ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সংঘাত নয়, হোক সম্প্রীতির উদযাপন কানসাসের দাবদাহে ‘কুলিং ভেস্টে’ অনুশীলন আর্জেন্টিনার চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব বাংলাদেশের বাজারে এল টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি কেইনই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার: লিনেকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের এবি ব্যাংক পিএলসির ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র নতুন অ্যান্ড্রয়েড ১৭ সংস্করণে গুগলের বড় চমক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সনদ পেল মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসির ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতার স্বরূপ রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা! একটি জাতির অবক্ষয়ের নির্মম চিত্র! ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তি ও বৈশ্বিক বাস্তবতা এবারের স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: সংসদে আইনমন্ত্রী কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে; মামলা ও জরিমানা মদ ভেবে বিষপানে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু ফেঞ্চুগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ২ জন নিহত, নিখোঁজ ১ ‘বাড়তি জেদ’ নিয়ে খেলছেন বেলিংহ্যাম কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি জামায়াতের সংসদ সদস্যকে মাইক্রোওভেন দিতে চাইলেন পার্থ রায়পুরায় সংঘর্ষ: পুলিশের ভেস্ট পরিহিত মরদেহ ভেসে উঠল নদীতে,  নিহত বেড়ে ৪ মাথা ঝুঁকানোর দরকার নেই, নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী চেয়ারের প্রতি সম্মান জানাবেন: স্পিকার বিকাশে পেমেন্ট করে সপ্তাহে ৫০ গ্রাহক পাচ্ছেন টিভি, স্মার্টফোন জেতার সুযোগ বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে আরও যুগোপযোগী করা হবে: সেনাপ্রধান
Nagad desktop

লাল মাংসের ভালো-মন্দ

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১১:০০ এএম
লাল মাংসের ভালো-মন্দ

গরু, মহিষ, খাসি, ভেড়া প্রভৃতি পশুর মাংসকে রেড মিট বা লাল মাংস বলে। কোরবানির ঈদে কমবেশি সবার লাল মাংস খাওয়া হয় বেশি। কিন্তু লাল মাংসে উপকারিতার পাশাপাশি রয়েছে অনেক অপকারিতা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে লাল মাংসের ক্ষতির বিষয়টি নির্ভর করছে মাংসের ধরন, সপ্তাহে কী পরিমাণ খাওয়া হচ্ছে, কী পদ্ধতিতে রান্না হচ্ছে তার ওপর।

লাল মাংসে মায়োগ্লোবিনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে বলে কাঁচা অবস্থায় টকটকে লাল দেখায়। পুষ্টিগুণের বিচারে লাল মাংস অনেক সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর আয়রন, প্রোটিন, ভিটামিন বি, জিংক এবং অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা শরীর গঠনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রোটিনের সমৃদ্ধ উৎস এই লাল মাংস হলেও এগুলোয় সম্পৃক্ত চর্বির (স্যাচুরেটেড ফ্যাট) মাত্রা থাকে বেশি। থাকে প্রচুর খারাপ কোলেস্টেরল। ফলে বেড়ে যেতে পারে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি। এবার জেনে নিন লাল মাংস বা রেড মিটের কিছু ভালো ও মন্দ দিক।

লাল মাংসের উপকারিতা
কিছু অপকারিতা থাকা সত্ত্বেও প্রোটিনের খুব ভালো উৎস এই লাল মাংস। শরীরের বৃদ্ধি সাধন, ক্ষয়পূরণ ও শরীর গঠনে লাল মাংসের ভূমিকা অপরিসীম। দেহের অস্থি, পেশি, দাঁত, নখ, নানা দেহযন্ত্র প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এই প্রোটিন থেকেই তৈরি হয় রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি। প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরিতেও প্রয়োজন এই প্রোটিনের।

এ ছাড়া লাল মাংসে থাকে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, ভিটামিন এ, বি, জিংক, ফসফরাস, সেলেনিয়াম প্রভৃতি খাদ্য উপাদান। তাই শরীরের জন্য লাল মাংসের প্রয়োজন আছে বৈকি।

এবার জেনে নিই ক্ষতিকর দিকগুলো
লাল মাংসের প্রধান ক্ষতি হলো, এর উচ্চ মাত্রার ট্রাইগ্লিসারাইড বা টিজি ও এলডিএল, যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত। এসব কোলেস্টেরল ধমনির প্রাচীরকে পুরু করে তোলে। ফলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়।

এভাবে চলতে থাকলে একপর্যায়ে রক্তনালির ব্লক তথা হৃদরোগের অন্যতম কারণ হয়ে দেখা দেয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ১০০ গ্রামের বেশি লাল মাংস খান, তাদের হৃদরোগে মৃত্যুঝুঁকি ১৫ শতাংশ, ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি ১১ শতাংশ এবং বৃহদন্ত্র ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি।

লাল মাংসে থাকে এক বিশেষ ধরনের ইনফ্লামেটরি যৌগ, যা পাকস্থলীর প্রদাহের জন্য দায়ী। এই যৌগ পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের ক্যানসারের জন্যও দায়ী। ফুসফুস আক্রান্ত হওয়া, কোলন ও স্তন ক্যানসারেও এর ভূমিকা থাকে। যত বেশি লাল মাংস খাওয়া হবে, এসবের ঝুঁকি ততই বাড়ে। অতিরিক্ত লাল মাংস গাউট, আর্থ্রাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেপটিক আলসার, পিত্তপাথর, প্যানক্রিয়াসের প্রদাহ, কিডনি রোগ প্রভৃতি সৃষ্টি করতে পারে।

তাহলে কী করণীয়?
এখন প্রশ্ন জাগে তাহলে কি লাল মাংস খাওয়া যাবে না? 
লাল মাংস খেলেই যে ক্ষতি হবে বিষয় কিন্তু তা নয়। তাই ঢালাওভাবে এটা বাদ দেওয়াও ঠিক নয়। ক্ষতির বিষয়টি নির্ভর করছে মাংসের ধরন, সপ্তাহে কী পরিমাণ খাওয়া হচ্ছে, কী পদ্ধতিতে রান্না হচ্ছে তার ওপর। এ জন্য বেছে নিতে পারেন কিছু নিয়ম। যেমন—
কোরবানির পর মাংস কাটার সময় যতটা সম্ভব চর্বি কেটে বাদ দিন। রান্নার সময় মাংসের গায়ে লেগে থাকা জমাট সাদা চর্বিগুলো তুলে ফেলুন। মাংস টুকরো বা পাতলা ফালি করে কেটে এবং চর্বি ছাড়িয়ে রান্না করলে এর সম্পৃক্ত চর্বির মাত্রা কমে যায়।

