দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সফল ভূমিকা রাখার মাধ্যমে নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রশংসার দাবিদার বলে মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট থেকে টানা দুই বছর ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত বানৌজা শের-ই-বাংলা ঘাঁটির প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২৬ সালের প্রথম নবীন নাবিক ‘এ’ ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) অভাবনীয় দক্ষতা ও সাফল্যের প্রমাণ দিয়েছে। তাদের তত্ত্বাবধানে টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অভাবনীয় গতি এসেছে।
নৌপ্রধান আরও বলেন, নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনা শিপইয়ার্ডে তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজ নির্মাণাধীন। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের অংশ হিসেবে ডাটা সেন্টার স্থাপন, নৌবাহিনীর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা উন্নয়ন, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, নবীন নাবিকদের এই অর্জন নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং তারা দেশ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে সবশেষে নবীন নাবিকরা দেশসেবা ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় পতাকা ছুঁয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর গৌরবময় অঙ্গনে যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে ৪৪১ জন নবীন নাবিক দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও পেশাদারিত্বের বিভিন্ন দিক প্রদর্শন করেন। সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তারা অর্জিত সক্ষমতা উপস্থাপন করেন এবং পরে নৌবাহিনীর এ-২০২৬ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে মো. শাহরিয়ার টুটুল পেশাগত ও সব বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করে সেরা চৌকস নাবিক হিসেবে 'নৌপ্রধান পদক' লাভ করেন।
এ ছাড়াও মো. সামিউল ইসলাম শাকিল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে 'কমখুল পদক' এবং মো. কাদের মিয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করে 'শের-ই-বাংলা পদক' ও সেরা চৌকস মহিলা নাবিক হিসেবে মোছা. মারিয়া আক্তার 'প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার' পদক অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
হাসিবুর রহমান/নাঈম