শরীয়তপুরের জাজিরায় বিদ্যুৎ সংযোগহীন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র দাবদাহে শিক্ষকসহ পাঁচ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনের পর নতুন ভবনে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় টিনশেড ঘরে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ সংযোগে বিদ্যুৎ বিভাগ বড় অঙ্কের টাকা দাবি করছে বলে শিক্ষকদের অভিযোগ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আতঙ্কে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। বিষয়টি আমলে নিয়ে ভোগান্তি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয় ও অভিভাবকদের।
স্থানীয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জাজিরা উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়া কান্দি এলাকায় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পাথালিয়া কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। ২০১৮ সালে পদ্মার ভাঙনের শিকার হয়ে বিদ্যালয়টি পাকাভবনসহ নদীতে বিলিন হয়ে যায়। এরপর একই এলাকায় একটি মালিকানাধীন জায়গা ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী টিনশেডের ঘর নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা হয়। তখন ওই বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। ২০২৪ সালে ওই এলাকায় নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হলে ভাড়া জায়গাটি ছেড়ে বিদ্যালয়ের আগের স্থানে আধাপাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে নতুন স্থানে আর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি পল্লী বিদ্যুৎ। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যুৎ সংযোগে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করায় অপারগতা প্রকাশ করে শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার দুপুরে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফা আক্তার। এরপর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইলমা, মাসুদ; চতুর্থ শ্রেণির রোমান, মারিয়া ও পঞ্চম শ্রেণির আরিফা আক্তার। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে তাদের মাথায় পানি ঢেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিছুটা সুস্থ করে তোলে। গরমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন বিদ্যালয়ে আসতে চাইছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে পাখার ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
চতুর্থ শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, ‘গরমে আজ আমাদের আরিফা ম্যাডাম, একজন বড় আপু ও কয়েকজন বন্ধুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি, কখন না আমরাও অসুস্থ হয়ে পড়ি।’
সেন্টু মিয়া নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ফলে গরমে আমাদের বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা এভাবে বাচ্চাদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে পারি না। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চাই।’
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জামিলা খাতুনের সঙ্গে। তার অভিযোগ, বিদ্যালয় নতুন ভবনে আসার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগে তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা নদীতে বিলিনের পরে আমরা যখন ভাড়া জায়গায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়েছিলাম, তখন সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার ছিল। পরে বেড়িবাঁধে আগের জায়গাই বিদ্যালয় সেমিপাকা ভবনে পুনরায় চালু হলে মিটার খুলে নিয়ে যায় বিদ্যুৎ বিভাগ। নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করলে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা খরচ হবে বলে দাবি করে তারা। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এত বড় ফান্ড না থাকায় আমরা রাজি হইনি। এখন গরমে আমাদের বাচ্চারা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’
এ বিষয়ে অবগত নন জাজিরা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক গোবিন্দ চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘আমি এক বছর ধরে এখানে কর্মরত। এই ব্যাপারে কেউ আমার কাছে আসেনি। আগামীতে কেউ আসলে কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত নেব।’
বিদ্যুৎ সংযোগে টাকা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো টাকা নেই না।’