রান্নায় ঘি, মাখন বা ডালডা ব্যবহার না করে, কম তেলে রান্না করে সপ্তাহে দু-এক দিন বা মাঝে মধ্যে ৫০-১০০ গ্রামের মতো টাটকা মাংস খেলে তেমন সমস্যা নেই।

লাল মাংসে থাকে টিনিয়া সোলিয়াম নামের এক ধরনের বিশেষ কৃমিজাতীয় পরজীবী। ঠিকভাবে মাংস সিদ্ধ না হলে এই কৃমিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিক কাবাব, বারবিকিউ খেলে এর ঝুঁকি থাকে বেশি। এ জন্য কাবাব বা আধা সেদ্ধ মাংস পারতপক্ষে পরিহার করাই শ্রেয়।

মাংসের ভেতরে-বাইরে ভালোভাবে রান্না করা উচিত। রান্না করা মাংস বারবার জ্বাল দিয়ে বেশিদিন ধরে খাওয়া ঠিক নয়।

টানা কয়েক দিন লাল মাংস না খেয়ে মাঝে বিরতি দিন। মাঝে মধ্যে সবজি বা মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন।

কাঁচা মাংসে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয় খুব দ্রুত। তাই কোরবানির পর যত দ্রুত সম্ভব মাংস চুলায় বসান। আর ফ্রিজে রাখতে চাইলে যত দ্রুত সম্ভব সংরক্ষণ করুন।

আঁশ বা ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান প্রচুর। এসব খাবার চর্বি হজমে বাধা দেয় এবং কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তাই খাদ্যতালিকায় সালাদ, সবজি, আঁশযুক্ত ফল, ইসবগুলের ভুসি, তোকমার শরবত ইত্যাদি রাখুন। এতে লাল মাংসের ক্ষতিকর টক্সিন অন্ত্র থেকে সরে যায়, খারাপ কোলেস্টেরলও দূর হয়।

বেশি করে পানি পান করুন। খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর পানি খান।

প্রক্রিয়াজাত মাংস নয়
মনে রাখবেন, টাটকা বা ফ্রেশ লাল মাংসের চেয়ে প্রক্রিয়াজাত লাল মাংসের (সসেজ, সালামি, বেকন, লাঞ্চন মিটস, হট-ডগস ইত্যাদি) ক্ষতিকর দিক অনেক বেশি। এতে প্রচুর লবণ, নাইট্রেটস ও নানা রকম প্রিজারভেটিভ থাকে। প্রক্রিয়াজাত লাল মাংস দৈনিক ৫০ গ্রামের মতো গ্রহণে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে ৪২ শতাংশ আর ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে ১৯ শতাংশ। তাই সম্ভব হলে প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলুন।

এবার জেনে নিন রোগীদের জন্য কিছু সতর্কতা

স্থূলতা, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ বা হৃদরোগীরা লাল মাংস যথাসম্ভব বর্জন করুন কিংবা কম খান।

২৫ থেকে ৩০ বা এরও বেশি বয়সী, যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ২০০-এর বেশি, তাদের রেড মিট বা লাল মাংস না খাওয়াই ভালো।

যারা মুটিয়ে গেছেন, তারা প্রতিদিন ব্যায়াম করুন বা হাঁটার অভ্যাস করুন। এতে গ্রহণ করা বাড়তি ক্যালরি বার্ন হয়। সাঁতার কাটা, সিঁড়ি ভাঙা, সাইকেল চালনা, বাগান পরিষ্কারের মতো কাজগুলো হতে পারে ভালো ব্যায়াম।

যারা গ্যাস্ট্রিক, আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যানালফিশার ও পাইলসজাতীয় রোগে ভুগছেন, তারা রান্নায় কম তেল ও মসলা ব্যবহার করে অল্প পরিমাণ মাংস খেতে পারেন।

ইউরিক অ্যাসিড বেশি যাদের বা গিঁটে বাত ও কিডনি রোগীদের জন্য প্রাণিজ প্রোটিন ক্ষতিকর। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সাবেক পরিচালক, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

গ্রন্থণা: হৃদয় জাহান

কলি

ঘুরে আসুন হাসন রাজার বাড়ি থেকে

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৪৪ পিএম
ঘুরে আসুন হাসন রাজার বাড়ি থেকে
ছবি: সুমন্ত গুপ্ত

মাটিরও পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে কান্দে হাসন রাজার মন মইনারে, লোকে বলে বলে রে ঘর-বাড়ি ভালা নয় আমার কি ঘর বানাইব আমি শূন্যের মাঝার,’ কালজয়ী এসব গানের স্রষ্টা মরমি কবি হাসন রাজা। সুনামগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে যাওয়া লক্ষণশ্রী পরগনার তেঘরিয়া গ্রামে বিখ্যাত মরমি সাধক হাসন ‌রাজার বাড়ি।

অনেক দিন ধরে শুধু পরিকল্পনাই করছি সবাই মিলে ঘুরতে যাব হাসন রাজার বাড়ি কিন্তু ব্যাটে-বলে না মেলাতে পারার কারণে যাওয়াই হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত হুট করে একদিন সকালবেলাতেই বেরিয়ে পড়লাম হাসন রাজার বাড়ির উদ্দেশে।

অফিসের সবাইকে বললাম, অনেক দিন হয় কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না সবাই চলুন ঘুরে আসি হাসন রাজার বাড়ি থেকে। আমার প্রস্তাবে সবাই এক কথায় রাজি হয়ে গেল। সকালবেলা বের হতে হবে তাই আর দেরি না করে শুয়ে পড়লাম। সকাল বেলা ঘুম ভাঙল তপন দাদার ফোনে। অপর প্রান্ত থেকে তপন দাদা বললেন উঠলেন, কি সুমন্ত কি এখনো ঘুমে? আমি বললাম এই তো উঠে গেছি।

