রাজধানীর বনানীর ‘থ্রি সিক্সটি সিসা লাউঞ্জে’ আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে রাহাত হোসেন রাব্বিকে (৩১) হত্যা করেন মুন্না ও মাকসুদুর রহমান হামজা।
শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ১৪ আগস্ট রাহাত হোসেন রাব্বি তার বন্ধু নুরুল ইসলাম খোকনসহ থ্রি সিক্সটি সিসা লাউঞ্জে যান। ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে দিকে সিসা লাউঞ্জ ভবনের দ্বিতীয় তলায় মুন্না এবং হামজাসহ কয়েকজন মিলে রাব্বির পথরোধ করেন। রাব্বি তখন মুন্নাকে চিনে ফেলে এবং বলেন, মুন্না তুই এই সময় এখানে কেন? তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মুন্না তার পাঞ্জাবির পকেটে থাকা চাকু বের করে রাব্বিকে উপর্যুপরি আঘাত করে। এ সময় হামজা লাঠি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে রাব্বির চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে আসে। তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ পরের দিন গত ১৫ আগস্ট তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় হামজা ও মুন্নাকে কুমিল্লার বরুড়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার রাজিয়া সুলতানা রোড এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইস গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।
মুন্না ও হামজার বরাত দিয়ে আশিকুর রহমান বলেন, ‘রাব্বির সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ছিল। বনানীর ওই সিসা লাউঞ্জে আসা-যাওয়া এবং লাউঞ্জের ভেতর আধিপত্য বিস্তারকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব ছিল। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাব্বিকে হত্যা করার বিষয়টি স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার আসামিরা।’
আশিকুর রহমান আরও বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার সব অবৈধ সিসাবারে অভিযান চালানো হবে।’