নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. হাকিমের দুই পা ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
গতকাল সোমবার দুপুরে সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত হাকিমকে প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে তার বাবা আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ করেন।
জানা যায়, ভারগাঁও চৌধুরী ড়া এলাকায় ফুল চাঁন মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই একটি সন্ত্রাসী দল তৈরি করে এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময় এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রতিবাদ করেন ওই এলাকার বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মো. হাকিম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার দুপুরে জোহর নামাজের পর মসজিদের মাঠে জাকিরের নেতৃত্বে মাসুম মিয়া, আলম মিয়াসহ ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্র, রড, হকিস্টিক, দা নিয়ে হাকিমের ওপর হামলা করে। এসময় পিটিয়ে তার দুই পা ভেঙে দেয় হামলাকারীরা।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকায় পঙ্গু হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহতের বাবা আব্দুল আউয়াল জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছেন জাকির হোসেন ও তার লোকজন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় নেতাদের আশ্রয়ে নির্বিঘ্নে এসব অপকর্ম করে আসছে তারা। তার ছেলে আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে এসবের প্রতিবাদ করেন। সোমবার দুপুরে জোহরের নামাজের শেষে একা পেয়ে তার ওপর হামলা করে দুই পা ভেঙে দেয়।
অভিযুক্ত জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা অপপ্রচার করছে। তবে, তার ভাতিজা মাসুমের সঙ্গে মনমালিন্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিববুল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইমরান হোসেন/অমিয়/