নিদ্রা দেবীর আবেশ থেকে বের হয়ে বেরিয়ে পড়লাম অফিস পানে। অফিস থেকেই আমরা সবাই একত্রিত হয়ে চার চাকার যান করে যাব গন্তব্য পানে। আমি বাসার থেকে বের হয়ে ফোন দিচ্ছি বাকি সব ভ্রমণসঙ্গীদের।

ঘড়ির কাঁটায় ততক্ষণে সকাল ৮টা বাজি বাজি করছে। দিলাম ফোন মিসবা ভাইকে। কোথায় আছে জানতে চাইলে উনি বললেন, ‘আমিও আছি অফিসের কাছাকাছি।‘ অফিসে উপস্থিত হয়ে দেখি ডালিয়া, বাসার, মিসবা, রিতন, নাজিয়া, মিঠু, তপনদা সবাই উপস্থিত। এবার অপেক্ষার পালা চার চাকার বাহনের জন্য। কিছু সময়ের মাঝে চার চাকার বাহন নিয়ে জালাল ভাই উপস্থিত। কাল বিলম্ব না করে আমরা রওনা দিলাম গন্তব্য পানে।

গন্তব্য পথে যাত্রা শুরু করলাম ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ১০টা। পিচঢালা পথ পেরিয়ে এগিয়ে চলছি আমরা। গাড়িতে চলছে একেক সময় একেক গান। কেউ বাংলা গান শুনবে কেউবা আবার হিন্দি গান এ নিয়ে চলছে কথার যুদ্ধ। সবার কথামতো বাসার একটু পরপর গান পরিবর্তন করতে লাগল আর গাড়ি এগিয়ে যেতে লাগল গন্তব্য পানে। বোকা নদী, মহাসিং নদী, নাইন্দা নদী ওপর তৈরি ব্রিজ পেরিয়ে আমরা ছুটে চলছি।

বলে রাখা ভালো হাসন রাজার প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রাজা। তার মুখ্য পরিচয় তিনি একজন মরমি কবি। তার সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন, ‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তি-স্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।’

১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী এবং মাতা মোসাম্মৎ হুরমত জান বিবি। হাসন রাজা ছিলেন তাদের দ্বিতীয় পুত্র। হাসনের পূর্বপুরুষের অধিবাস ছিল ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায়। বংশ পরম্পরায় তারা হিন্দু ছিলেন।

       হাসন রাজার বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে চলা সুরমা নদী

অতঃপর তারা দক্ষিণবঙ্গের যশোর জেলা হয়ে সিলেটে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তার দাদা বীরেন্দ্র চন্দ্র সিংহ দেব মতান্তরে বাবু রায় চৌধুরী সিলেটে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৫ বছর বয়সে পিতৃবিয়োগ হলে সংসার ও জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত হয়। হাসন বেশ সুদর্শন পুরুষ ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত।

তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় সহস্রাধিক গান এবং পঙ্‌ক্তি রচনা করেছেন। এ ছাড়া আরবি ও ফার্সি ভাষায় ছিল বিশেষ দক্ষতা। যৌবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত শৌখিন ও ভোগবিলাসী, কিন্তু পরিণত বয়সে সব বিষয়-সম্পত্তি বিলি-বণ্টন করে দরবেশ জীবনযাপন করেন। তারই উদ্যোগে সুনামগঞ্জ হাসন এম ই স্কুল, অনেক ধর্ম-প্রতিষ্ঠান ও আখড়া স্থাপিত হয়।

বিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী ছাত্রের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও তিনি করতেন। কিন্তু হাসন রাজার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও হাসন রাজা ছিলেন একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি। তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার আধ্যাত্মিক গান রচনা করেন। স্থানীয় বাউল-ফকিরেরা সেসব গান গেয়ে তাঁকে পরিচিত করে তোলেন। হাসন রাজা ছিলেন একজন ঐশীপ্রেমী এবং সেই প্রেমে মাতোয়ারা হয়েই তিনি গান রচনা করতেন। তার গানে প্রেম ও বৈরাগ্যময় আধ্যাত্মিক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে।

তার গানগুলো যেন হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একটি মিলন ক্ষেত্র। আমরা পা দিলাম ‘হাছন রাজা মিউজিয়াম’ সামনে। সুরমা নদীর কোল ঘেঁষে সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়াতে অবস্থিত এই মিউজিয়াম। পদব্রজে এগিয়ে গেলাম সম্মুখ পানে। প্রবেশ করলাম মিউজিয়ামের ভেতরে। একে একে ঘুরে দেখলাম মিউজিয়াম। মিউজিয়ামের প্রতিটি কোনায় বহন করছে এক জমিদারের অতীত ঐতিহ্যের পদাবলি।

মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ। হাসন রাজার ব্যবহৃত আলখেল্লা, গ্রামোফোন, লাঠি, কলম, আলমারি, টেবিল, চেয়ার, গেঞ্জি, ডুগি, তবলা, বাক্স, পশুরিপাগড়ি, খড়ম, কোর্তা, পাঞ্জাবি, ঢাল, তরবারি, বাসন-কোসন ইত্যাদি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত। এ ছাড়া তার এই সংরক্ষিত মিউজিয়ামে দেখা যায় হাতের লেখা বিভিন্ন গান ও কবিতার পাণ্ডুলিপি, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ ও বিমোহিত করে।

নেই জমিদার, নেই জমিদারিও। আছে শুধু জমিদারের রেখে যাওয়া স্থাপত্য। বাড়ির ভেতরের পুকুর পাড়ে গিয়ে আমরা বসলাম। হয়তো এই পুকুর পাড়েই বসে হাসন রাজা রচনা করেছেন তাঁর বিখ্যাত সব গান। বাড়িটি কালের সাক্ষী হয়ে আজও পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হলো। 

কীভাবে যাবেন
হাসন রাজার বাড়িতে যেতে হলে আপনাকে প্রথমেই যেতে হবে সিলেটে। কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে যেতে হবে সুনামগঞ্জ নতুন বাস টার্মিনালে। এরপর অটোরিকশায় ট্রাফিক পয়েন্ট। রিকশা বা হেঁটে তেঘরিয়া। পৌঁছে যাবেন সুরমার তীরঘেঁষা হাছন রাজার বাড়ি বা মিউজিয়ামে। তা ছাড়া সিলেট শহরের চৌহাট্টা থেকে গাড়ি নিয়ে সরাসরি চলে যেতে পারেন মিউজিয়ামে। মিউজিয়ামের প্রবেশ ফি ১০ টাকা।

