ঈদে যারা ঢাকায় থাকবেন, তারা ঈদের ছুটিতে এদিক ওদিক ঘুরতে যেতে চাইবেন। কিন্তু কোথায় যাবেন? একদিনে ঘুরে আসার মতো জায়গা কি ঢাকার আশপাশে আছে? আছে। একদিনেই ঘুরে আসার মতো এমন বেশ কিছু জায়গার খোঁজ জানাচ্ছেন আহমেদ রিয়াজ
সাদুল্লাপুর গোলাপ গ্রাম
গ্রামের যেখানেই আপনার দৃষ্টি পড়বে, সেখানেই গোলাপ। পুরো গ্রামটাই যেন একটা অখণ্ড গোলাপ বাগান। সেখানে যেতে হলে মিরপুর দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট আসতে হবে। বটতলা ঘাট থেকে সাদুল্লাহপুর ঘাটের উদ্দেশে ৩০ মিনিট পরপর ইঞ্জিনচালিত বোট ছাড়ে। যেতে সময় লাগবে প্রায় এক ঘণ্টা। বোট ছাড়াও যাওয়ার উপায় আছে। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকার নর্থ টাওয়ারের কাছে এসে সেখান থেকে দিয়াবাড়ি আসতে হবে। সেখান থেকে মেইনরোড ধরে বিরুলিয়া ব্রিজ পেরিয়ে সাদুল্লাপুর গোলাপ গ্রামে যাওয়া যায়।
পানাম নগর এবং সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর
ঢাকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঐতিহাসিক শহর পানামের দেখা মিলবে। পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংস প্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানাম নগর। এটা ঈসা খাঁ-এর আমলে বাংলার রাজধানী ছিল। পানাম নগর থেকে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর খুব বেশি দূরে নয়। ঢাকার গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জের বাসে করে মোগড়াপাড়া নেমে সিএনজি কিংবা অটোরিকশায় ওই দুই জায়গাতেই যাওয়া যায়।
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জমিদার বাড়িগুলোর একটি। ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। মোট ৭টি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়ি অবস্থিত। জমিদার বাড়ির পুরোটাই মনোরম পরিবেশে ঘেরা। ঢাকার গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সাটুরিয়া পৌঁছে সেখান থেকে যেতে হবে জমিদার বাড়ির দিকে।
মহেরা জমিদার বাড়ি
এই জমিদার বাড়িটি টাঙ্গাইলে। অপূর্ব সুন্দর এই জমিদার বাড়ি তিনটি স্থাপনা নিয়ে তৈরি। তিনটি স্থাপনার প্রতিটাতে মন ভালো করা অসাধারণ সব কারুকার্য। বাড়ির ভেতরের দিকে বিশাল খাঁচায় বিভিন্ন রকম পাখি। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের বাসে করে নাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে খুব একটা দূরে নয়।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
সাফারি পার্কে ঘোরাঘুরির মজাই অন্যরকম। পুরো সাফারি পার্ক ঘুরে দেখতে সারা দিন লেগে যাবে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার ৬৯০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই পার্ক। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য প্রাণীদের বিচরণ দেখা যাবে। এ ছাড়া রয়েছে পাখি শালা, প্রজাপতি সাফারি, জিরাফ ফিডিং স্পট, অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, বোটিং, লেইক জোন, আইল্যান্ড, প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেনসহ আরও অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর সমারোহ। গাজীপুরের বাঘের বাজার নেমে সেখান থেকে অটোরিকশায় খুব সহজেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে যাওয়া যায়।
শালবন বিহার
শালবন বৌদ্ধবিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতির অসংখ্য এবং চমৎকার প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি। দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধবিহারটি নির্মাণ করেন।
শালবন বিহার যেতে হলে প্রথমে কুমিল্লা শহরে যেতে হবে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিতে করে কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিমি দূরে কোট বাড়িতে শালবন বিহার অবস্থিত।
বেলাই বিল
গাজীপুরের বেলাইবিল মনোরম একটি জায়গা। চেলাই নদীর সঙ্গে বেলাই বিল। এখানে ইঞ্জিনচালিত এবং ডিঙি নৌকা দুটোই ভাড়া করা যায় সারা দিনের জন্য। বিকেলে এই বিলের চারপাশে অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়। এখানে নদীর পাড় ঘুরে দেখারও অপূর্ব সুযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে গাজীপুর বাসস্ট্যান্ড অথবা গাজীপুর শিববাড়ি নেমে সেখান থেকে রিকশা বা সিএনজি দিয়ে কানাইয়া বাজার আসতে হবে। কানাইয়া বাজার ঘাটে বেলাই বিল ভ্রমণের জন্য নৌকা ভাড়া পাবেন।
রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি
এটি একটি প্রত্নতত্তের জায়গা। সাভার উপজেলার সাভার পৌরসভার মজিদপুরে (সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্ব দিকে) অবস্থিত। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকে এখানে বৌদ্ধ ধর্ম সভ্যতার একটি কেন্দ্র ছিল।
উয়ারী-বটেশ্বর
এটা তো বিশ্ববিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবিস্থত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ। অসম রাজার গড় নামে এটি সমাধিক পরিচিত। এখানে প্রায় তিন হাজার পূর্বের প্রাচীন শিলালিপি মুদ্রাসহ সভ্যতার অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে। এখানে পর্যটকদের জন্য রেস্ট হাউজ রয়েছে। ঢাকা থেকে বাসে করে করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে রিকাশায় করে বটেশ্বরে যাওয়া যায়।
লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি
নান্দনিক সৌন্দর্য ও কারুকার্য খচিতময় লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি। বাড়িগুলোর নিখুঁত কারুকাজ ও সুনিপুণ নির্মাণশৈলীতে মুগ্ধ না হয়ে পারা যাবে না। গুলিস্তান থেকে বাসে করে যেতে হবে পাঁচদোনা মোড়। সেখান থেকে রিকশায় ডাংগা বাজার। ওই বাজার থেকে হাঁটা পথের দূরত্বে লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি। বনানী, মহাখালী কিংবা উত্তরা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে ৩০০ ফিট দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পেরিয়ে মায়ার বাড়ির মোড়ে আসতে হবে। সেখান থেকে ডাংগা বাজার যাওয়ার অটোরিকশা পাওয়া যায়।
কলি

.jpg)




.jpg)