সুইডেনজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা।
শুক্রবার (৬ জুন) দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনন্দ ও ত্যাগের এই দিনে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান সমবেত হন নামাজের কাতারে।
সুইডেন, এক সময়কার ভাইকিং সভ্যতার আধুনিক উত্তরসূরি, আজ ইউরোপের অন্যতম শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র। আর এই দেশের হৃদয়ে অবস্থিত স্টকহোম - বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও জলময় নগরী।
চমৎকার নকশায় গড়া এই শহরটি একদিকে যেমন ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, তেমনি প্রযুক্তি, পরিবেশসচেতনতা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও অনন্য এক মডেল।
সেই স্টকহোমেই আমি এবার প্রথমবারের মতো ঈদ উদযাপন করছি, যা আমার ৩৬ বছরের প্রবাস জীবনে এক নতুন ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
গ্রীষ্মের মেঘলা আকাশ, হালকা ঠান্ডা হাওয়া আর স্নিগ্ধ সকাল - সব মিলিয়ে ঈদের দিনটিকে ঘিরে ছিল এক ভিন্ন অনুভব।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের উপস্থিতিতে স্টকহোমের ব্রেদেং, সিস্তা, ফিতিয়া, সেরহোলম্যান ও হালুনদার বিভিন্ন মসজিদ ও উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ পরিণত হয় ঈদের মিলনমেলায়।
নামাজ শেষে কোলাকুলি, ছোটদের উচ্ছ্বাস, আর রঙিন পোশাকে সজ্জিত মুসল্লিদের ঢল যেন এক মুহূর্তে বাংলাদেশকে টেনে আনে এই দূর উত্তর ইউরোপে।
আমি ঈদের নামাজ আদায় করি স্টকহোমের ব্রেদেং মসজিদে। আমার সঙ্গে ছিলেন সুইডেনে ৪১ বছর ধরে বসবাসরত অভিজ্ঞ প্রবাসী শরীফ আহমেদ লস্কর, যিনি সুইডেনের বাংলাদেশি কমিউনিটির একজন শ্রদ্ধেয় নাম।
তিনি বলেন, ‘প্রবাসে থেকেও আমরা আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। ঈদ আমাদের আত্মিক বন্ধনের উপলক্ষ, যেখানে আমরা আবারও একে অপরের আপনজন হয়ে উঠি।’
ঈদের দিন দেখা হয় মহিউদ্দিন আহমেদ জিন্টু ভাইয়ের সঙ্গে। যিনি সুইডেনে ৩৭ বছর ধরে বসবাস করছেন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় মুখ।
তিনি বলেন, ‘এই ঈদে আমি দোয়া করি - বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন শান্তি, নিরাপত্তা ও ভালোবাসায় ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। সেইসঙ্গে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসুক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সামাজিক সুবিচার।’
সত্যিই, প্রবাসে থেকেও ঈদের এমন আনন্দময় পরিবেশ শুধু হৃদয়েই নয়, গেঁথে থাকে স্মৃতির গভীরে। এই উৎসবের উষ্ণতা, মানুষের ভালোবাসা আর মুহূর্তের আবেগ - সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে প্রবাসজীবনের সবচেয়ে মধুর স্মৃতিগুলোর একটি। সবাইকে ঈদ মোবারক।
অমিয়/