 কলি

ঈদে অতিথি আপ্যায়ন

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:০৬ পিএম
ঈদে অতিথি আপ্যায়ন
ছবি: আনিসা আক্তার নুপুর

সকাল থেকেই শুরু হয় ঈদ খাবারের আয়োজন। নিজের বাড়ি বা অন্যের বাড়ি, খাবারের কমতি থাকে না কোথাও। ঈদের দিন দুপুরে বা রাতে আর যা-ই রান্না করুন, পোলাও, কোরমা আর সেমাই রাখতেই হয়, নাহলে কেমন যেন অসম্পূর্ণ লাগে। এ আয়োজনে পরিচিত পদগুলোর পাশাপাশি রাখতে পারেন নতুন কিছু স্বাদ।

সাদা পোলাও উইথ মুঠি কাবাব 

উপকরণ

পোলাওয়ের জন্য: পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ,  আদা রসুন বাটা ২ চা চামচ, দারুচিনি এলাচ তেজপাতা ৬-৭টি, গুঁড়া দুধ আধা কাপ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, তেল আধা কাপ, পানি ২ লিটার, চিনি ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৮-১০টি, লবণ স্বাদমতো।

কাবাবের জন্য: চিকেন কিমা ১ কাপ, পাউরুটি ১ পিস, পুদিনা পাতা বাটা ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা চামচ, আদা রসুন বাটা ২ চা চামচ, কাবাব মসলা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ২ চা চামচ, লেবুর রস ১ চা চামচ।

প্রণালি
পোলাওয়ের জন্য প্রথমে চাল ধুয়ে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর হাঁড়িতে তেল ও ঘি গরম করে দারুচিনি এলাচ দিয়ে পেঁয়াজ হালকা করে ভেজে চাল দিয়ে দিতে হবে। আদা রসুন দিয়ে ভালো করে চাল কষিয়ে নিতে হবে। তারপর পানি ও গুঁড়া দুধ, লবণ, কাঁচা মরিচ দিয়ে ঢেকে রান্না করতে হবে। পানি শুকিয়ে এলে ১০ মিনিট দমে রাখতে হবে। কাবাবের জন্য কিমার সঙ্গে সব মসলা মিক্স করে কাবাবের মতো বানিয়ে হালকা তেলে ভেজে নিতে হবে। এবার পোলাওয়ের সঙ্গে কাবাব দিয়ে পরিবেশন করতে হবে। 

বাটা মসলায় বিফ কষা

উপকরণ
বিফ ১ কেজি, পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, টক দই দুই টেবিল চামচ, আদা-রসুন বাটা ৩ টেবিল চামচ, ধনিয়া বাটা আধা চা চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ৩ টেবিল চামচ, মরিচ বাটা ২ চা চামচ, হলুদ বাটা ২ চা চামচ, বড় এলাচ ১টি, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ৬-৭টি করে, তেজপাতা ২টি, টমেটো সস ২ চা চামচ, চিনি সামান্য, তেল আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, পানি প্রয়োজনমতো। 

প্রণালি
হাড়সহ গরুর মাংস পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। তারপর কড়াইয়ে তেল গরম করে আস্ত গরম মসলা দিয়ে বাটা মসলাগুলো দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। তারপর লবণ ও টক দই ফেটিয়ে দিয়ে কষাতে হবে, গরুর মাংস দিয়ে নেড়েচেড়ে মিক্স করে ঢেকে রান্না করতে হবে। মাংস কষানো হলে পানি দিয়ে ঢেকে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করতে হবে। মাংস সেদ্ধ হলে পানি শুকিয়ে এলে সস দিয়ে নেড়েচেড়ে পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে চিনি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

চিকেন রোস্ট 

উপকরণ 
মুরগি ১ কেজি, আদা ও রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, টক দই ১ কাপ, পোস্ত দানা বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, সাদা গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, দারুচিনি এলাচ তেজপাতা ৫-৬ টি, জায়ফল ও জয়ত্রি বাটা আধা চা চামচ, কাঠবাদাম বাটা ১ টেবিল চামচ, ঘি ২ টেবিল চামচ, তেল আধা কাপ, লবণ প্রয়োজনমতো, টমেটো সস ২ চা চামচ, গুঁড়া দুধ ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৭-৮ টি, চিনি ১ চা চামচ, লিকুইড দুধ ২ কাপ। 

প্রণালি
প্রথমে চার টুকরো করে নেওয়া মুরগির মাংস লবণ ও গোলমরিচ সামান্য আদা রসুন বাটা মেখে হাঁড়িতে তেল গরম করে ভেজে নিতে হবে। মাংস ভাজা হলে তুলে রেখে ওই তেলের মধ্যে গরম মসলা দিয়ে বাটা মসলাগুলো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। তারপর টক দই ফেটিয়ে দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে। এবার ভাজা মুরগির মাংসগুলো দিয়ে আবার কষিয়ে দুই কাপ লিকুইড দুধ দিতে হবে, সঙ্গে কাঁচা মরিচ দিতে হবে। তারপর টমেটো সস ও গুঁড়া দুধ এবং ঘি দিয়ে ভালো করে নেড়েচেড়ে দিয়ে মাখামাখা হয়ে এলে পেঁয়াজ বেরেস্তা ও চিনি দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

মিক্সড সবজি 

উপকরণ
মুরগির হাড় ছাড়া মাংস ১ কাপ, আদা রসুন বাটা ২ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া এক চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৮-১০টি, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা আধা কাপ, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, বাটার ২ চা চামচ, ক্যাপসিকাম ১ কাপ, গাজর আধা কাপ, ব্রকলি ১ কাপ, পেঁপে আধা কাপ, বরবটি আধা কাপ, আলু আধা কাপ, বাঁধাকপি এক কাপ, সয়া সস ২ চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, তেল ২ টেবিল চামচ, চিনি ১ চা চামচ।

প্রণালি
প্রথমে সবজিগুলো হাফ বয়েল করে নিতে হবে। তারপর পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। মুরগির মাংসের সঙ্গে গোলমরিচ গুঁড়া লবণ আদা রসুন বাটা ও সয়াসস মিক্স করতে হবে। এরপর কড়াইয়ে তেল গরম করে মিক্স করা মাংস দিয়ে নেড়েচেড়ে ৫ মিনিট রান্না করতে হবে। তারপর পেঁয়াজগুলো ও সবজিগুলো দিয়ে নেড়েচেড়ে কাঁচা মরিচ দিয়ে ১ কাপ পানির সঙ্গে কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে নিয়ে সবজির সঙ্গে দিতে হবে। ঘন হলে চিনি ও বাটার দিয়ে নেড়েচেড়ে নামিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

