ভাঙারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে বীভৎসভাবে হত্যার পর গা ঢাকা দিয়েছেন মামলার বেশির ভাগ আসামি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ১০ আসামি এখনো লাপাত্তা। তাদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সর্বশেষ পাথর নিক্ষেপকারী রেজোয়ান উদ্দিন অভিসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা অধিকাংশ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকি ১০ আসামিকে গ্রেপ্তারে মাঠে কাজ করছে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা।’ তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আরও অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার সম্ভব হবে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বীভৎস ওই খুনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মহিন সিন্ডিকেটের সদস্যদের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও আধিপত্য নিয়ে লড়াই করা অন্যরাও এখন এলাকা ছাড়া। তবে নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডে আতঙ্কের রেশ এখনো রয়ে গেছে মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায়।
মিটফোর্ড এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী শাহিন মোল্লা খবরের কাগজকে বলেন, ‘এলাকায় সন্ত্রাসীদের উৎপাত কমেছে। ধরা পরার ভয়ে এখন সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পুলিশ তাদের বিষয়ে তথ্য নিতে আসছে। বাড়ি ও পরিবারের খোঁজ করছে। অনেকের বাসায় এখন তালা ঝুলছে।’
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গত ১৬ জুলাই ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড যাতে পুরনায় না ঘটে সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
গত ৯ জুলাই সন্ধ্যার আগে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী বোস লেনে রাস্তার ওপর সংঘবদ্ধভাবে ভাঙারি ব্যবসায়ী ও যুবদলকর্মী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) পাথর দিয়ে আঘাত করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, খুনের সঙ্গে অন্তত ১৯ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তারা। মামলার এজাহারেও আসামি হিসেবে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।