ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র তাপপ্রবাহে রাজশাহীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট শহর ও গ্রামাঞ্চলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া পণ্য উৎপাদন, কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গ্রামাঞ্চলে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। নেসকো কর্মকর্তারা জানান, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। সেচনির্ভর বোরো ধান চাষে নিয়মিত পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বাগমারা, গোদাগাড়ী ও তানোরসহ বিভিন্ন উপজেলায় সেচপাম্প বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে ধানের শীষ গঠন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করছেন। ফলে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা থাকে না। নিয়মিত সেচ দিতে না পারায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এতে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
শহরাঞ্চলের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। রিকশাচালক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কাজের সময় কমে যাওয়ায় আয়ও কমে গেছে। অনেকেই ছায়া ও গাছের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারছে না। এ ছাড়া গরমে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।
ব্যবসাতেও মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্রিজ, ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্র সচল রাখা যাচ্ছে না। এতে বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেকেই আগেভাগেই দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নগরীর বিনোদপুর এলাকার ফরহাদ মোল্লা বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, সকাল ও দুপুর মিলিয়ে ইতোমধ্যে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বিকেল ও রাতে কি হবে তা ভেবেই আতঙ্কে আছি। লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের। কেননা তারা তীব্র গরমে জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই এর দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।
নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাহবুব উল ইসলাম বিপুল বলেন, তীব্র গরমে ঘন ঘন বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছি। একই সঙ্গে ব্যবসাতেও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নেসকোর এক কর্মকর্তা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। ফলে লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা সেচপাম্প চালু থাকায় চাপ আরও বাড়ছে।