ঝুরা সেমাই

উপকরণ
লম্বা সেমাই ২০০ গ্রাম, নারিকেল আধা কাপ, লিকুইড দুধ ১ কাপ, গুঁড়া দুধ ৩ টেবিল চামচ, চিনি ১ কাপ, ঘি আধা কাপ, বাদাম কিশমিশ প্রয়োজনমতো, লবণ এক চিমটি। 

প্রণালি
প্রথমে কড়াইয়ে ঘি গরম করে দারুচিনি ও এলাচ দিয়ে লম্বা সেমাইগুলো দিয়ে দিতে কম আঁচে নেড়েচেড়ে ভেজে নিতে হবে। ভাজা হলে নারিকেল দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ভাজতে হবে। চিনি ও লিকুইড দুধ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এরপর গুঁড়া দুধ দিয়ে ও লবণ দিয়ে ভালো করে মিক্স করে বাদাম কিশমিশ দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

সানরাইজ মোকটেল

উপকরণ
তরমুজের রস ২ কাপ, মালটার রস দুই কাপ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, সুগার সিরাপ ৩ টেবিল চামচ, সোডা ওয়াটার আধা কাপ, পুদিনা পাতা একমুঠো, লেবু স্লাইস করা ৫-৬ টুকরা, বরফ কুচি প্রয়োজনমতো।

প্রণালি 
প্রথমে একটি গ্লাস নিয়ে পুদিনা পাতাও স্লাইস লেবু এবং কিছু বরফ কুচি দিতে হবে এরপর গ্লাসের অর্ধেক মালটার রস দিতে হবে তার ওপরে সুগার সিরাপ দিয়ে লেবুর রস দিতে হবে। তারপর সোডা ওয়াটার এবং তরমুজের রস দিতে হবে। গ্লাসের নিচের অংশে সূর্যের লাল রং হয়ে উপরের দিকে হালকা শেড হবে একদম সানরাইজের মতো। এরপর ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করতে হবে।

 কলি 

 

ভ্রমণে যেসব বিষয় মেনে চলবেন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১১:১৫ এএম
ভ্রমণে যেসব বিষয় মেনে চলবেন

ঈদ মানেই আনন্দ আয়োজন। ঈদকে উপভোগ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করা হয়। তার মধ্যে ঘুরতে যাওয়া অন্যতম। ঈদের ছুটিতে অনেকেই পরিবারসহ বা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ঘুরতে যান। কাছে বা দূরে যেখানেই যান না কেন, ভ্রমণে কিছু ব্যাপার মেনে চলা উচিত। ভ্রমণের সেসব বিষয় নিয়ে লিখেছেন মোহনা জাহ্নবী

পরিকল্পনা করুন
কোথায় ঘুরতে যাবেন, আগে তা পরিকল্পনা করুন। পূর্বপরিকল্পিত থাকলে ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়। এরপর বাজেট নির্ধারণ করে ফেলুন। বাজেট নির্ধারণ করা হলে অপ্রয়োজনীয় খরচ অনেকটাই এড়ানো যায়। স্থান ও বাজেট নির্ধারণ হয়ে যাওয়ার পর টিকিট সংগ্রহ করে ফেলুন এবং হোটেল বুকিং দিন। ভ্রমণস্থলে গিয়ে হোটেল খুঁজে বুকিং দেওয়াটা একটু ঝামেলার। সেই ঝামেলা এড়াতে সম্ভব হলে আগেই হোটেল বুকিং দিন।

আবহাওয়া
ঘুরতে যাওয়ার আগে অবশ্যই আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখুন। এখন যেহেতু গরম ও একই সঙ্গে বৃষ্টির সময়, তাই ছাতা, রেইনকোট, সানগ্লাস, সানস্ক্রিন এসব সঙ্গে রাখুন।

প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ
ঘুরতে গেলে কিছু মৌলিক জিনিস অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হয়। যেমন- মোবাইল, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, প্রয়োজনীয় ওষুধ (জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, গ্যাসট্রিক), স্যালাইন, জামাকাপড়, ব্যাগ ইত্যাদি। এসব জিনিস ছাড়াও ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য অনুসঙ্গও তালিকা করে গুছিয়ে নিন, যেন ভুল না হয়।

পোশাক
গরমের দিনে ঘুরতে গেলে সুতির পোশাক পরাই উত্তম। এ ছাড়া যেসব কাপড় পরিধান করলে গরম কম লাগে, সেসব কাপড় সঙ্গে নিন। কালো রঙের পোশাক না পরাই ভালো। হালকা রঙের পোশাক পরুন। ভ্রমণে গেলে সবাই স্বাভাবিকভাবে একাধিক পোশাক সঙ্গে নিয়ে যান। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশি পোশাক সঙ্গে রাখতে পারেন, যেহেতু বৃষ্টির মৌসুম। বৃষ্টি হলে হালকা শীতও অনুভূত হয়। তাই হালকা শীতের পোশাকও নিয়ে নিন দু-একটা।

পরিবারের সদস্যদের প্রতি খেয়াল
যদি পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ করেন এবং পরিবারে বয়স্ক ও শিশুরা থাকে, তাহলে তাদের প্রতি একটু বেশি খেয়াল রাখার প্রয়োজন হয়। থাকা, খাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুতে খেয়াল রাখুন তাদের যেন কোনো সমস্যা না হয়।

সহনশীল আচরণ
ভ্রমণে যাওয়ার সময় এবং ভ্রমণস্থলে আপনাদের সঙ্গে আরও অনেক পর্যটক থাকবে। এমন কোনো আচরণ বা কাজ করবেন না, যাতে তাদের সমস্যা হয়। বরং অন্যদের প্রতি সহনশীল আচরণ করুন এবং প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। এমনকি যে হোটেলে উঠবেন, সেখানকার কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গেও আন্তরিক আচরণ করুন।

হালকা খাবার ও পানি সঙ্গে রাখুন
ভ্রমণে সবসময় ব্যাগে হালকা খাবার ও পানি সঙ্গে রাখুন। সাময়িক ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণে তা কাজে লাগবে।

