চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাতা, গুণী অভিনেতা, গীতিকার সোহেল আরমান আসছে ঈদে বিটিভিতে প্রচারের জন্য করেছেন ‘জলপরী’ নামের একটি টেলিফিল্ম। এরই মধ্যে টেলিফিল্মটির দৃশ্য ধারণের কাজ শেষ হয়েছে।
সোহেল আরমান জানান, জলপরী মূলত একটি দ্বীপের নাম। এই জলপরী দ্বীপেই বাবার অপরাধের কারণে তার মেয়েকে বেঁধে রাখা হয়। বেঁধে রাখা হয় এ কারণেই যে, কোনো একদিন ঝড় আসবে, সেই কন্যাকে সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। তবেই জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়বে। এভাবেই এগিয়ে যায় গল্প।
সোহেল আরমানের ভাষ্য মতে, জলপরী মূলত রূপকথার গল্পের টেলিফিল্ম। সোহেল আরমানের নির্দেশনায় এই টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন জাহের আলভী, তিথি, সমু চৌধুরী, সূচনা, সানজিদা কানিজ, মনির, মায়া ইসলামসহ অনেকে।
সোহেল আরমান বলেন, ‘অনেকদিন পর বিটিভির জন্য একটি টেলিফিল্মের নির্দেশনা দিলাম। যথারীতি গল্পের প্রয়োজনে আমাদের ঢাকার বাইরে শুটিং করতে হয়েছে। জাহের আলভী তার চরিত্রে এক কথায় অসাধারণ অভিনয় করেছেন। আমি ভীষণ মুগ্ধ তার অভিনয়ে। এ ছাড়া আরও যারা আছেন তারা প্রত্যেকেই যার যার চরিত্রে চমৎকার অভিনয় করেছেন। আমি খুব আশাবাদী জলপরী টেলিফিল্মটি নিয়ে। যেহেতু আমি নিজেই জলপরীর রচয়িতা, তাই নির্দেশনাটা আমি আমার মনের মতো করেই দিতে পেরেছি। যে কারণে জলপরী নিয়ে আশাবাদী আমি।’
সোহেল আরমান সর্বশেষ ‘নয়ন পাখি’ ও ‘রূপ না মন’ নামক দুটি নাটক নির্মাণ করেছেন। ‘নয়ন পাখি’তে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা ও সামিরা খান মাহি। ‘রূপ না মন’তে অভিনয় করেছেন আবু হুরায়রা তানভীর ও রোদসী সিদ্দিকা। একজন নাট্যকার হিসেবে ১৯৯২ সালে সোহেল আরমানের পথচলা শুরু। সর্বকনিষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্মস ক্যাডারদের নিয়ে ‘সবুজের হলুদ ব্যাধি’ নাটক রচনা করেন। প্রথম নাটকেই বাজিমাত করেন সোহেল আরমান।
এরপর পড়াশোনায় ব্যস্ত হলেও ১৯৯৪ সালে প্যাকেজের পঞ্চম নাটক হিসেবে প্রথম নির্মাণ করেন ‘বিবর্ণ প্রজাপতি’ নাটকটি। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনার পাশাপাশি বিপাশা হায়াত ও আফসানা মিমির সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। একই বছরে আমজাদ হোসেনের রচনায় ও ফখরুল আবেদীন দুলালের প্রযোজনায় ‘জন্মভূমি’ নাটকে অভিনয় করে আলোড়ন ফেলেন সোহেল আরমান। এই নাটকের আগুন চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের কথা এখনো দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘আগুন লাগা সন্ধ্যা’, ‘তিন পুরুষ’, ‘দুঃখ তোমায় দিলাম ছুটি’, ‘অতল প্রহর’, ‘নগরে অনাগরিক’। তার নির্দেশিত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘তিন পুরুষ’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘শূন্যে বসবাস’, ‘কেউ কাছে কেউ দূরে’, ‘বায়োস্কোপ’, ‘এক ধ্রুবতারা’, ‘হৃদয়ে গণ্ডগোল’ ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মিউজিক ভিডিওর প্রবক্তা সোহেল আরমান। ১৯৯৪ সালে হানিফ সংকেতের আয়োজনে হোম ভিডিও প্রতিযোগিতায় বন্ধু জাহাঙ্গীর হায়দার দীপনের গাওয়া ‘হৃদয়ের জলছবি’ গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। সোহেল আরমানের নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘এই তো প্রেম’।
/শাকিল