আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গাজীপুরে কারখানা গুলো এবং ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে বেড়েছে ঈদ ঘরমুখো মানুষের ভিড়। নাড়ির টানে কর্মজীবী মানুষ বাস, ট্রাক, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে গ্রামে ফিরছেন।
সোমবার (২৫ মে) জেলা ও মহানগরের প্রায় ৪৫ শতাংশ পোশাক কারখানা ছুটি হয়েছে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার আরও ৪৭ শতাংশ এবং ২৭ মে অবশিষ্ট ৮ শতাংশ কারখানায় ছুটি হবে। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রায় সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় ছুটি পেয়েই রবিবার রাত থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ঘরমুখো মানুষ। এতে গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মানুষের ভিড় দেখা যায়।
অপরদিকে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ড বাজার, গাজীপুরা, টঙ্গীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে গাড়ির ধীরগতি দেখা গেছে। এ ছাড়া ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ছিলো গাড়ির ধীরগতি।
যাত্রী ও চালকরা বলছেন, মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে গাড়ির ধীরগতি রয়েছে। এ ছাড়া চান্দনা চৌরাস্তায় মহাসড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং থাকায় লেন সরু হয়ে গেছে। যাত্রী ওঠানামা করায় গাড়ি ও মানুষের জটলা সৃষ্টির কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চলছে।
চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া পোশাক শ্রমিক লাইলী আক্তার বলেন, বাসে উঠতে কিছুটা ভোগান্তি হলেও রাস্তায় বড় কোনো যানজট নেই। আশা করছি স্বস্তিতে বাড়ি পৌঁছাতে পারব।
বোর্ডবাজার থেকে ময়মনসিংহগামী যাত্রী আসাদ মিয়া বলেন, পরিবহণগুলো ভাড়া কিছুটা বেশি নিচ্ছে তারপরও সময়মতো বাস পাওয়া যাচ্ছে।
গাজীপুর মহানগরীর বাইপাস ভোগড়া পেয়ারা বাগান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীবাহী বাস সড়কের দুই পাশে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী একটি দূরপাল্লার বাসের চালক রবিউল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। মহাসড়কে গাড়ির চাপও বেশি। বাসস্ট্যান্ডগুলোয় ভিড় থাকলেও অন্য এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক।
গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার বলেন, জেলার অধিকাংশ কারখানাই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করেছে। ধাপে ধাপে ছুটি হওয়ায় শ্রমিকরা স্বস্তিতে গ্রামের বাড়ি ফিরতে পারবেন।
মহাসড়কে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, টঙ্গী, ভোগড়া ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায়। এসব এলাকায় বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কিছু সময় ধীরগতিতে যান চলাচল করেছে। তবে কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি। কারখানায় ছুটি শুরু হলে গাজীপুরের দুই মহাসড়কেই যানবাহন ও যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং সন্ধ্যার পর মহাসড়কে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও কোনো যানবাহন বিকল হলে দ্রুত অপসারণের জন্য রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ নজরদারি চলছে। চন্দ্রা এলাকায় যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সাভারের বাইপাইল এলাকার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সেখানে যানবাহনের ধীরগতি দেখা দিতে পারে। যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করছি। ঈদের ছুটি শেষে মানুষ যাতে স্বস্তিতে গাজীপুরে ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের এসপি মো. আমজাদ হোসেন বলেন, তিন ধাপে কারখানাগুলো ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে না বলে আমরা আশা করছি। এপ্রিল মাসের প্রায় ৯৬ শতাংশ শ্রমিকের বেতন রবিবারের মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৪ শতাংশ সোমবারের মধ্যে পরিশোধ হবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারে।
পলাশ প্রধান/নাঈম