প্রয়োজনীয় সতর্কতা
বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখতে পারেন। চা-কফি যতটা সম্ভব কম পান করুন। যেখানে সেখানে ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন। এতে অন্যদের অসুবিধা হতে পারে।

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন
যেখানেই ঘুরতে যান না কেন, অবশ্যই পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না। যদি বর্জ্যদানি খুঁজে না পান, ব্যাগের ভেতর জমা রাখুন। পরে যথাস্থানে ফেলে দিবেন।

নিরাপত্তা
ভ্রমণে অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এমন কোথাও যাবেন না বা এমন কিছু করবেন না, যাতে আপনাকে কোনো বিপদে পড়তে হয়। সতর্কতা অবলম্বন করার পরও যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে ৯৯৯ এ কল করে সহযোগিতা চাইবেন।

 কলি

ঈদের ছুটিতে বেড়ানো

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ পিএম
ঈদের ছুটিতে বেড়ানো

শহরের কোলাহল থেকে বেরিয়ে একটু ঘুরে আসার প্রবল ইচ্ছে ঢাকায় থাকা প্রতিটি মানুষের মনেই থাকে। তাই ঈদের ছুটিতে দূরে কোথাও না গিয়ে অনেকেই যেতে চান ঢাকার আশপাশের এমন সব রিসোর্টে যেখানে পরিবারসহ সহজে বেরিয়ে আসা যাবে। তেমনি কয়েকটি রিসোর্টের বিস্তারিত জানাচ্ছেন মাহমুদ কবীর

সারাহ রিসোর্ট
ঈদের ছুটিতে ঢাকার কাছে গাজীপুরের রাজাবাড়িতে ২০০ বিঘাজুড়ে নির্মিত সারাহ রিসোর্টে পরিবার নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন। সারাহ রিসোর্টে আছে ছয়টি বাংলো, ওয়াটার লজ, রাজা ভিউ টাওয়ার, সুইমিংপুল, ৯ডি মুভি থিয়েটার, ভিআর গেমস, মিনি বার, জিম, জাকুজি, মাড হাউস, কিডস জোন, ইনডোর ও আউটডোর গেম, কায়াকিং, বোট রাইডিং, সাইকেল রাইডিং, মিনি চিড়িয়াখানা ইত্যাদি। ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরি ও সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কক্ষে থাকার জন্য আপনাদের খরচ করতে হবে ৮,৫০০ থেকে ৬৬,০০০ টাকা।

ভিলা ও রুমের সঙ্গে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে কমপ্লিমেন্টারি নাশতা, এসি রুম, ফ্রি ওয়াইফাই, ২৪ ঘণ্টা চা বা কফি, টেলিফোন, হেয়ার ড্রাইয়ার, লন্ড্রি সুবিধা ও কার পার্কিং। বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯৬৯৯০৯০০০ নম্বরে। করপোরেট বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ ০১৯৫৮৬০০৩০৩-৩০৭ নম্বরে। সারাহ রিসোর্টে আপনি পাবলিক বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে যেতে পারেন। প্রাইভেট কার নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা থেকে ডানদিকে রাজেন্দ্রপুর-কাপাসিয়া সড়ক ধরে পাবুর রাস্তা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাবেন। সেখান থেকে ডান দিকে এক কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই পাবেন সারাহ রিসোর্ট। পাবলিক বাসে গেলে ঢাকার মহাখালী ও উত্তরা থেকে কাপাসিয়া ও টোকগামী বাসে পাবুর রাস্তা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাবেন। সেখান থেকে অটোরিকশা নিয়ে চলে যাবেন সারাহ রিসোর্টে। তবে পরিবার নিয়ে আসলে প্রাইভেট কার নিয়ে আসা ভালো। 

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি এলাকায় শিল্পীদম্পতি তৌকির-বিপাশা গড়ে তুলেছেন নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট। প্রায় ২৫ বিঘার এই রিসোর্টে রয়েছে কনফারেন্স সেন্টার, রেস্তোরাঁ ও সুইমিংপুল। থাকার জন্য আবাসিক হলের পাশাপাশি পুকুরের পানির ওপর রয়েছে বাঁশ, কাঠ এবং প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি ১১টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কটেজ। যার বারান্দায় বসে রাতের জ্যোৎস্না বা পূর্ণিমা দেখা যায়। কটেজে বসে শোনা যায় ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, জোনাকির আলো ছড়ানো টিপ টিপ বাতি জ্বলা আর নেভা। পানির ওপর কটেজের ভাড়া ২৪ ঘণ্টার জন্য ১০ হাজার ৭৫২ টাকা এবং বিল্ডিং কটেজের ভাড়া ৬,৯৫৭ থেকে ৮,২২২ টাকা। বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৭২২২৪২৮১, ০১৭৭২২২৪২৮২ নম্বরে।

ছুটি রিসোর্ট
গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ঘেঁষে প্রায় ৫০ বিঘা জায়গাজুড়ে সুকুন্দি গ্রামে ছুটি রিসোর্ট অবস্থিত। একটি সুন্দর দিন কাটাতে যা যা দরকার তার সবকিছুই রয়েছে এখানে। এখানে রয়েছে নৌভ্রমণ এবং সংরক্ষিত বনে তাঁবু টানানোর ব্যবস্থা। এ ছাড়া আছে ছনের ঘর, ২১টি এসি-নন এসি কটেজ, সুইমিংপুল, বার্ড হাউস, ভেষজ বাগান, ফল, সবজি ও ফুলের বাগান, দুটি পিকনিক স্পট, কনফারেন্স রুম, স্পোর্টস জোন, ইনডোর গেমস জোন এবং কিডস জোন। এখানে সুইমিংপুল ছাড়াও পুকুরে নৌকা চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ছুটি রিসোর্টে ২৪ ঘণ্টার জন্য কটেজ ভাড়া নিতে ৩-১০ হাজার টাকা লাগে। রয়েল স্যুটের ভাড়া ১৭ হাজার টাকা। কনফারেন্স রুমের ভাড়া ২০-৫০ হাজার টাকা। বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৭৭-১১৪৪৮৮, ০১৭৭৭-১১৪৪৯৯ নম্বরে।

