জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সংগ্রামী পথ পেরিয়ে বর্তমানে সুসময় পার করছেন তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে যতটা আলোচিত তিনি- ব্যক্তিজীবনে নানা ঘটনা ঘটিয়ে তার চেয়েও বেশি সমালোচিত হয়েছেন এই নায়ক। দুই বিয়ে-ডিভোর্স, প্রেম, অস্ট্রেলিয়ায় সহপ্রযোজককে ধর্ষণকাণ্ড, মামলা-হামলা সবকিছু মিলিয়ে সমালোচনার পাল্লাটা যথেষ্ট ভারী তার ব্যক্তিজীবনে।
পাশাপাশি গত ১৬ বছর স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন নেতার সংস্পর্শে থেকে বাগিয়ে নিয়েছেন নানা সুবিধা। নির্বাচনে আওয়ামী সরকারের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার করে চেয়েছেন নৌকার ভোটও। জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নীরব ভূমিকা পালন করেছেন শাকিব। আন্দোলনের সময় ফেসবুকে দিয়েছেন কৌশলী পোস্ট।
সিনেমায় শাকিব খানকে অনেকেই দুধের মাছি বলেও আখ্যা দিয়ে থাকেন। কারণ, ক্ষমতার স্রোতে সব সময়ই ভাসতে তিনি নাকি খুব পছন্দ করেন। যখন যাকে প্রয়োজন কাছে টানেন, আবার প্রয়োজন ফুরালেই ছুড়ে ফেলে দেন। বর্তমানে দেশের বাইরে শুটিং করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন শাকিব খান। চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেকেই বলেছেন এটা নাকি টাকা পাচারের নব্য কৌশল তার। যদিও বিষয়টি নিয়ে এনবিআর এখনো তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা সংস্থাও আছে শাকিব খানের। এই সংস্থা থেকে সিনেমা নির্মিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে আওয়ামী সরকারের কাছ থেকে প্রযোজক হিসেবে ‘মায়া’ নামের সিনেমার জন্য ৬৫ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছিলেন শাকিব খান। সিনেমাটি পরিচালনা করার কথা ছিল হিমেল আশরাফের।
যদিও পরে পরিচালক হিমেল আশরাফকে বাদ দিয়েছেন শাকিব। এতে নায়িকা হিসেবে নাম ছিল পূজা চেরির। এই নায়িকার সঙ্গে শাকিবের প্রেমের গুঞ্জন তৈরি হওয়ায় তাকেও সিনেমা থেকে বাদ দেওয়ার খবর রটেছিল সে সময়।
সিনেমা নির্মাণের জন্য অনুদানের প্রথম কিস্তির ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক সরকারের কাছ থেকে তুলে নেন শাকিব খান। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুদানের চেক পাওয়ার নয় মাসের মধ্যে সিনেমা নির্মাণ করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা। সিনেমা নির্মাণে দেরি হলে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে আবেদন করে সময় বাড়িয়ে নেওয়া যায়।
এক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও শাকিব খান সিনেমাটি নির্মাণ করেননি এবং সময় বাড়ানোর জন্যও কোনো আবেদন করেননি। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ক্ষমতাবানের সহযোগিতায় এসব নিয়মের তোয়াক্কা করেননি এই নায়ক। গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরও সরকারি অনুদানের ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা শাকিবের পেটেই রয়ে গেছে।
এ সম্পর্কে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (চলচ্চিত্র-২) মোছা. শারমিন আখতার ‘খবরের কাগজ’কে বলেন, ‘প্রযোজক হিসেবে শাকিব খান রানা সরকারি অনুদানের প্রথম কিস্তির ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক গ্রহণের দীর্ঘদিন পরও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেননি। কেন নির্মাণ করেননি এ বিষয়ে তিনি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেননি।
তাই আমরা গত ১২ মে ২০২৫ তাকে একটি চিঠি দিয়েছি। এখনো চিঠির জবাব বা শাকিব খান রানার পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী শাকিব খান যদি সিনেমা নির্মাণ না করেন অথবা টাকা ফেরত না দেন, তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ সম্পর্কে জানতে শাকিব খানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়া হলেও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাক্টিভ থাকার পরও সাড়া দেননি শাকিব খান।
ওই বছরে ১৯টি সিনেমা অনুদান পেয়েছিল। এর মধ্যে অনেকগুলো মুক্তি পেয়েছে এবং বেশকিছু সিনেমার শুটিং শেষ হয়েছে। একটি জমা আছে সেন্সর বোর্ডে। একই বছর ১৯ সিনেমার মধ্যে শাকিবের সাবেক স্ত্রী নায়িকা অপু বিশ্বাসও ‘লাল শাড়ি’ নামে একটি সিনেমার জন্য অনুদান পেয়েছিলেন। সেটি নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণ ও মুক্তি দিয়েছেন অপু বিশ্বাস।
গত ঈদে শাকিব খান অভিনীত দুইটি সিনেমা মুক্তি পায়। এর মধ্যে ‘বরবাদ’ সিনেমাটি আলোচনায় এলেও ‘অন্তরাত্মা’ ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে। শাকিব খানও মজেছিলেন ‘বরবাদ’ ছবিটি নিয়ে। ‘অন্তরাত্মা’ সিনেমা নিয়ে কোনো ধরনের প্রচার করেননি এই আলোচিত-সমালোচিত নায়ক।
বর্তমান শাকিব খান রায়হান রাফি পরিচালিত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার কাজ ও প্রচার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এতে শাকিবের বিপরীতে দেখা যাবে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান ও ছোট পর্দার তারকা সাবিলা নূরকে। এই সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে সাবিলা নূরের অভিষেক হতে যাচ্ছে। আগামী ঈদে সিনেমাটি মুক্তি পাবে।
/এমএস