গবাদিপশু উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে রংপুর বিভাগে। দুই বছর আগেও রংপুর বিভাগে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১৫ লাখ। দুই বছরের ব্যবধানে গবাদিপশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজার ৬৭টি। দুই বছরে বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ পশু।
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল আজহায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১৪ লাখের বেশি কোরবানি পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০ লাখের বেশি গরু, ছাগল, উট, দুম্বা, প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। যা রংপুর বিভাগের ৮ জেলার চাহিদার চেয়ে বেশি। বিভাগে খামারি রয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ জন।
আসন্ন ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যে খামারিরা সাড়ে ৮ লাখের মতো গরু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। প্রায় ১০ লাখ গরু, খাসি বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন গৃহস্থরা।
তবে কোরবানিতে দেশি ও সংকর জাতের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় কয়েক মাস আগে থেকেই খামারিরা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মোটাতাজাকরণ শুরু করেছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রংপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি খামারি রয়েছে। এ জেলায় ৩০ হাজার খামারে প্রায় ৪ লাখ গরু রয়েছে। চাহিদার চেয়ে বেশি গরু রয়েছে প্রায় দেড় লাখ।
এদিকে কোরবানিকে সামনে রেখে খামারিদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে গতবারের তুলনায় এবার দাম বেশি হতে পারে বলে জানান তারা।
নগরীর নিসবেতগঞ্জ, শ্যামপুর, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, দেওডোবা, আকালিটারী হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা বিভিন্ন সংকর জাতের গরু ও ছাগল প্রস্তুত করেছি। সামনে সপ্তাহে এসব গরু ও ছাগল হাটে নেওয়া হবে।
রংপুর বদরগঞ্জ উপজেলার মোস্তফাপুর বারোবিঘার খামারি রাকিব আহমেদ বলেন, প্রতিবছর লাভের আশায় কোরবানির আগে গরু কিনে লালন-পালন করি। বাড়তি খাদ্যের দাম ও নানা জটিলতায় এই পেশা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার বলেন, 'রংপুর অঞ্চলে এবার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি পশু। পশু বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। এবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো প্রকার চাঁদাবাজি, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বাজার স্থাপন করা যাবে না।'
সেলিম সরকার/ আমান