গ্রিনটেক রিসোর্ট
ঢাকা থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরের নিভৃত গ্রাম ভবানীপুরের গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে গ্রিনটেক রিসোর্ট। নিরিবিলিতে ঘুরে আসার জন্য গ্রিনটেক রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার অনেকের প্রথম পছন্দের জায়গা হয়ে উঠেছে এর নিরাপত্তার জন্য। রিসোর্টের চারপাশই দেয়ালঘেরা। সুইমিংপুলটিও আলাদা দেয়ালঘেরা। গ্রিনটেক রিসোর্টের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে পুকুরের কাঠের মাচার ওপর কটেজ। মন চাইলেই পুকুরে নৌকায় ভাসতে ভাসতে ছিপ ফেলে মাছ ধরতে পারেন অতিথিরা। তাছাড়া বড়দের পাশাপাশি ছোট বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। থাকার জন্য গ্রিনটেক রিসোর্টে ২৪ ঘণ্টার জন্য রুম ভাড়া ৪০০০ থেকে ৭০০০ টাকা। বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৭৭৭৩৭৩৫১ নম্বরে।

রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট
গাজীপুরের শালবনের গহীনে প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে ২৬টি কটেজ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট। এখানে রয়েছে ১৯টি সুউচ্চ ভবন। প্রতিটি ভবন চারতলা, একেকটি তলায় চারটি করে রুম। এ ছাড়া রয়েছে কয়েকটি মাড হাউস বা মাটির ঘর। পাবেন বিস্তীর্ণ মাঠ, ২৬টি কটেজ পার্ক, ২২টি ওয়াটারফ্রন্ট কটেজ, সুইমিংপুল, ম্যাসাজ পার্লার, ইটের তৈরি কিন্তু মাটির প্রলেপ দেওয়া ঘর, ছনের ঘর এবং ক্যাফেটরিয়া। এর চারপাশেই ঘন বন, মাঝে রিসোর্টগুলো দাঁড়িয়ে। কয়েকটি রিসোর্টের রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে শালবন ছোঁয়া যায়।

প্রতিটি ভবনের ছাদে রয়েছে অবজারভেশন টাওয়ার। যাতে উঠলে পুরো বন দেখা যায়। চাইলে রিসোর্টের লেকে মাছ ধরতে এবং নৌকা চালাতে পারেন। সুইমিংপুলের পাশাপাশি সাইক্লিং করার ব্যবস্থাও রয়েছে। রিসোর্টে তিন ধরনের ভ্রমণ প্যাকেজ রয়েছে। ডে প্যাকেজে সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, ১টি রুম (২ জন), সুইমিংপুল, মাঠ মিলে ৫,৫০০ টাকা। ডে নাইট প্যাকেজে সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার, ১টি রুম (২ জন), সুইমিংপুল, মাঠ মিলে ৯,০০০ টাকা। তবে দুজনের কম গেলে রুম দেওয়া হয় না। বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৯৩৩১৩৬৬২ নম্বরে। 

জল ও জঙ্গলের কাব্য
পূর্ণিমায় বিলের পাশে বসে জোসনা দেখার অন্যরকম অনুভূতি পেতে চাইলে যেতে পারেন জল ও জঙ্গলের কাব্য রিসোর্টে। পুরোপুরি গ্রামীণ পরিবেশে তৈরি করা হয়েছে জল ও জঙ্গলের কাব্য। ডে ট্যুরের জন্য এই রিসোর্ট জনপ্রিয়। চাইলে রাতে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। রিসোর্টের পাশের বিলে নৌকা ভ্রমণেও সময় কাটাতে পারেন। সারা দিনের জন্য জনপ্রতি ২,০০০ টাকা (সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার আর বিকেলে স্ন্যাক্স)। শিশু (৩ থেকে ১১ বছর), কাজের লোক ও ড্রাইভারদের জন্য জনপ্রতি ১,০০০ টাকা। বুকিং এর জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৮৫০০৭৭৭৭ নম্বরে।

দ্য বেজ ক্যাম্প বাংলাদেশ
দ্য বেজ ক্যাম্প বাংলাদেশের প্রথম আউটডোর অ্যাক্টিভিটি ক্যাম্প। ২০১৩ সালে এটি গড়ে তোলা হয়। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য দারুণ একটি জায়গা এটি। গরমে শীতলতা পাওয়ার জন্য রয়েছে সুইমিংপুল। শিশুদের জন্য রয়েছে স্পেশাল জোন। শালবনে ট্রেকিংসহ পুকুরে মাছ ধরারও ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে রাতে তাঁবুতে থাকতেও পারবেন। ডে প্যাকেজে জনপ্রতি ৩,৫০০ টাকা এবং ডে নাইট প্যাকেজে জনপ্রতি ৫,৫০০ টাকা। বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯৫২৭৭৭৯৯৯ নম্বরে।

রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট রিসোর্ট
রাঙামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট রিসোর্ট গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত। এখানে রয়েছে বনভোজন কেন্দ্র, লেকে মাছ ধরা ও বেড়ানোর ব্যবস্থা এবং কটেজে অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা। শালগাছ ঘেরা এই রিসোর্টের লেকে নৌ ভ্রমণের ব্যবস্থার সঙ্গে সুইমিংপুলও রয়েছে। বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮১১৪১৪০৭৪ নম্বরে।

সুবর্ণভূমি রিসোর্ট
ঢাকা থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইসমানী চরে সুবর্ণভূমি রিসোর্ট অবস্থিত। মেঘনা নদীর একেবারে কোল ঘেঁষেই গড়ে তোলা হয়েছে এই রিসোর্ট। চারপাশের কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে প্রকৃতি আর নদীর মাঝে কিছু সময় কাটাতে এই জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়। খোলামেলা পরিবেশে এখানে রয়েছে খেলার সরঞ্জাম, দোলনা, সুইমিংপুলসহ থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। সারা দিনের জন্য জনপ্রতি ২,২৫০ টাকা (দুপুরের খাবার আর বিকেলে স্ন্যাক্স)। রাতে থাকাসহ ২ জনের প্যাকেজ ১৪,০০০ থেকে ১৫,৫০০ টাকা। বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৮৪১৯২১০৬৫ নম্বরে।

 কলি

ঘুরে আসুন ঢাকার আশপাশে

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১১:০০ এএম
ঘুরে আসুন ঢাকার  আশপাশে

