১৯৭২ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দুঃখটা আজই পেলাম। আমার অপরাধটা কী? মুক্তিযুদ্ধ করাটাই কি আমার অপরাধ?
গভীর ক্ষোভ আর চোখের জল সংবরণ করে কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের একমাত্র জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বীর প্রতীক। স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাওয়াত না পেয়ে এভাবেই নিজের আর্তনাদ প্রকাশ করেন সম্মুখ সমরের এই লড়াকু সৈনিক।
বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং জেলা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজসহ বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হয়। অথচ এই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি জেলার শ্রেষ্ঠ সন্তান ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হককে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি লজ্জিত ও মর্মাহত।
বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক বলেন, বাড়ির লোকজন আমাকে প্রশ্ন করছে, আপনি মাঠে যাননি? বীর প্রতীক হয়েও দাওয়াত না পাওয়ায় আজ আমার লজ্জা লাগছে। এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু হতে পারে না।
সুশীল সমাজ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র নিন্দা
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সাংস্কৃতিক কর্মী রিয়াজুল হক সরকার বলেন, ৭১-এর পর থেকে প্রতিবছর তিনি আমন্ত্রিত হয়ে আসলেও এবার কেন তাকে বাদ দেওয়া হলো? এটি পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক।
সাংস্কৃতিক কর্মী মার্জিয়া বলেন, একজন জীবন্ত কিংবদন্তিকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো অবিশ্বাস্য এবং চরম হতাশাজনক।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, এর আগেও স্মৃতিসৌধের স্মৃতিফলক কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়ার মতো বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। এবারের ঘটনাটি সেই উদাসীনতারই ধারাবাহিকতা বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দাওয়াতের বিষয়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছি, তিনশো কার্ড দিয়েছি এবং বলে দিয়েছি যারা যারা আপনারা আছেন সবাইকে ডাকেন। এবং তারা খুশিমনেই দায়িত্বটা নিয়েছে। তারা যাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন।
এসএন/