উন্নত জীবনযাপনের লক্ষ্যে ফ্রান্সে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন ৩০ বছর বয়সী এক যুবক। আগ্রহী এ যুবককে ফ্রান্সে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দেন তারই দূরসম্পর্কের আত্মীয় মো. শাহিন মিয়া (৪২)। চুক্তি অনুযায়ী শুরুতেই প্রায় ৯ লাখ টাকা নগদ নেন শাহিন। তবে ফ্রান্সে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যুবককে নিয়ে যান লেবাননে। ভুক্তভোগী যুবককে আটকে রেখে চালান নির্মম নির্যাতন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ওই যুবক পড়েন মানব পাচারকারীর খপ্পরে।
ভুক্তভোগী ওই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য মো. শাহিন মিয়াকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গত শুক্রবার বিকেলে র্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি তাপস কর্মকার এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, গ্রেপ্তার মো. শাহিন মিয়া ভুক্তভোগীর দূরসম্পর্কের আত্মীয়। শাহিন দীর্ঘদিন লেবাননে প্রবাসজীবন কাটান। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় ফ্রান্সে যেতে আগ্রহী যুবককে তিনি প্রথমে লেবাননে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখান। আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে যুবকের কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, পরে শাহিন ও তার সহযোগীরা ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর ভুক্তভোগী যুবককে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ফ্লাইটে করে লেবাননে নিয়ে যান। লেবানন বিমানবন্দরে নামার পর শাহিন ওই যুববকে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখেন। এরপর যুবকের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালান শাহিন ও তার সহযোগীরা। ভুক্তভোগী যুবককে বাংলাদেশ থেকে আরও টাকা এনে দিতে বলা হয়। পরে ওই যুবক নির্যাতন সইতে না পেরে সেখান থেকে পালিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে ধরা দেন। লেবানন সরকার তাকে ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। দেশে ফিরে ভুক্তভোগী মানব পাচার প্রতিরোধ দমন আইনে শাহিনের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব অভিযান চালিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য শাহিনকে গ্রেপ্তার করে।