ঈদে যারা ঢাকায় থাকবেন, তারা ঈদের ছুটিতে  এদিক ওদিক ঘুরতে যেতে চাইবেন।  কিন্তু কোথায় যাবেন?  একদিনে ঘুরে আসার মতো জায়গা কি ঢাকার আশপাশে আছে? আছে। একদিনেই ঘুরে আসার মতো এমন বেশ কিছু জায়গার খোঁজ জানাচ্ছেন আহমেদ রিয়াজ 

সাদুল্লাপুর গোলাপ গ্রাম
গ্রামের যেখানেই আপনার দৃষ্টি পড়বে, সেখানেই গোলাপ। পুরো গ্রামটাই যেন একটা অখণ্ড গোলাপ বাগান। সেখানে যেতে হলে মিরপুর দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট আসতে হবে। বটতলা ঘাট থেকে সাদুল্লাহপুর ঘাটের উদ্দেশে ৩০ মিনিট পরপর ইঞ্জিনচালিত বোট ছাড়ে। যেতে সময় লাগবে প্রায় এক ঘণ্টা। বোট ছাড়াও যাওয়ার উপায় আছে। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকার নর্থ টাওয়ারের কাছে এসে সেখান থেকে দিয়াবাড়ি আসতে হবে। সেখান থেকে মেইনরোড ধরে বিরুলিয়া ব্রিজ পেরিয়ে সাদুল্লাপুর গোলাপ গ্রামে যাওয়া যায়।

পানাম নগর এবং সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর
ঢাকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঐতিহাসিক শহর পানামের দেখা মিলবে। পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংস প্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানাম নগর। এটা ঈসা খাঁ-এর আমলে বাংলার রাজধানী ছিল। পানাম নগর থেকে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর খুব বেশি দূরে নয়। ঢাকার গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জের বাসে করে মোগড়াপাড়া নেমে সিএনজি কিংবা অটোরিকশায় ওই দুই জায়গাতেই যাওয়া যায়।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জমিদার বাড়িগুলোর একটি। ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। মোট ৭টি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়ি অবস্থিত। জমিদার বাড়ির পুরোটাই মনোরম পরিবেশে ঘেরা। ঢাকার গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সাটুরিয়া পৌঁছে সেখান থেকে যেতে হবে জমিদার বাড়ির দিকে।

মহেরা জমিদার বাড়ি
এই জমিদার বাড়িটি টাঙ্গাইলে। অপূর্ব সুন্দর এই জমিদার বাড়ি তিনটি স্থাপনা নিয়ে তৈরি। তিনটি স্থাপনার প্রতিটাতে মন ভালো করা অসাধারণ সব কারুকার্য। বাড়ির ভেতরের দিকে বিশাল খাঁচায় বিভিন্ন রকম পাখি। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের বাসে করে নাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে খুব একটা দূরে নয়।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
সাফারি পার্কে ঘোরাঘুরির মজাই অন্যরকম। পুরো সাফারি পার্ক ঘুরে দেখতে সারা দিন লেগে যাবে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার ৬৯০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই পার্ক। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য প্রাণীদের বিচরণ দেখা যাবে। এ ছাড়া রয়েছে পাখি শালা, প্রজাপতি সাফারি, জিরাফ ফিডিং স্পট, অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, বোটিং, লেইক জোন, আইল্যান্ড, প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেনসহ আরও অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর সমারোহ। গাজীপুরের বাঘের বাজার নেমে সেখান থেকে অটোরিকশায় খুব সহজেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে যাওয়া যায়।

শালবন বিহার
শালবন বৌদ্ধবিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতির অসংখ্য এবং চমৎকার প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি। দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধবিহারটি নির্মাণ করেন।
শালবন বিহার যেতে হলে প্রথমে কুমিল্লা শহরে যেতে হবে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিতে করে কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিমি দূরে কোট বাড়িতে শালবন বিহার অবস্থিত।

বেলাই বিল
গাজীপুরের বেলাইবিল মনোরম একটি জায়গা। চেলাই নদীর সঙ্গে বেলাই বিল। এখানে ইঞ্জিনচালিত এবং ডিঙি নৌকা দুটোই ভাড়া করা যায় সারা দিনের জন্য। বিকেলে এই বিলের চারপাশে অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়। এখানে নদীর পাড় ঘুরে দেখারও অপূর্ব সুযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে গাজীপুর বাসস্ট্যান্ড অথবা গাজীপুর শিববাড়ি নেমে সেখান থেকে রিকশা বা সিএনজি দিয়ে কানাইয়া বাজার আসতে হবে। কানাইয়া বাজার ঘাটে বেলাই বিল ভ্রমণের জন্য নৌকা ভাড়া পাবেন। 

রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি
এটি একটি প্রত্নতত্তের জায়গা। সাভার উপজেলার সাভার পৌরসভার মজিদপুরে (সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্ব দিকে) অবস্থিত। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকে এখানে বৌদ্ধ ধর্ম সভ্যতার একটি কেন্দ্র ছিল। 

উয়ারী-বটেশ্বর
এটা তো বিশ্ববিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবিস্থত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ। অসম রাজার গড় নামে এটি সমাধিক পরিচিত। এখানে প্রায় তিন হাজার পূর্বের প্রাচীন শিলালিপি মুদ্রাসহ সভ্যতার অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে। এখানে পর্যটকদের জন্য রেস্ট হাউজ রয়েছে। ঢাকা থেকে বাসে করে করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে রিকাশায় করে বটেশ্বরে যাওয়া যায়।

লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি
নান্দনিক সৌন্দর্য ও কারুকার্য খচিতময় লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি। বাড়িগুলোর নিখুঁত কারুকাজ ও সুনিপুণ নির্মাণশৈলীতে মুগ্ধ না হয়ে পারা যাবে না। গুলিস্তান থেকে বাসে করে যেতে হবে পাঁচদোনা মোড়। সেখান থেকে রিকশায় ডাংগা বাজার। ওই বাজার থেকে হাঁটা পথের দূরত্বে লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি। বনানী, মহাখালী কিংবা উত্তরা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে ৩০০ ফিট দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পেরিয়ে মায়ার বাড়ির মোড়ে আসতে হবে। সেখান থেকে ডাংগা বাজার যাওয়ার অটোরিকশা পাওয়া যায়।

 কলি