গ্রিসের বিখ্যাত গল্পকার ঈশপের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। ঈশপ ছিলেন মিসরের ফারাও বাদশাহ আমাসিসের সময়ের লোক। সামস দ্বীপে বাস করা ঈশপ ছিলেন ইয়াডমন নামে এক নাগরিকের ক্রীতদাস। বুদ্ধি ও হাস্যরসে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তার শিক্ষামূলক গল্প মানুষকে শোনাতেন।
কুকুর, শিয়াল ও সিংহ
এক বনে নানা রকম জীবজন্তু বাস করত। একদিন এক কুকুর ও শিয়াল বনের রাজা সিংহের সঙ্গে একটি চুক্তি করল। চুক্তিতে বলা হলো, এখন থেকে তিন পশু একসঙ্গে শিকার করবে। শিকার করে যা পাওয়া যাবে তারা তা সমানভাবে ভাগ করে নেবে। তিনজন একসঙ্গে শিকার করলে কাউকে না খেয়ে থাকতে হবে না। সিদ্ধান্ত হলো- কুকুর শিকারযোগ্য প্রাণীর ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে। কাউকে দেখতে পেলে সে তার দিকে এগিয়ে যাবে এবং নিজের পরিচয় দেবে।
অন্য দুজন আড়াল থেকে কুকুরের দিকে নজর রাখবে। কুকুর পরিচয়পর্ব শেষ করার পর শিয়াল আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে গর্জন করে উঠবে। প্রাণীটি স্বাভাবিকভাবেই তখন ভয় পেয়ে যাবে। দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করবে সে। তখন শিয়াল তাকে ধাওয়া করবে। প্রাণীটি তখন শিয়ালকে এড়াতে সোজা দৌড় দেবে, আর গিয়ে পড়বে সিংহের কবলে। সিংহ তখন এক আঘাতে তার রফাদফা করবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সারা দিন শিকারের পর সন্ধ্যাবেলায় কুকুর, শিয়াল, সিংহ সব শিকার ভাগবাঁটোয়ারা করতে বসল। সিংহ কুকুরকে বলল তার অংশ ভাগ করে দিতে। বনের রাজা সিংহের এ প্রস্তাব শুনে কুকুর খুব খুশি হলো। মনে মনে ভাবল- শিকার ভাগ করার দায়িত্ব দিয়ে সিংহ তাকে বিরাট সম্মান দেখিয়েছে। যাইহোক, কুকুর খুব সাবধানতার সঙ্গে সব শিকারকে সমান তিন ভাগে ভাগ করে। এরপর শিয়াল ও সিংহের উদ্দেশে বলল, ভাগের কাজ শেষ। এখন আপনারা দুজন দয়া করে নিজেদের ভাগ গ্রহণ করুন।
কুকুরের কথা শুনে সিংহ ভাগগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখল। তারপর বলল, তাহলে তোর মতে আমাদের তিনজনের ভাগই সমান হওয়া উচিত, তাই না? তুই কি মনে করিস যে, শিকারের সঙ্গে তোর ইনিয়ে বিনিয়ে গল্প করা আর তাকে আমার হত্যার কাজটা একই সমান?
এ কথা বলেই সিংহ কুকুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে হত্যা করল। তারপর শিয়ালকে ভাগ করতে বলে। কুকুরের পরিণতি দেখে শিয়াল ভয়ে থরথর করে কাঁপছিল। অনেক কষ্টে সে নিজেকে সামলে নিয়ে ভাগ করতে বসল। যা কিছু তারা একসঙ্গে শিকার করেছিল তার প্রায় সবই এক ভাগে রাখল। আরেক ভাগে রাখল সামান্য একটু অংশ। বড় ভাগটা নেওয়ার জন্য সিংহকে অনুরোধ করল। শিয়ালের ভাগ করা দেখে সিংহ বেজায় খুশি হয়ে বলল, আচ্ছা, এত চমৎকার আর ন্যায্য ভাগের কৌশল তোকে কে শিখিয়েছে?
শিয়াল বিনয়ের সঙ্গে বলল, একটু আগে কুকুরের পরিণতি দেখেই এভাবে ভাগ করা শিখেছি, জনাব। এ কথা বলে শিয়াল সিংহের সামনে থেকে চলে গেল। আর মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল যে, ভবিষ্যতে আর কোনো কাজে সে কখনোই সিংহকে সঙ্গে নেবে না।