বিকেল ৫টার পর নগরের ফুটপাতে ব্যবসার সুযোগ চেয়ে ভাতের থালা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন সিলেটের হকাররা। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকের সামনের সড়ক অবরোধ করে প্রায় ১ ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন তারা। বিক্ষোভে নগরীর বিভিন্ন এলাকার শতাধিক হকার অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ছিল ভাতের থালা ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড।
বিক্ষোভ চলাকালে হকাররা বলেন, সারাদিন ব্যবসা করতে না পারলেও অন্তত বিকেল ৫টার পর ফুটপাতে বসে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দিতে হবে। কারণ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ফুটপাতের ব্যবসাই অনেক পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।
এ সময় বক্তারা অভিযানের নামে ‘পুলিশি নির্যাতন’ ও মালামাল জব্দের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযানে প্রায়ই হকারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, যা মানবিক নয়। তার ওপর কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়বেন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফুটপাতে ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ‘প্রশাসন যদি এমন আচরণ করে তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব? সব সময় হকাররা প্রশাসনের নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।’
এদিকে ঘণ্টাব্যাপী এ অবস্থান কর্মসূচি চলার কারণে বন্দরবাজার এলাকাসহ আশপাশের এলাকার রাস্তায় দেখা দেয় তীব্র যানজট।
এর আগে গত ১৪ মে একই দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন হকাররা। ওই দিন মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেছিলেন, ‘আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ফয়সালা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।
সামনে ঈদুল আজহা আসছে। এ সময় আমাদের বিকেল ৫টা থেকে ফুটপাতে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হোক। আমরা চাই না কোনো আন্দোলন করতে। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় আমাদের রাজপথে থাকতে হচ্ছে।
আমরা প্রত্যাশা করি, বৈষম্যহীন এ বাংলায় আমাদের ওপর বৈষম্য না করে বিকেল ৫টার পর সরকারি অফিস-আদালত বন্ধের পর ব্যবসার সুযোগ দেবে প্রশাসন।’